অনুরাগ কাশ্যপ যিনি 'গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর' সহ 'দেব ডি', 'ব্ল্যাক ফ্রাইডে'-এর মতো একাধিক হিট ছবি দর্শককে উপহার দিয়েছেন। পরিচালক হিসেবে যেমন সুনাম অর্জন করেছেন তেমনই বিভিন্ন সময় অনুরাগের মন্তব্য ঘিরে দানা বাঁধে বিতর্ক। সম্প্রতি কান চলচ্চিত্র উৎসবের কঠিন বাস্তবকে সামনে এনেছেন পরিচালক। সুচরিতা ত্যাগীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনুরাগ বলেন, "ভারতে কান নিয়ে মানুষের আগ্রহ শুধু রেড কার্পেটে হাঁটা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। মানুষ বোঝে না যে রেড কার্পেটের বাইরেও একটা বিশাল চলচ্চিত্র উৎসব রয়েছে যার একটা বিরাট উদ্দেশ্য রয়েছে।" এর মাঝেই আইনি জটে অনুরাগ কাশ্যপ।
ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে গুজরাটের সুরত আদালত পরিচালকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে বলে খবর। যদিও এই মর্মে অনুরাগ কাশ্যপের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। পিটিআই সূত্রে খবর, এই অভিযোগ দায়ের করেছেন আইনজীবী ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা কমলেশ রাভাল। যিনি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ভুক্ত।
২০২৫ সালের এপ্রিলে অনুরাগ ব্রাহ্মণসমাজ নিয়ে ‘কুরুচিকর’ মন্তব্য করেছিলেন। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন পরিচালক। সেই সময় আশুতোষ জে দুবে নামে এক আইনজীবী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাস এ এস জানির বেঞ্চ চলচ্চিত্র নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬ ধারা (বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ছড়ানো), ৩৫২ ধারা (শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান) এবং ৩৫৩(২) ধারা (মিথ্যা তথ্য প্রচার) অনুযায়ী মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
আইনি জটে অনুরাগ
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়? কমলেশ রাভাল আদালতে জানান, জ্যোতিরাও ফুলের জীবনীচিত্র 'ফুলে'-এর ট্রেলার মুক্তির পর অল ইন্ডিয়া ব্রাহ্মণ সমাজ এই ছবির তুমুল বিরোধিতা করে। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ঋতাহুতির কাজ করেছিল এক্স হ্যান্ডেলে অনুরাগের পোস্ট। ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়ে যায় নেটভুবনে।
অভিযোগকারীর দাবি, এই ধরনের পোস্ট বিভিন্ন সম্প্রদায় ও জাতির মধ্যে শত্রুতা ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করে। ভারতীয় ছবির পরিচালক হওয়ার দরুণ আবালবৃদ্ধবনিতা তাঁর সিনেমা দেখেন। তারকাদের মন্তব্য সাধারণ মানুষকে ভীষভাবে প্রভাবিত করে। তারকাদের অনুকরণের একটা প্রবণতাও দেখা যায়। তাই এই ধরনের মন্তব্য সুস্থ সমাজের পক্ষে ক্ষতিকারক।
অনুরাগের আপত্তকর মন্তব্য
আরও যোগ করেছেন, অনুরাগকে একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন। অতঃপর অনুরাগের বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে অনুরাগ ব্রাহ্মণদের নিয়ে ‘কুরুচিকর’ মন্তব্য করেছিলেন। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন পরিচালক। সেই সময় আশুতোষ জে দুবে নামে এক আইনজীবী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
