দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পনা করে বিচারকদের সঙ্গে থাকা পাইলট কারে হামলা চালানো হয়েছিল। তদন্তে চাঞ্চল্যকর ভিডিও ফুটেজ হাতে এল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ'য়ের হাতে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে ফের এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হবে। শুনানিতে মোথাবাড়ির ঘটনায় প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে পারে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। আর তার আগেই বুধবার, ঘটনার দিনের একাধিক ফুটেজ হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের হাতে। যার মধ্যে একটিতে দেখা যাচ্ছে, বিচারকদের গাড়ি আটকাতে আগে থেকেই বাঁশ ফেলে রাখা হয়েছিল। কিন্তু কে বা কারা সেই পরিকল্পনা করেছে সেগুলিই খতিয়ে দেখছে এনআইএ।
অন্যদিকে কর্তব্যে গাফিলতির কারণে আজ রবিবার শোকজ করা হয়েছে মালদহের অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) আনসাদ আহমেদকে। সূত্রের খবর, ঘটনার দিন অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দেখা গিয়েছে আনসাদকে। শুধু তাই নয়, তাঁকে মাইক হাতে বেশ কিছু বলতেও শোনা যাচ্ছে। কার নির্দেশে সেই সমস্ত বক্তব্য রেখেছেন এবং কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি সঠিক সময়, তা জানতে চেয়েই আনসাদকে জেলাপ্রশাসনের তরফে শোকজ করা হয়েছে বলে খবর। মোথাবাড়ি কাণ্ডের তদন্তে নেমে এদিন ফের ব্লক প্রশাসনিক দপ্তরে গিয়ে খুঁটিনাটি বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখেন জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ-র ডিআইজি'র নেতৃত্বাধীন দুঁদে আধিকারিকরা। বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত তিন বিচারক সহ সাত জুডিসিয়াল অফিসারকে ওই ব্লকের বিডিও'র দপ্তরে আটকে রাখার ঘটনায় জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারের কন্ট্রোল রুমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
অভিযোগ উঠছে, বিচারকদের আটক থাকার বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ ও সোর্সদের মাধ্যমে বিকেলেই পুলিশ সুপারের কন্ট্রোল রুমে জানানো হয়েছিল। কিন্তু এরপরেও কেন ব্যবস্থা নয়! এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতেই জেলা পুলিশে অফিসে যান এনআইএ আধিকারিকরা। পাশাপাশি আটকে থাকা বিচারকদের জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে। পাইলট গাড়ির চালকেরও জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন এনআইএ আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, বিচারকরা দাবি করেছেন তাঁরা বিকেলেই ফোন করে জেলাশাসককে খবরটি দিয়েছিলেন। তারপরেও প্রশাসন দীর্ঘ প্রায় আট ঘণ্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি কেন, সেই উত্তর খুঁজেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। অন্যদিকে বুধবার রাতে যে পাইলট গাড়ি করে বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেই সময় পরিস্থিতি কেমন ছিল সেই তথ্য জানতে পাইলট গাড়ির চালককে এবং অফিসারদেরকে ডেকে পাঠানো হয় ব্লক দপ্তরে। তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ আরও দু'জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ নিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৩৭। সিআইডির হাতে ধৃত মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামের সোশাল মিডিয়ার বিভিন্ন পোস্ট খতিয়ে দেখছে এনআইএ বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
