সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দিঘার জগন্নাথ মন্দির যাত্রার পর থেকেই দলে 'ব্রাত্য'। দলীয় কর্মসূচি-অনুষ্ঠানেও ডাকা পেতেন না। এতটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন যে, তাঁর দলবদল নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছিল ঘরে-বাইরে। যদিও শেষ পর্যন্ত সে রকম কিছু ঘটেনি। কিন্তু বদলায়নি পরিস্থিতিও। তবে বছর শেষে 'ভাগ্য' বদলাল! কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর থেকেই বিজেপির অন্দরে আবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে আবার প্রাক্তন রাজ্য সভাপতিকে পুরোদমে মাঠে নামাতে প্রস্তুত পদ্মশিবির।
বিজেপি সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং দিলীপের যৌথ জনসভার পরিকল্পনা হয়ে গিয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে, চলতি মাসেই উত্তরবঙ্গে বিজেপির জনসভায় দেখা যেতে পারে দু'জনকে। বর্তমান এবং প্রাক্তনের এই মেলবন্ধনে স্বাভাবিক ভাবেই উজ্জীবিত দিলীপের অনুগামীরা। দলীয় সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গে জনসভার আগে আগামী ৬ জানুয়ারি নদিয়ার রানাঘাট এবং ৭ জানুয়ারি ব্যারাকপুরে জনসভা করতে চলেছে বিজেপি। সেই সভায় শমীকের সঙ্গে থাকতে পারেন দিলীপও। করতে পারেন বক্তৃতাও। দক্ষিণবঙ্গে এই দুই সভার পর উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে সভার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পদ্মশিবির। আগামী ৮, ৯ এবং ১০ জানুয়ারি ওই তিন জেলায় তিন সভা হতে পারে। সেখানেও একসঙ্গে দেখা যেতে পারে শমীক-দিলীপকে।
প্রায় আট মাস ধরে দলে কোণঠাসা হয়ে থাকার পর শাহের বৈঠকে দিলীপ ডাক পাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই বিজেপির অন্দরে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছিল, তা হলে কি আবার রাজ্য বিজেপিতে দিলীপের প্রত্যাবর্তন ঘটতে চলেছে? বিজেপির কেউ কেউ অবশ্য মনে করছেন, এখনই সেই অর্থে দিলীপের 'প্রত্যাবর্তন' ঘটবে। গোটা প্রক্রিয়াই চলবে ধীরে ধীরে। প্রাথমিক কাজ হল, তাঁকে আবার মাঠে নামানো। তারই শুরুটা হতে চলেছে শমীকের সঙ্গে যৌথ সভা দিয়ে।
তবে কারণ যা-ই হোক না কেন, দিলীপের 'সক্রিয়তা'য় খুশি তাঁর অনুগামী। তাঁদের কেউ কেউ জানাচ্ছেন, শাহ ফিরে যাওয়ার পর থেকেই দিলীপকে ঘিরে দলে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। ইকো পার্কে প্রাতর্ভ্রমণে বেরোলে আবার তাঁকে ঘিরে লোক জড়ো হচ্ছে। যা গত কয়েক মাসে অনেকটাই কমে গিয়েছিল। অনুগামীরাই জানাচ্ছেন, দিলীপ চ-চক্রে আরও সক্রিয় হয়েছেন। লোকজনের আনাগোনাও বেড়েছে তাঁর নিউটাউনের বাসভবনে। বেড়েছে মোবাইলে ফোন আর মেসেজ আসাও। গত কয়েক মাসে দিলীপকে এই ব্যস্ততার মধ্যে থাকতে দেখা যায়নি বলেই জানাচ্ছেন তাঁর ঘনিষ্ঠেরা। তাঁদের অনুমান, আপাতত যে ঠাসা দলীয় কর্মসূচি তৈরি হয়ে রয়েছে, তাতে এই ব্যস্ততা আরও বাড়বে আগামী দিনে। শুধু জনসভাই নয়, দিলীপকে ঘরোয়া বৈঠক করতেও বলা হয়েছে। বছরের শুরুতে স্কুলে স্কুলে পরীক্ষা থাকে। সেই সময় মাইক বাজিয়ে প্রকাশ্যে সভা করা যায় না। সেই সময় দিলীপকে ঘরোয়া বৈঠক করতে বলা হয়েছে।
বিজেপি সূত্রে খবর, শুধু দিলীপকে (Dilip Ghosh) সক্রিয় করা নয়। আসলে অনুগামীরা চাইছেন, তৃণমূলকে ঠেকাতে শমীক, শুভেন্দু, দিলীপ এবং সুকান্ত মজুমদার, এই 'চারমূর্তি'ই মাঠে নামুন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে তেমনই রিপোর্ট গিয়েছে। তাই দিলীপকে সক্রিয় করে তুলেছেন শাহ। সেই মতোই বঙ্গজয়ের নীলনকশা তৈরি করা হচ্ছে। যদিও এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে দলের একাংশ সন্দিহান, কারণ দিলীপের সঙ্গে শুভেন্দুর 'অমসৃণ' সম্পর্কের কথা বিজেপিতে সর্বজনবিদিত। শুধু তা-ই নয়, ওই অংশের মত, দিলীপকে শাহ 'সক্রিয়' করেছেন শুধুমাত্র শুভেন্দুর 'একাধিপত্য' ঠেকাতে। যদিও একে 'স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা' হিসাবেই দেখতে চান বিজেপির অনেকে।
