গত ২৭ জানুয়ারি। আচমকা একটি সোশাল মিডিয়া পোস্ট। যা দেখে বিনা মেঘের বজ্রপাতের মতো অনুভূতি হয়েছিল অনুরাগীদের। আচমকাই প্লেব্যাক থেকে বিদায় নেন অরিজিৎ সিং। তবে সাফ জানিয়ে দেন, সঙ্গীত জগৎ থেকে কোনওদিন দূরে থাকবেন না। প্রায় মাসপাঁচেক পর এই বিষয়ে মুখ খুললেন সঙ্গীতশিল্পী আদনান সামি।
পিটিআইতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "সম্পূর্ণ ভাবনাচিন্তা করে প্লেব্যাক থেকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত। তিনি যা-ই সিদ্ধান্ত নেন না কেন, তাকে সম্মান করাই উচিত। হঠাৎ করে কোনও সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই নেননি। এটা নিশ্চয়ই অত্যন্ত ভাবনাচিন্তার ফল।" অরিজিতের সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ সমর্থন করে আদনান বলেন, "এটা খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তা গোটা বিশ্বকে জানানোর দায়িত্ব তাঁর নয়। যাঁরা ভাবার তাঁরা ভাবতে থাকুন। এটা তাঁর জীবন। যখন তিনি কারণ জানাতে চাইবেন তখন জানাবেন। তবে তাঁকে সময় দেওয়া উচিত।"
একেবারে কেরিয়ারের মধ্যগগনে প্লেব্যাক থেকে অরিজিতের বিদায়ের সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ বিশ্লেষণ এখনও অনেকেই করে চলেছেন। কারও মতে, হয়তো কাজের চাপ সামাল দিতে পারছিলেন না অরিজিৎ। আবার কারও দাবি, মানসিক শান্তির খোঁজে প্লেব্যাক ছাড়ার সিদ্ধান্ত। আদনানের মতো, নিজের মতো করে কোনও কারণ খোঁজা ঠিক নয়। তাঁর কথায়, "কাজ থেকে বিরতি নেওয়ার কারণ সকলের ক্ষেত্রে এক হতে পারে না। প্রত্যেকের সিদ্ধান্ত আলাদা।" প্লেব্যাক শিল্পীদের একাধিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকতে হয়। তবে আদনান মনে করেন না, অরিজিৎকে নির্দিষ্ট নিয়মের বেড়াজালে কোন সংস্থাকে বেঁধে রাখতে পারে বলে। অরিজিৎ নিজের নিয়মেই চলতেন বলেই মত তাঁর। আদনানের মতে, "সঙ্গীতশিল্পীদের বেঁধে বেঁধে রাখা উচিত নয়। যখনই শিল্পীকে কড়া নিয়মকানুনে বাঁধতে চাওয়া হয়, তাতেই সমস্যা মাথাচাড়া দেয়। তাই সেসব না হওয়াই উচিত।" বলে রাখা ভালো, প্লেব্যাক ছাড়ার পরেও অরিজিৎ দিব্যি রয়েছেন নিজের শর্তেই। ইতিমধ্যে তাঁর নতুন গান ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে। যা অনুরাগী মহলে সাড়াও ফেলেছে।
