বাংলায় ভোটপ্রচারে এসে বারবার বাংলা উচ্চারণ ভুল করে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরা। শুধু কি তাই? গুলিয়ে ফেলছেন বাংলার মনীষীদের নাম-বাণীও। সম্প্রতি বোলপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে 'রবীন্দ্রসঙ্গীত' বলতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে 'রবিশঙ্কর' বলে বসেন অমিত শাহ। আবার সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামোল্লেখ করতে গিয়েও শব্দ জড়িয়ে বলে ফেলেন, 'স্বর্গীয় শ্রী তারাচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়'। উচ্চারণ বিভ্রাটের বহর অবশ্য এখানেই শেষ নয়! শাহী রেশ ধরেই এবার 'নেতাজি-স্বামীজি'কে গুলিয়ে ফেললেন যোগী আদিত্যনাথ। ছাব্বিশের ভোটে যেখানে বাঙালি অস্মিতায় শান দেওয়া হচ্ছে, সেখানে নির্বাচনী প্রচারে এসে পদ্মশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বদের এহেন 'বাংলা হোমওয়ার্ক' নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
রানি রাসমণিকে 'রানি রাসমতী' উচ্চারণ করেছিলেন অমিত শাহ। আবার বোলপুরের সভায় 'রবীন্দ্রসঙ্গীত' বলতে গিয়ে 'রবিশঙ্কর' বলে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আরেকটু পিছনে ফিরলে নরেন্দ্র মোদির 'বঙ্কিমদা' উবাচও জ্বলজ্বল করছে পদ্ম শিবিরের নেতৃত্বদের বাংলা-বিভ্রাটের তালিকায়। এসবের মাঝেই আবার নীতিন নবীন বলে বসেন, 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তির জন্য নোবেল পেয়েছিলেন'! সবমিলিয়ে বিজেপির 'বাংলা হোমওয়ার্ক' নিয়ে চর্চার অন্ত নেই।
অমিত শাহ, যোগী আদিত্যনাথ।
সোমবার জয়পুরের সভা থেকে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, "স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন- তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।" স্বাভাবিকভাবেই যোগীর এহেন মন্তব্যকে হাতিয়ার করে পালটা আক্রমণে শানিয়েছে তৃণমূল। সাংসদ মহুয়া মৈত্রর খোঁচা, 'বুলডোজার বুদ্ধি! উত্তরপ্রদেশে ফিরে ফান্টা ফান, বাংলাকে ছেড়ে দিন।' তার প্রাক্কালে বিজেপির সংকল্পপত্র প্রকাশ কর্মসূচি চলাকালীন রানি রাসমণিকে 'রানি রাসমতী' উচ্চারণ করেছিলেন অমিত শাহ। আবার রবীন্দ্রসঙ্গীতকে গোটা ভারতে প্রসিদ্ধ করার জন্য বোলপুরের সভা থেকে গায়িকা সাহানা বাজপেয়ীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। সেসময়েই 'রবীন্দ্রসঙ্গীত' বলতে গিয়ে 'রবিশঙ্কর' বলে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আরেকটু পিছনে ফিরলে নরেন্দ্র মোদির 'বঙ্কিমদা' উবাচও জ্বলজ্বল করছে পদ্ম শিবিরের নেতৃত্বদের বাংলা-বিভ্রাটের তালিকায়। এসবের মাঝেই আবার নীতিন নবীন বলে বসেন, 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তির জন্য নোবেল পেয়েছিলেন'! সবমিলিয়ে বিজেপির 'বাংলা হোমওয়ার্ক' নিয়ে চর্চার অন্ত নেই। এবার সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে রসিক খোঁচা অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তীর। তবে অভিনেতা অবশ্য রং-দল নির্বিশেষে সকলকেই বিঁধেছেন!
সিনেদুনিয়া কিংবা রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে অভিনেতাকে একাধিকবার কৌতুকছলে কটাক্ষ করতে দেখা গিয়েছে। কোনও জ্বলন্ত ইস্যুতে কৌতুকের মোড়কে বিঁধতে ঋত্বিকের জুড়ি মেলা যে ভার, সে সম্পর্কে অনুরাগীরা ভালোই অবগত।
ঋত্বিক চক্রবর্তী, ছবি: ফেসবুক
মঙ্গলবার সোশাল মিডিয়ায় অভিনেতার বিদ্রপাত্মক তোপ, "প্রফেসার হিজিবিজবিজ-এর কুইজ শো তে কি আলফাল প্রশ্ন উত্তর চলছে!
ঢোঁড়াই চরিত মানস কার লেখা? -ভোগী আদিত্যনাথ। তোমরা আমায় রক্ত দাও আমি তোমাদের কিছুই দেবোনা কে বলেছে? -ডোল্যান্ড ট্রাম
না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা কার উক্তি? -বিশ্বগরুর ভাট। পথের পাঁচালী কি? -গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের টেন্ডার। পাবলিশার্স গিল্ডের মাথা কে? -স্বরূপ বিশ্বাস। এইসব আজে বাজে...।" ঋত্বিকের এহেন পোস্ট দেখে পেটে খিল নেটভুবনের! আসলে সিনেদুনিয়া কিংবা রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে অভিনেতাকে একাধিকবার কৌতুকছলে কটাক্ষ করতে দেখা গিয়েছে। কোনও জ্বলন্ত ইস্যুতে কৌতুকের মোড়কে বিঁধতে ঋত্বিকের (Ritwick Chakraborty) জুড়ি মেলা যে ভার, সে সম্পর্কে অনুরাগীরা ভালোই অবগত। এবার বাংলায় নির্বাচনী প্রচারে এসে বিজেপির 'বাংলা হোমওয়ার্ক' নিয়ে ঋত্বিকের ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টে সোশাল পাড়ায় শোরগোল।
