গত ২৯ জুলাই দেউচা এলাকায় টুলুর ভগ্নিপতি মিনার মণ্ডলের বাড়িতে অভিযান চালায় জেলা পুলিশ। প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং প্রায় ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরই মিনার মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে পেশ করলে আট দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শুক্রবার মামলাটি ফের আদালতে ওঠে। শুনানির সময় মিনারের আইনজীবীরা তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
তাঁদের দাবি, পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন মিনারকে চাপ সৃষ্টি করে একাধিক নথি এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁর কিছু বক্তব্যও জোর করে ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে বলে আদালতে অভিযোগ জানানো হয়। মিনারের আইনজীবী রাফেউল হক বলেন, "তদন্তকারী সংস্থা মিনারের সাহায্যে মহম্মদবাজারের একটি পার্কিং থেকে প্রচুর নথিপত্র উদ্ধারের দাবি করলেও, সেগুলির প্রকৃতি বা মামলার সঙ্গে সম্পর্ক এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।" তাঁর আরও দাবি, যে ধারাগুলিতে মামলা রুজু করা হয়েছে, তার কয়েকটির প্রয়োগ এই ঘটনায় আইনগতভাবে প্রশ্নের মুখে পড়ে। আদালতে মিনার মণ্ডল নিজেও অভিযোগ করেন, পুলিশি হেফাজতে তাঁকে রাতের পর রাত ঘুমাতে দেওয়া হয়নি এবং কোনও ব্যাখ্যা না দিয়েই বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারি আইনজীবীর তরফে আদালতে এই অভিযোগগুলির পরিপ্রেক্ষিতে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এদিকে, দেউচার বিপুল নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের মামলায় তদন্তের পরিধি যত এগোচ্ছে, ততই নতুন আইনি মোড় সামনে আসছে। এবার ওই মামলায় টুলু মণ্ডলের নাম যুক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়েই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তাঁর দাদা মসির মণ্ডল। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ৫ মে টুলু মণ্ডল তাঁর দাদাকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি প্রদান করেছিলেন। সেই ক্ষমতাবলেই সম্প্রতি হাই কোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় কী তথ্য বা প্রমাণের ভিত্তিতে টুলু মণ্ডলের নাম তদন্তে আনা হচ্ছে, তা তদন্তকারী সংস্থাকে স্পষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে এই মামলায় কোনও ধরনের কড়া পদক্ষেপ বা জোরদার তদন্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আগে আদালতের সুরক্ষা দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে বলে আদালত সূত্রে খবর।
