ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার গাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজির অভিযোগ। ভোটের মুখে ফের উত্তপ্ত ভাঙড়। অভিযোগ, আইএসএফের মদতে হামলা ও বোমাবাজি করা হয়। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইএসএফ। গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার সন্ধ্যা। ভাঙড়ের পোলেরহাট থানার গাজিপুরে একটি দেওয়াল লিখনের জন্য দখল করে আইএসএফ। তার পাশেই দেওয়াল দখল করে তৃণমূল। কিন্তু আইএসএফের অভিযোগ, তাদের দেওয়াল লিখন মুছে দেওয়া হয়। জোর করে দখল করা হয়। অশান্তির মাঝে এই ঘটনার পর স্থানীয় তৃণমূল নেতা খইরুল ইসলাম-সহ আরও বেশ কয়েকজন সেখানে যান। অভিযোগ, সেই সময় আইএসএফের সঙ্গে তৃণমূলের অশান্তি বাঁধে। দু'পক্ষের হাতাহাতিতে আইএসএফ ও তৃণমূলের বেশ কয়েকজন জখম হন। আইএসএফের হামলায় তৃণমূল কর্মীদের দু'টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আহতরা কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি।
এদিকে, এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর মিটিং সেরে ক্যানিং পূর্বে তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। বোমাবাজি করা হয়। শওকতের দাবি, গুলিও চলে এক রাউন্ড। কোনওক্রমে গাড়ি সিটের পিছনে লুকিয়ে আত্মরক্ষা করেন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর কনভয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ। শওকত মোল্লার দাবি, "আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির মদতেই হামলা চালানো হয়।" যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তাঁর দাবি, "যিনি বলছেন তিনিই আক্রমণ করছেন। এলাকাকে বিষিয়ে তোলা, উত্তপ্ত করে তোলার চেষ্টা করছেন।" এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সরব নওশাদ। রাত থেকে দফায় দফায় উত্তপ্ত ভাঙড়ের বিভিন্ন প্রান্তে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে নতুন করে আর কোনও অশান্তি তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখছেন পুলিশকর্মীরা। এই দুই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখনও কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
