প্রয়াত হলেন প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা পিডিএসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সমীর পুততুণ্ড। রবিবার রাত ১১টা ১৫ নাগাদ মুকুন্দপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। COPD-র সমস্যা নিয়ে সমীরবাবু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন দিন সাতেক আগে। দু'দিন আগে তাঁর মারাত্মক হার্ট অ্যাটাক হয়। শেষমেশ রবিবার রাতে জীবনদীপ নিভে গেল। রেখে গেলেন স্ত্রী অনুরাধা পুততুণ্ডকে।
সমীরবাবুর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, 'একদা বাম আন্দোলনের শক্তিশালী নেতা সমীর পুততুণ্ডকে হারিয়ে আমি খুবই মর্মাহত বোধ করছি। মনে হচ্ছে, আমি নিজের কাউকে হারালাম। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনে একসাথে কাজ করেছি। অনুরাধাদিকে সান্ত্বনা জানানোর ভাষা নেই, তবুও সর্বদা পাশে আছি।' রাতেই প্রয়াত পিডিএস নেতার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ জানান পূর্ণেন্দু বসু, দোলা সেন-সহ নেতারা।
একদা সিপিএমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা ছিলেন সমীর পুততুণ্ড। ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদকও। কিন্তু দলের সঙ্গে মতানৈক্যের কারণে সিপিএম ছেড়ে আর এক দলীয় সতীর্থ সইফুদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে ২০০১ সালে পার্টি অফ ডেমোক্রেটিক সোশালিজম (পিডিএস) গঠন করেন। বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়েও সুসম্পর্ক ছিল দক্ষিণপন্থীদের সঙ্গেও। সিঙ্গুর আন্দোলন-সহ কৃষি জমি রক্ষা কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব হিসেবে পথে নেমে আন্দোলন করেছেন, সক্রিয় ভূমিকা নেন। এছাড়াও দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের অন্যতম অভিভাবক ছিলেন সমীরবাবু। যুক্ত ছিলেন অন্য নানা নাগরিক আন্দোলনেও। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সিপিএমের কট্টর সমালোচনা করে গিয়েছেন।
