পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, তাতে ‘অযথা তাড়াহুড়ো’ করা হচ্ছে। তাতে সমগ্র গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই সমস্যায় পড়তে পারে। এমনই মতপ্রকাশ করেছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অর্মত্য সেন। সেই বক্তব্য ঘিরে আক্রমণে নেমেছে বিজেপি। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অর্মত্য সেনকে 'ন্যক্কারজনজক'ভাবে আক্রমণ করেছেন। সেই বক্তব্যের এবার তীব্র বিরোধিতা করল তৃণমূল কংগ্রেস। শুভেন্দুকে এক্স হ্যান্ডেলে বার্তা দিয়ে একহাত নিয়েছে রাজ্যের শাসক দল।
কয়েক দিন আগেই রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়ায় নোটিস পেয়েছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ তথা ভারতরত্ন অমর্ত্য সেন। তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও হয়েছিল বিস্তর। যদিও বিদেশে থাকায় সশরীরে শুনানিতে হাজির থাকতে পারেননি ৯২ বছর বয়সি প্রবীণ অধ্যাপক। বোলপুরে তাঁর আত্মীয় শুনানিতে অর্মত্য সেনের হয়ে উপস্থিত ছিলেন। দিন কয়েক আগে বস্টন থেকে সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এসআইআর নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন অমর্ত্য সেন।
অমর্ত্য বলেন, “খুব তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করা হচ্ছে। মানুষকে নিজেকে ভোটার প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার যথেষ্ট সময় দেওয়া হচ্ছে না। এমনটা হলে তা ভোটারদের প্রতি অন্যায় হবে এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতিও।”
অমর্ত্য বলেন, “সতর্ক হয়ে যত্ন সহকারে সময় নিয়ে ভোটার তালিকার সংশোধন ভাল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হয়ে উঠতে পারে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে না।” তিনি বলেন, “খুব তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করা হচ্ছে। মানুষকে নিজেকে ভোটার প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার যথেষ্ট সময় দেওয়া হচ্ছে না। এমনটা হলে তা ভোটারদের প্রতি অন্যায় হবে এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতিও।” আর এরপরেই কার্যত 'তেলেবেগুনে জ্বলে' উঠেছে বঙ্গ বিজেপি। ফের যারপরনাই অমর্ত্য সেনের বিরোধিতায় নেমে পড়েছে গেরুয়া শিবির।
সম্প্রতি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে একটা শিক্ষিত যুবককে উনি কর্মসংস্থান করে দিয়েছেন, কোনও গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এমন কোনও উদাহরণ নেই। বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, বাংলার মানুষের প্রতি যার কোনও কনট্রিবিউশন নেই, তাঁদের এসব কথা উত্তর দেওয়া হবে না।" শুভেন্দুর সেই বক্তব্য নিয়ে এবার রীতিমতো প্রতিবাদে সরব তৃণমূল কংগ্রেস। এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূলের তরফে পালটা বার্তা দেওয়া হয়েছে। নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করা হয়েছে। যখন একজন ব্যক্তি, যার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার অপব্যবহার, বিকৃতি এবং অপমানের সমার্থক, তিনি বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত অর্থনীতিবিদকে নিয়ে বক্তব্য রাখার চেষ্টা করেন, তখন সেটি স্বাভাবিকভাবেই হাস্যরসে পরিণত হয়।
শুভেন্দুর কথায়, "বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, বাংলার মানুষের প্রতি যার কোনও কনট্রিবিউশন নেই, তাঁদের এসব কথা উত্তর দেওয়া হবে না।"
দারিদ্র, দুর্ভিক্ষ, কল্যাণ এবং মানব উন্নয়ন নিয়ে অমর্ত্য সেনের কাজকর্ম বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। এদিকে বিরোধী দলনেতা সমাজে কোনও অবদান না রেখেই নিজেকে আলাদা করছেন। অর্থনীতি বুঝতে অক্ষম মন স্বাভাবিকভাবেই অর্থনীতিবিদদের আক্রমণ করে। সেই খোঁচাও তৃণমূলের তরফে দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, এসআইআর শুনানিতে অর্মত্য সেনের নোটিস পাওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এসআইআর প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেনের মত, “গ্রামীণ ভারতে জন্মানো অন্য বহু নাগরিকের মতোই আমারও বার্থ সার্টিফিকেট নেই। তাই আমার হয়ে আমার নাগরিকত্বের প্রমাণ দাখিল করার জন্য একাধিক অন্য নথি জমা দেওয়া প্রয়োজন। আমি হয়তো পেরেছি। কিন্তু অন্যদের জন্য চিন্তা হচ্ছে। যাঁদের আমার মতো তেমন বিশ্বস্ত বন্ধু নেই। আমার বন্ধুরা আমাকে অমননীয় নির্বাচন কমিশনের শক্ত দরজা পেরিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল।”
