জাতীয় সড়কের পাশে থাকা একটি হোটেলের ঘর থেকে এক স্কুল শিক্ষিকার দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে দানা বেঁধেছে রহস্য। মৃত ওই মহিলার নাম শর্বাণী ভূঁইয়া। পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পনা করে হোটেলে ডেকে খুন করা হয়েছে তাঁকে। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তে নেমেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক থাকার পুলিশ। আর সেই সূত্রেই ওই মহিলার প্রেমিকের বাড়িতে পৌঁছান তদন্তকারীরা। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই আতঙ্কিত হয়ে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই শিক্ষিকার প্রেমিক। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, সম্পর্কে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের জেরে ওই মহিলাকে হোটেলের ঘরে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে তাঁর প্রেমিক। যদিও এই বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে অভিযুক্ত সুস্থ হলেই নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভাঙচুর চালানো হয় হোটেলেও। এলাকার মানুষের অভিযোগ, ওই হোটেলে বিভিন্ন অসামাজিক কাজকর্ম চালানো হয়। যার জেরেই এই ঘটনা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সরস্বতী পুজোর দিন বাড়ি থেকে স্কুলে যাচ্ছে বলে বেরিয়ে যান শর্বাণী ভূঁইয়া। এরপর রাত পর্যন্ত বাবা অভয় ভুঁইয়ার সঙ্গে ফোনে কথা হলেও রাত ১০ টার পর থেকে রহস্যজনকভাবে ফোন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে আর মেয়ের খোঁজ পাননি অভয়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরেও মেয়ের খোঁজ পাননি। এরপর রবিবার মেয়ের মৃত্যুর খবর পান অভয় ভুঁইয়া। তাঁর অভিযোগ, মেয়েকে পরিকল্পিত ভাবে হোটেলে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন অভয় ভুঁইয়া।
এদিকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুনকুমার দে জানিয়েছেন, তমলুক থানার কাছে খবর আসে লাবণ্য হোটেলের একটি ঘর দীর্ঘক্ষণ ধরে বন্ধ রয়েছে। বারবার ডেকেও কারোর সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপরেই ঘরের দরজা ভেঙে মহিলার দেহ উদ্ধার করা হয়।''
পুলিশকর্তার কথায়, "আমরা হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ওই অজ্ঞাতপরিচয় মৃতের নাম জানতে পারি। এরপরেই পাঁশকুড়ায় এক আত্মীয় বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া অভিযুক্ত যুবকের খোঁজেও তল্লাশি শুরু হয়। সেখানেই গ্রেপ্তারি এড়াতে বিষ খান তিনি।'' ইতিমধ্যে ঘটনার দায় অভিযুক্ত স্বীকারও করে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুনকুমার দে। তাঁর কথায়, ''সম্পর্কে টানাপোড়ন, সন্দেহের বশেই এই ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।''
