২০০৭ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ভারতের আলোচনা চলছে। অবশেষে সেই চুক্তি বাস্তবায়িত হতে চলেছে। সব ঠিকঠাক থাকলে মঙ্গলবারই ‘মাদার অফ অল ডিলস’ নিয়ে চূড়ান্ত বোঝাপড়া ঘোষণা করা হতে পারে। ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির ফলে ভারতের বাজারে সস্তা হতে পার বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ বেনজ-এর মতো বিদেশি গাড়ি এবং ওয়াইন।
তিনদিনের ভারত সফরে রবিবার দিল্লিতে পা রেখেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান।সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসাবেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। উরসুলা ছাড়াও প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্তোনিও কোস্টা। ইইউ প্রধান তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি সম্মানিত। সফল ভারত বিশ্বকে স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ এবং সুরক্ষিত করে তুলবে। আমরা চাই সকলেই উপকৃত হোক।’ সূত্রের খবর, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন উরসুলা। তারপরই মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত বোঝাপড়া ঘোষণা করা হতে পারে।
তিনদিনের ভারত সফরে রবিবার দিল্লিতে পা রেখেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান।সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসাবেও উপস্থিত ছিলেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে মোট ২৭টি দেশ রয়েছে। ২৭টি দেশের এই জোটের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতায় ঠিক কোন কোন বিষয় রয়েছে, তা এখনও সরকারিভাবে জানানো হয়নি। তবে সূত্রের খবর, যে গাড়িগুলির আমদানিমূল্য ১৫ হাজার ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় ১৬ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা)-র বেশি, সেই সমস্ত গাড়ি গুলির উপর শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব দিয়েছে নয়াদিল্লি। অর্থাৎ ভারতের এই প্রস্তাবকে যদি মান্যতা দেওয়া হয়, তাহলে দেশের বাজারে সস্তা হবে বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ বেনজ-এর মতো ইউরোপীয় সংস্থার গাড়িগুলি। উল্লেখ্য, বর্তমানে ইউরোপ থেকে আমদানিকৃত গাড়ির উপর ১১০ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। সূত্রের খবর, চুক্তির পর এই শুল্ক কমে ৪০ শতাংশের আশপাশে নেমে আসতে পারে। শুধু তা-ই নয়, ভারত-ইউরোপ বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন হলে বিদেশি ওয়াইনের উপরও শুল্ক কমানো হবে। ফলে দেশের বাজারে সস্তা হবে বিদেশি ওয়াইন।
বর্তমানে ইউরোপ থেকে আমদানিকৃত গাড়ির উপর ১১০ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। সূত্রের খবর, চুক্তির পর এই শুল্ক কমে ৪০ শতাংশের আশপাশে নেমে আসতে পারে। শুধু তা-ই নয়, ভারত-ইউরোপ বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন হলে বিদেশি ওয়াইনের উপরও শুল্ক কমানো হবে। ফলে দেশের বাজারে সস্তা হবে বিদেশি ওয়াইন।
গত মঙ্গলবার সুইৎজরল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে এক বক্তৃতায় ইইউ প্রধান উরসুলা ভন বলেন, "ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সাক্ষরের একেবারে দোরগোড়ায়। যদিও কিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে। এই চুক্তি সকল চুক্তির জননী।” তিনি আরও বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের এই চুক্তি ২ বিলিয়ন মানুষের এক বিরাট বাজার তৈরি করবে। যা হয়ে উঠবে বিশ্বব্যাপী জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ।” সূত্রের দাবি, এই চুক্তির ২৪টি অধ্যায়ের মধ্যে ২০টি অধ্যায় নিয়ে ইতিমধ্যেই দু’পক্ষ সহমত হয়েছে। সম্প্রতি ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তরে গিয়েছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও। তবে এখনও চুক্তির সমস্ত শর্তাবলি চূড়ান্ত হয়নি। তাই শেষ মুহূর্তে বদলও হতে পারে অনেক কিছু।
কৃষিক্ষেত্র সংক্রান্ত বিষয়গুলি এই চুক্তিতে থাকছে না বলেই জানা গিয়েছে। তবে উৎপাদন, প্রযুক্তি, শক্তিসম্পদ, ওষুধের মতো ক্ষেত্রগুলিকে চুক্তির আওতায় আনা হতে পারে। উল্লেখ্য, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না হওয়া এবং তারপর বিরাট শুল্কবাণ আছড়ে পড়া-দুইয়ে মিলে বেশ ধাক্কা খেয়েছে ভারতের বাজার। সেই লোকসান সামাল দিতে বিকল্প বাজারের সন্ধান করছে ভারত। ইউরোপের দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যের মাধ্যমে লোকসান কমানো যেতে পারে বলেই অনুমান করছে কেন্দ্র।
কৃষিক্ষেত্র সংক্রান্ত বিষয়গুলি এই চুক্তিতে থাকছে না বলেই জানা গিয়েছে। তবে উৎপাদন, প্রযুক্তি, শক্তিসম্পদ, ওষুধের মতো ক্ষেত্রগুলিকে চুক্তির আওতায় আনা হতে পারে। উল্লেখ্য, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না হওয়া এবং তারপর বিরাট শুল্কবাণ আছড়ে পড়া-দুইয়ে মিলে বেশ ধাক্কা খেয়েছে ভারতের বাজার। সেই লোকসান সামাল দিতে বিকল্প বাজারের সন্ধান করছে ভারত।
তবে এই চুক্তির কয়েকটি প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল 'কার্বন ট্যাক্স'। ইউরোপের নতুন 'কার্বন বর্ডার ট্যাক্স' নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত। এটি কার্যকর হলে ভারতের ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম রপ্তানি ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ মহার্ঘ্য হতে পারে। তাই এই ক্ষেত্রে ছাড়ের জন্য আলোচনা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। এছাড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি সম্পন্ন হলে অসম প্রতিযোগীতার মুখে পড়তে পারে ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। ফলে সেগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রভুত সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। তবে চুক্তিটি ভারতের জন্য একটি 'কৌশলগত বিমা' হিসাবে কাজ করবে। এটি আমেরিকা-চিনের উপর নির্ভরতা কমাবে এবং ভারতের সাপ্লাই চেইনকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি, এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও সহযোগিতার নতুন পথ প্রশস্ত হবে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
