অর্ণব দাস, বারাকপুর: দিনেদুপুরে শুটআউট নৈহাটিতে! আততায়ীদের গুলিতে নিহত হলেন ব্যবসায়ী তথা তৃণমূল কর্মী। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, নৈহাটির গৌরীপুর এলাকায় আচমকা গুলি চলে। মাথায় গুলি লাগে সন্তোষ যাদব নামে এক ব্যক্তির। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত সন্তোষ যাদব স্থানীয় ব্যবসায়ী বলে পরিচিত। আবার স্থানীয় বিধায়কের দাবি, নিহত ব্যক্তি এলাকার তৃণমূল কর্মী।

নৈহাটিতে নিহত তৃণমূল কর্মী সন্তোষ যাদব। নিজস্ব ছবি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, শুক্রবার দুপুর নাগাদ গৌরীপুর এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন সন্তোষ যাদব নামে ওই ব্যবসায়ী। আচমকা কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর উপর হামলা চালায়। প্রথমে একটি গুলি চালানো হয় তাঁকে লক্ষ্য করে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ করেন এবং দুষ্কৃতীর হাত থেকে রিভলভারটি কেড়ে নেন। এরপর পরপর ৪ রাউন্ড গুলি চালায় বাকি দুষ্কৃতীরা। একটি গুলি লাগে সন্তোষ যাদবের মাথায়। তাঁকে তড়িঘড়ি নৈহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। দিনেদুপুরে এমন ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। খবর পেয়ে তদন্তে নেমেছে নৈহাটি থানার পুলিশ।
ছেলের এহেন পরিণতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সন্তোষ যাদবের মা। হাসপাতালে ছেলের মৃতদেহ দেখে তিনি কাঁদতে কাঁদতে রাজেশ নামে একজনকে খুনি হিসেবে দায়ী করেছেন। জানান, রাজেশ ছেলের শত্রু ছিল। সে-ই ছেলের উপর এভাবে হামলা চালিয়ে তাঁকে খুন করেছে। তাঁর বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ রাজেশের খোঁজ করছে।
নিহত সন্তোষ ষাদবের মা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। নিজস্ব ছবি।
এদিকে বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন প্রাক্তন সাংসদ তথা ভাটপাড়ার দাপুটে নেতা অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্য, ''অর্জুন সিং দেখতে পাচ্ছে, ভাটপাড়া-নৈহাটি থেকেও ওর পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে, তাই এমনটা ঘটিয়েছে। ও তো '২৬ সালেও জিতবে না। ও দাঁড়াক কিংবা ওর ছেলে, এসব সমাজবিরোধীদের কেউ ভোট দেবে না আর।'' বিজেপির পালটা দাবি, নিহত সন্তোষ ও হামলাকারী হিসেবে যার নাম উঠছে, সেই রাজেশ তৃণমূল কর্মী। এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেরই ফল। তাতে পার্থর জবাব, ''রাজেশ কোন দল করে, গৌরীপুর এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখুন।''