খাটিয়া, বালিশ, বর্তমান সময়ে সবচেয়ে চর্চিত গ্যাস সিলিন্ডার। সেই সঙ্গে ঢেঁড়শ, ক্যাপসিকাম এমনকি রাজনৈতিকগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হাওয়াই চটি। আর একটু ভেঙে বললে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পায়ে থাকা হাওয়াই চটি যা বাংলা থেকে দিল্লিকে মনে করায়। এছাড়া এই দহনজ্বালার ভোটে এয়ারকন্ডিশনার, আইসক্রিম, কুলার, রেফ্রিজারেটর, তরমুজ। কি নেই? আসলে যতই থাক প্রার্থী। সেই প্রার্থীর পাশে চিহ্ন বা প্রতীক না থাকলে যে ভোট-ই হবে না। তাই বাংলার বিধানসভা ভোটে (West Bengal Assembly Election) অস্বীকৃত বা নির্দল দলের প্রার্থীদের জন্য বাংলার বিধানসভা ভোটে ১৮৯ টি প্রতীক চিহ্ন অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন।
আসলে এই ডিজিটাল যুগেও অক্ষর জ্ঞান নেই এমন ভোটারের সংখ্যা রয়েছে। ফলে সেই ভোটাররা যাতে চিহ্ন দেখেই বুঝতে পারেন পছন্দের প্রার্থীকে। তাই তো দেওয়াল থেকে সোশাল ওয়ালে ফুটে উঠছে চিহ্ন বা প্রতীক। মিটিং, মিছিল, সভা, সমিতিতে আওয়াজ উঠছে 'এই' চিহ্নে ভোট দিন। তাই ১৮৯ প্রতীকের তালিকায় কোমরবন্ধনী, বেবি ওয়াকার, ফ্রায়িং প্যান, টিফিনের কৌটো, নুডলস ভরা বাটি, ফোনের চার্জার, কাঁচি, মোজা, প্যান্ট, টিউবলাইট, মানি ব্যাগ এমনকি দাঁতের মাজনের মতো সকলের পরিচিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যই কমিশনের প্রতীক তালিকায় আছে। তবে নির্বাচন কমিশনের এই প্রতীক তালিকায় 'লেডি পার্স' থাকলেও তা ব্যবহার করতে পারবে না বাংলা। কমিশনের তালিকায় বর্তমানে ৭ টি জাতীয় দল ও ৬৪ টি আঞ্চলিক দলের প্রতীক চিহ্ন সংরক্ষণ করা থাকলেও একই প্রতীক অঞ্চলভেদে আলাদা রাজনৈতিক দল ব্যবহার করে থাকে। সেই জন্যই কমিশনের কিছু বাধ্যবাধকতা। এই দীর্ঘ তালিকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিহ্ন বা প্রতীক যেমন রয়েছে। তেমনই একেবারে মানানসই নয় সেই প্রতীকও আছে। তবে সেই প্রতীক যে বেশ মজাদার। আর সেই প্রতীকেও যে বাজিমাত করা যায় তা বলছেন নির্দল প্রার্থীরা।
রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দল হলেও অস্বীকৃত এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)-র পুরুলিয়া বিধানসভার প্রার্থী শোভা মাহাতো বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে টর্চ প্রতীকেই ভোটের ময়দানে লড়াই করে আসছি। আমরা রেজিস্টার্ড দল বলে এটা আমাদের প্রতীক হয়ে গিয়েছে। তবে এই প্রতীক যে আমরা সব সময় পাবো তা নয়। কারণ আমরা স্বীকৃত দল নই। সেই ক্ষেত্রে এই প্রতীক অন্য কেউ চাইলে লটারি হবে। আমরা এই টর্চ প্রতীকের মধ্য দিয়ে ভোটারদের কাছে আলোর দিশা দেখাতে চাই।" তেমনই অস্বীকৃত দল এবার ঝাড়খন্ড থেকে বাংলার ভোটে লড়াই করা ঝাড়খন্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারি মোর্চার প্রতীক কাঁচি। তাই মনোনয়নপত্রে এই চিহ্ন দাবি করেছেন ওই দলের প্রার্থীরা। পুরুলিয়া বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গ বাউরি সমাজ উন্নয়ন সমিতি থেকে প্রার্থী হয়েছেন নির্দলের পিন্টু বাউরি। তাঁর কথায়, "মনোনয়ন পেশে আমি কোন প্রতীকের কথা বলিনি। যখন আমাকে চিহ্ন দেওয়া হবে তখন আমি আমার সংগঠনের এবং আমার কাজকর্মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তেমন প্রতীক বা চিহ্ন আমি দাবি করবো। যার মধ্য থেকে লড়াই আন্দোলন বা প্রান্তিক বিষয় বোঝায়।"
দেশ স্বাধীনের পরে যখন নির্বাচন পদ্ধতি চালু হয় অর্থাৎ ১৯৫১ সালের শেষ দিকে। সেই সময় দেশে স্বাক্ষরতার হার ছিল কম। দেশের প্রথম লোকসভা নির্বাচনে ১৪ টি প্রতীক চিহ্ন অনুমোদন করে কমিশন। সেই সময়ই নির্বাচন কমিশনের এক কর্তা এম এস শেঠি কয়েকটি ছবির পেন্সিল স্কেচ তৈরি করেন। এমন কিছু ছবি তিনি আঁকেন যা রোজকার ব্যবহৃত বা সহজেই দেখা মেলে। তার মধ্যে ছিল বেলচা, কোদাল, ফুল, গাছের পাতা, উদীয়মান সূর্য। তাঁর সেই আঁকা ১০০ টি ছবির মধ্যে বেশ কয়েকটি আজও নির্দলদের জন্য প্রতীক দেয় কমিশন। বাংলার বিধানসভা ভোটে সেই ১৮৯-র তালিকায় ওই প্রতীকগুলিও রয়েছে।
