ভারী তুষারপাত ছাঙ্গু উপত্যকায়। বন্ধ যান চলাচল। শুক্র ও শনিবার সিকিমের গ্যাংটক, পকিয়ং, মঙ্গন ও গেলশিং জেলায় অতিভারী বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টির 'কমলা' সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। উঁচু এলাকায় তুষারপাতেরও পূর্বাভাস রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য পর্যটকদের ভ্রমণ পারমিট স্থগিত করা হয়েছে। এ দিকে উত্তরের পাহাড়-সমতলে ঝড় শিলাবৃষ্টির তাণ্ডব অব্যাহত। শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি জেলায় ফের শিলাবৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। পাশপাশি বজ্র-বিদ্যুৎ সহ অতিভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা রয়েছে আলিপুরদুয়ারে। বাকি জেলাগুলিতেও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। শনিবারও দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পং জেলায় শিলাবৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত থেকে পূর্ব সিকিমের ছাঙ্গু উপত্যকার দিকে যাতায়াতের জওহরলাল নেহরু (জেএন) রোডে একটানা তুষারপাত চলছে। রাস্তা পুরু বরফের চাদরে তলিয়ে রীতিমতো বিপজ্জনক হয়েছে। ওই কারণে সিকিম প্রশাসন যান চলাচল বন্ধ রেখেছে । ভারী তুষারপাতের জন্য নাথু-লা পাস, বাবা মন্দির-সহ উঁচু এলাকার পর্যটন কেন্দ্রগুলিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পর্যটকদের যানবাহনগুলিকে ১৫ মাইল পর্যন্ত যেতে দেওয়া হচ্ছে। সিকিমে এবার মার্চ মাসে অপ্রত্যাশিত তুষারপাত হয়েছে। ওই কারণে পর্যটকের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু বিপদ হয়েছে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডব।
তুষারপাতে ঢেকেছে বাড়িঘর। নিজস্ব চিত্র
অন্যদিকে উত্তরের জেলাগুলোতেও দুর্যোগ অব্যাহত। বুধবার রাতে শিলাবৃষ্টির দাপটে বিধ্বস্ত হয়েছে জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের বিস্তীর্ণ এলাকা। বৃহস্পতিবার রাতেও প্রকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা প্রবল। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, শুক্রবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে বিক্ষিপ্তভাবে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারেও। পাশাপাশি দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়ি জেলার কিছু জায়গায় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
