দুর্গাপুর ধর্ষণ কাণ্ডে বয়ান বদল নির্যাতিতার! হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেওয়া বয়ান বদল করলেন ছাত্রী। পরে পুলিশকে যে বয়ান দিয়েছিলেন, সেটাই আদালতে জানালেন নির্যাতিতা। অভিযুক্ত সহপাঠী জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে শরীরের কোথায় কোথায় হাত দিয়েছে, তারপর কী হয়েছে তা জানালেন নির্যাতিতা। এমনকী পাঁচ অভিযুক্তকে শনাক্তের সময় জানান, তাদের মধ্যে একজন তাঁকে ধর্ষণ করেছে।
শুক্রবার এডিজে স্পেশাল সেশন বিচারক লোকেশ পাঠকের এজলাসে ওড়িশার বাসিন্দা নির্যাতিতার সাক্ষ্যগ্রহণ ছিল। ভরা আদালতে নয়, ক্লোজ ডোরে এদিন প্রায় তিন ঘণ্টা সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। অভিযুক্তদের আইনজীবী শেখর কুন্ডু ও সৌমেন মিত্র, তাঁদের সহকারীরা এবং বিশেষ সরকারি আইনজীবী ও বিভাস চট্টোপাধ্যায় ছাড়া কাউকে এজলাসে কাউকে থাকার অনুমতি দেননি বিচারক।
গত ১০ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন! তাঁর সহপাঠী ওয়াসেফ আলির সঙ্গে রাতের খাবার খেতে বেরিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরেই নির্যাতনের মুখে পড়েন তিনি। পুলিশ সহপাঠী-সহ পাঁচ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার একদম প্রাথমিক তদন্তে নির্যাতিতা অন্য বয়ান দিয়েছিলেন। পরে পুলিশের কাছে অন্য কথা বলেন।
শুক্রবার আদালত কক্ষের দরজা বন্ধ করে বাইরে পুলিশি পাহারায় শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। নির্যাতিতা ওই ঘটনার পর হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময়ে একপ্রকার বয়ান দিয়েছিলেন। পরে পুলিশের কাছে বয়ান বদল হয়। এদিন পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানই আদালতকে বলেন তিনি।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারক নির্যাতিতাকে প্রশ্ন করেন তিনি অভিযুক্ত ওয়াসেফকে চেনেন কি না? সেই প্রশ্নের উত্তরে নির্যাতিতা বিচারককে জানান, ওয়াসেফ সেদিন তাঁকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দেয়। তাঁর যৌনাঙ্গ স্পর্শ করে, তারপর সহপাঠী কী করেছিল তাও জানিয়ছেন নির্যাতিতা। অন্য পাঁচ অভিযুক্তকে চিহ্নিত করার সময়ে নির্যাতিতা একজন দেখিয়ে জানান, সে তাঁকে ধর্ষণ করেছে। নির্যাতিতার মুখে এই রকম শুনে মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায় নির্যাতিতার সহপাঠী-সহ পাঁচ অভিযুক্তের। নির্যাতিতা সাবালিলভাবে বিচারকের প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে।
এদিন বিশেষ সরকারি আইনজীবীর পক্ষ থেকে নির্যাতিতার পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ান, গোপন জবানবন্দি, এফআইআর ও ৬টি মেডিক্যাল রিপোর্ট পেশ করা হয় আদালতে। তবে শুক্রবার নির্যাতিতার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। আজ, শনিবার ফের সাক্ষ্য গ্রহণ রয়েছে নির্যাতিতার। অভিযুক্তদের সওয়ালও শুরু হয়নি। সেই প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু করা হবে বলেই খবর।
