এসআইআরের পর বিচারাধীন তালিকায় ছিলেন কালনার ৮৩ বছরের আহমদ আলি শেখ। তাঁর পাঁচ ছেলের নামও বিচারাধীন ছিল। আশায় আশায় ছিলেন, সকলের নামই উঠবে অতিরিক্ত ভোটার তালিকায়। কিন্তু বেশ কয়েকটি সাপ্লিমেন্টারি তালিকাতেও নিজের নাম দেখতে না পেয়ে কিছুদিন ধরে আশঙ্কায় ভুগছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় দেখতে পান, তাঁর নাম বাদ চলে গিয়েছে অতিরিক্ত তালিকা থেকে। রবিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় আহমদ আলি শেখের। পরিবারের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ধাক্কা সামলাতে পারেননি। ততেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
রাজ্যে এসআইআরের পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, আহমদ আলি শেখের নাম বিচারাধীন। শুনানিতে সমস্ত তথ্য পেশ করেছিলেন তিনি। এরপর ভোটার তালিকায় নাম ওঠা নিয়ে প্রায় কোনও সংশয়ই ছিল না। কিন্তু একের পর এক অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতে থাকে। অথচ নিজের নাম দেখতে পাননি বছর তিরাশির বৃদ্ধ। তাঁর পাঁচ ছেলের নামও ছিল বিচারাধীনের তালিকায়। দেখা যায়, তাঁদের মধ্যে মাত্র একজনের নাম উঠেছে ভোটার তালিকায়। তা নিয়ে চাপা টেনশন ছিল আহমদ আলি শেখের। এরপর শনিবার সন্ধ্যায় তিনি দেখেন, সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নাম 'ডিলিটেড'। এই ধাক্কা আর সামলাতে পারেননি বলে দাবি তাঁর পরিবারের। এরপর রবিবারই মৃত্যু হয় বৃদ্ধের।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ''উনি ভেবেছিলেন যে ভোটার তালিকায় নাম থাকবে। বারবার সেকথাই বলতেন। কিন্তু কয়েকটা অতিরিক্তি তালিকায় নিজের নাম না দেখে হতাশ হয়ে পড়েন। শনিবার নিজের নাম না দেখে উনি একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন। সারারাত খাওয়াদাওয়া করেননি। রবিবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।'' মৃতের ছেলে আজিজ আলি শেখ জানান, রবিবার আনুমানিক বেলা ১টা নাগাদ বাবার মৃত্যু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম 'ডিলিট' হয়ে যাওয়ার আতঙ্কতেই এমনটা ঘটেছে। আর যাতে কারও এমন না হয়, যেন সকলের নাম ওঠে, সেই আশা করছেন তিনি।
