রাজ কুমার, আলিপুরদুয়ার: বঙ্গ বিধানসভা ভোটের বাকি কয়েকটা মাস। এবারের নির্বাচন বিজেপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ভোটমুখী বাংলায় রেলকেই হাতিয়ার! বন্দে ভারত স্লিপারের পর এবার উত্তরবঙ্গের জন্য ছয়টি নতুন ট্রেনের ঘোষণা রেলের। এর মধ্যে রয়েছে দুটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেসও। যেগুলি ছাড়বে আলিপুরদুয়ার জংশন স্টেশন থেকে। অন্যদিকে মানুষের দাবি মেনে নিউ আলিপুরদুয়ার, নিউ কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনেও স্টপেজ দেওয়া হবে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনের। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল এবং বিজেপি, দুই পক্ষেরই দাবি, তাদের আন্দোলনের জেরে এই ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া হচ্ছে আলিপুরদুয়ারে।
আগামী ১৭ জানুয়ারি মালদহে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশাসনিক সভার পাশাপাশি রাজনৈতিক সভাও রয়েছে তাঁর। জানা গিয়েছে, মালদহের প্রশাসনিক সভা থেকেই নতুন সমস্ত ট্রেনের উদ্বোধন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, উত্তরের মানুষের মন পেতে মোট ৩২৬৫ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করার কথা রয়েছে তাঁর। যার মধ্যে রয়েছে ধুপগুড়ি-ফালাকাটা চার লেনের মহাসড়কের উদ্বোধনও। তবে বঙ্গ বিধানসভা ভোটের মুখে উত্তরের মানুষের জন্য একেবারে দরাজ ভারতীয় রেল। ইতিমধ্যে রেলের তরফে দুটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের টাইমটেবিল প্রকাশ করা হয়েছে রেলের তরফে।
রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আলিপুরদুয়ার থেকে একটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চলবে পানভেল স্টেশন মুম্বই পর্যন্ত। আরেকটি ট্রেন চলবে আলিপুরদুয়ার-বেঙ্গালুরু পর্যন্ত। যদিও সবটাই চমক বলে দাবি শাসকদল তৃণমূলের। রিভিশনাল রেলওয়ে ইউজার্স কনসালটেটিভ কমিটির সদস্য, প্রসেনজিৎ দত্ত চৌধুরী বলেন, ''নতুন কিছু ট্রেন চালু হচ্ছে। বেঙ্গালুরু এবং মুম্বইয়ের জন্য ট্রেন দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। ভোটের আগে বিজেপি চাইবে এটাকে তুলে ধরতে।'' তবে তৃণমূল কংগ্রেস এমন কাজ করে না বলেই দাবি প্রসেনজিৎ দত্তের। তাঁর কথায়, ''ভোটের জন্য আমরা কাজ করি না। সারা বছর ধরে আমাদের দল তৃণমূল কংগ্রেস। যাতে মানুষের সার্বিক উন্নতি হয়।''
অন্যদিকে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের স্টপেজের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে তৃণমূল। নিউ আলিপুরদুয়ার, নিউ কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে এর আগে এই ট্রেনের স্টপেজ হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু রেলের প্রকাশিত সূচিতে দেখা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের এই তিন স্টেশনেই স্টপেজ রয়েছে হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর তরজা। তৃণমূলের আন্দোলনে রেলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি আলিপুরদুয়ারের তৃণমূল বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালের। তিনি বলেন, ''প্রতিবাদ, ডেপুটেশন দেওয়ার পরেই টনক নড়ল। এরপরেই বুঝেছে কত বড় ভুল করে ফেলেছিল। এটা জনগনের জয়।'' আন্দোলনের ফলেই এই সিদ্ধান্ত নিতে রেল বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি রেলের। অন্যদিকে কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাওয়ের পালটা দাবি, আলিপুরদুয়ারে স্টপেজ ছিল না। এই বিষয়ে আবেদন জানিয়েছিলাম। আলিপুরদুয়ারবাসীর কথা ভেবেই এহেন পদক্ষেপ।''
