নির্বাচন কমিশনের কাজে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের। এসআইআর শুনানিতে সাধারণ মানুষ হেনস্তার শিকার হচ্ছেন লোকজন। বিএলওদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ছে মানসিক চাপও! এই অভিযোগ তুলে গণইস্তফা দিলেন প্রায় ৭০ জন বিএলও! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের ইলামবাজারে। ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চাও। কীভাবে এসআইআরের শেষপর্বের কাজ হবে ওই এলাকায়? সেই প্রশ্নও উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে গণইস্তফা দিলেন প্রায় ৭০ জন বিএলও। শুক্রবার বীরভূমের ইলামবাজার ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (বিডিও) দপ্তরে একযোগে ইস্তফাপত্র জমা দেন তাঁরা। বিএলওদের অভিযোগ, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেনসি’-র নামে সাধারণ ভোটারদের অযথা হেনস্তা করা হচ্ছে, যার দায় তাঁরা আর নিতে চান না। রাজ্যজুড়ে চলা স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (এসআইআর) ঘিরে কমিশনের একের পর এক নতুন নির্দেশে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়ছেন বলে অভিযোগ। সেই সঙ্গে জনরোষের মুখে পড়তে হচ্ছে বিএলওদের। শিক্ষকতার পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিতরণ, নোটিস জারি-সহ এসআইআরের সমস্ত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তাঁরা চরম মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।
ইস্তফাপত্রে বিএলওরা জানান, তাঁদের অধিকাংশ ভোটারই আর্থিকভাবে দুর্বল ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে থাকা শ্রেণির মানুষ। প্রয়োজনীয় নথিপত্র জোগাড় করতে না পারায় ভোটাররা আতঙ্কিত ও বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অথচ প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে বিএলওরা মানবিক সহায়তা দিতে পারছেন না। ইলামবাজারের বিডিও অনির্বাণ মজুমদার বলেন, “বিএলওরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। কাজের চাপ অত্যধিক হলেও সকলকে অনুরোধ করেছি, যাতে কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ না যায়।” ইস্তফা দিয়ে বিএলও গুরুচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ছোটখাটো ভুল দেখিয়ে ভোটারদের বারবার ডেকে হেনস্থা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ক্ষোভের দায় আমরা নিতে চাই না।” প্রসঙ্গত, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিএলওদের বিক্ষোভ ও কাজ ছাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এসআইআর ঘিরে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।
