প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ৫০ কোটির মানহানি মামলায় স্বস্তিতে কুমার শানু। গায়কের পেশাগত এবং সামাজিক ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, এমন কোনও মন্তব্য করা যাবে না বলে সাফ জানাল বম্বে হাই কোর্ট। মামলার শুনানিতে শানুর আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী সাক্ষাৎকারে যে মন্তব্য করছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সেই মন্তব্যের ফলে শানুর সামাজিক এবং পেশাগত ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তার ফলে মানসিক চাপ এবং আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে গায়কের। এই বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে আদালতের সাফ নির্দেশ, ভবিষ্যতে গায়ককে নিয়ে কোনওরকম ভিত্তিহীন মন্তব্য করা যাবে না। সুতরাং প্রাক্তন স্ত্রীকে সতর্ক করেছে আদালত। তার ফলে স্বাভাবিকভাবেই আদালতের নির্দেশ শানুর পক্ষেই গিয়েছে।
কুমার শানুর ব্যক্তিগতজীবন বরাবরই চর্চায়! যার জেরে একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন গায়ক। মাসখানেক আগে তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা তথা অভিনেত্রী কুনিকা সদানন্দও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন শানুর সঙ্গে তাঁর ‘বিবাহ বহির্ভূত’ সম্পর্ক নিয়ে। তার দিন কয়েক বাদেই গায়কের প্রাক্তন স্ত্রী রীতা এক সাক্ষাৎকারে জানান, “জান যখন গর্ভে ছিল তখন আমাকে খাবার খেতে দেওয়া হত না। শানু বাড়ি থেকে বেরনোর সময়ে হেঁশেলে তালা ঝুলিয়ে যেত। একমুঠো চাল কিনে তখন আমি আমার বউদির বাড়িতে গিয়ে খিচুড়ি রেঁধে খেতাম। এমনকী আমার বাচ্চাদের জন্য দুধ পর্যন্ত আনতে দিত না। আমাকে দিনের খরচ চালানোর জন্য হাতে মাত্র ১০০ টাকা গুঁজে দিত। ডাক্তারকেও বলেছিল, আমাদের খরচ দিতে পারবে না ও। তাই ওকে ‘মানুষ’ বলাটা ভুল হবে। বাচ্চার খাবার অর্ডার করলে, দোকানদার আমাকে সাফ জানিয়ে দিত- দিতে পারব না, সাহেবের মানা রয়েছে।” এখানেই শেষ নয়! গায়কের বিরুদ্ধে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন প্রাক্তন স্ত্রী।
তিনি দাবি করেন, “কুমার শানু ভীষণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগত। তাই আমাকে ঘর থেকে বের হতে দিত না। আমার গর্ভাবস্থায় আমাকে আদালতে পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়েছে। ওই সময়ে ও এক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কেও জড়িয়েছিল। যেটা এখন সকলেই জানেন। আমার বয়স তখন অনেকটাই কম। আমি তো ভেবেছিলাম, আমার জীবনটাই বুঝি শেষ হয়ে গেল। আমার পরিবারও অবাক হয়ে গিয়েছিল এসব দেখেশুনে। গতবছর এক বড় পার্টিতে শানু বলে যে, আমিই নাকি ওর সাফল্যের নেপথ্যে। কিন্তু আমি তো কারণটাই জানি না! এই কুমার শানুই আমাকে আদালতে নিয়ে নিয়ে আমার খোরাক বানিয়েছিল। হেসেছিল।” এসব অভিযোগের পরই নেটপাড়ায় লাগাতার কটাক্ষ, সমালোচনার মুখে পড়তে হয় কুমার শানুকে। যার জেরে গত বছরের অক্টোবর মাসে আইনজীবী সানা রইস খানের মাধ্যমে প্রাক্তন স্ত্রীকে আইনি নোটিস পাঠান কুমার শানু। বম্বে হাই কোর্টে মানহানির মামলা দায়ের করে ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণও চান গায়ক। ওই মামলাতেই স্বস্তি পেলেন শানু।
