বাংলাতেও এবার নিপা ভাইরাসের (Nipah Virus) সংক্রমণ! আক্রান্ত বারাসতের এক বেসরকারি হাসপাতালের দুই স্বাস্থ্যকর্মী। কল্যাণীর এইমস হাসপাতালে থেকে ইতিমধ্যেই আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে বলেই খরব। এরপরেই বারাসতের যশোররোড সংলগ্ন রথতলা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে আইসোলেশন অবস্থায় ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিৎসা চলছে।
জানা যাচ্ছে, আক্রান্ত দু'জনেই পেশায় নার্স। একজনের বাড়ি বর্ধমানে। অন্যজন পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। দুজনেরই আনুমানিক ২৫ বছর বয়স বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। দু'জনেই চাকরি করেন বারাসতের ওই বেসরকারি হাসপতালে। কয়েক দিন আগে বর্ধমান গিয়েছিলেন আক্রান্তদের মধ্যে একজন। সেখানে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। রাতারাতি কাটোয়া হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল। দুই দিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত আক্রান্তকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানেও আইসিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন দু'দিন। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় বর্ধমান থেকে বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স করে বারাসতের ওই বেসরকারি হাসপতালে নিয়ে আসা হয় আক্রান্ত ওই নার্সকে। এর মধ্যেই আরও একজনের আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে।
দু'জনে একিউট এনসেফ্যালাইটিস সিনড্রোমে আক্রান্ত বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর। জ্বরের সঙ্গে ভুলবকা, পরিচিতকে চিনতে না পারার মত সমস্যাও ছিল। এরপরেই দু'জনের নমুনা কল্যাণী এইমসে পাঠানো হয়। রিপোর্ট পজেটিভ আসে। যদিও এই বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে দিল্লির ল্যাবেও নমুনা পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে দু'জন নার্স নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পৌঁছতেই নড়েচড়ে বসেন জেলা এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই আক্রান্ত দুই নার্স কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, কার কার সঙ্গে দেখা করেছেন, তাঁরা কি ধরনের খাবার খেয়েছেন, তা নিয়ে খোঁজ খবর করা শুরু করেছেন।
এই প্রসঙ্গে বারাসত সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি অভিজিৎ সাহা বলেন, ''কল্যানী এইমস থেকে দুজনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। চূড়ান্ত ভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্যই আক্রান্তদের নমুনা দিল্লিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।''
উল্লেখ্য, বাদুড় বা বাদুড়ের বিষ্ঠার সংস্পর্শে আসা ফল খেলে বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এই রোগ হতে পারে। আক্রান্ত শূকর বা বাদুড়ের থেকেও সরাসরি মানুষের শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। এই রোগের উপসর্গগুলি হল, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, প্রবল মাথার যন্ত্রণা, বমি বমি ভাব, কাফ মাসলে ব্যথা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখমণ্ডলের পেশি সঙ্কুচিত হওয়া।
