উন্নত প্রযুক্তির যুগে কত কী-ই না ঘটছে! বর্তমানে এআই-এর সাহায্যে অসাধ্য সাধনও হয়ে যাচ্ছে। সুবিধার পাশাপাশি অসুবিধা, প্রতারণার শিকারও হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে আখছাড়। সম্প্রতি এইরকমই এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী কুনিকা সদানন্দ (Kunickaa Sadanand)। এআই দ্বারা নির্মিত প্রাক্তনের সঙ্গে একটি ছবি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই ফুঁসে উঠেছেন কুনিকা।
গায়ক কুমার শানুর (Kumar Sanu) সঙ্গে একটি মাখোমাখো ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। সেই ছবি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করে সুর চড়িয়েছেন কুমার শানুর একদা প্রেমিকা কুনিকা সদানন্দ। ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, 'লজ্জা করো। এই মানুষটি সুখে সংসার করছেন, তাঁর সন্তান রয়েছে। আপনাদের জানা উচিত যে ওঁর ব্যক্তিত্বের অধিকার আদালত দ্বারা সুরক্ষিত। কোনও পদক্ষেপ করলে সমস্যায় পড়বেন। আমাদের ব্যক্তিগত জীবনকে আপনাদের স্বার্থে ব্যবহার করবেন না।'
পুরনো সাক্ষাৎকারে কুনিকা বলেছিলেন, "আমি ওঁর কাছে স্ত্রীর মতোই ছিলাম। আমি ওকে স্বামীর আসনে বসিয়েছিলাম।"
কুনিকার সংযোজন, 'একজন মানুষের ব্যক্তিগত অধিকারকে সম্মান করা উচিত। আমি মানহানির অভিযোগ দায়ের করছি। এখুনি এই পোস্ট সরিয়ে নিন।' প্রযুক্তির অপব্যবহার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা কুনিকার। এই পোস্টের জেরে আরও একবার চর্চা উঠে এল কুমার শানু-কুনিকার পুরনো সম্পর্ক। গায়কের দাম্পত্য জীবনের কঠিন সময়ে কুনিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।
নয়ের দশকে কুমার শানুর সঙ্গে এক ছাদের নিচেই থাকতেন, বিভিন্ন কনসার্টেও তাঁদের একসঙ্গে যাতায়াত ছিল। একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে কুনিকা বলেছিলেন, "আমি ওঁর কাছে স্ত্রীর মতোই ছিলাম। আমি ওকে স্বামীর আসনে বসিয়েছিলাম।" কুনিকার কথায় স্পষ্ট ছিল তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা। তবে তাঁর ছেলে আয়ান এই সম্পর্ককে 'টক্সিক' বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন।
২০২৫ সালে এক সাক্ষাৎকারে কুনিকার ছেলে আয়ান মায়ের অতীত নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য, 'অনেকেই বলেন ২৭ বছরের সম্পর্ক। কিন্তু বাস্তবটা হল মা বলতে চেয়েছিলেন তিনি সেই সময় ২৭ বছর বয়সি ছিলেন। ওই শিল্পীকে আজও ভালোবাসেন, মানুষটিকে আর নয়।'
ব্যক্তিগত কথপোকথনের স্মৃতি উসকে আয়ান আরও বলেন, "কুনিকা একসময় কুমার সানুকে সোলমেট বলেছিলেন। একইসঙ্গে স্বীকার করেছিলেন, খুবই টক্সিক ছিল।" শুধু তাই নয়, বিগ বস ১৯-এ অংশগ্রহণের সময় কুনিকা নিজেই তাঁদের একত্রবাস, কুমার শানুর পরকীয়া নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন।
