ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। একযোগে প্রতিবাদে সরব হয়েছিল রাজ্যের সংস্কৃতিমহল। প্রায় আট বছর আগের এক কবিতাকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতায় জড়ান বিশিষ্ট কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। সংশ্লিষ্ট মামলাতেই শনিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে হাজিরা দেন শিল্পী। শুনানি শেষে শর্তসাপেক্ষে শ্রীজাতর (Srijato) জামিন মঞ্জুর করল আদালত।
একাংশের মতে, এটা বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা। অন্যদিকে বিরোধী পক্ষের দাবি, হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই আদালত পদক্ষেপ করেছে।
জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে এই মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী রোমিত শীল। শ্রীজাতর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৭ সালে যোগী আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর কবি তাঁর ফেসবুক পেজে 'অভিশাপ' নামে একটি কবিতা পোস্ট করেছিলেন। যে কবিতার ছত্রে ছত্রে হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ উঠেছিল। শুধু তাই নয়, সেই কবিতার একটি লাইনে শিবলিঙ্গকে ঘিরে আপত্তিকর মন্তব্যও ছিল বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতেই উনিশ সালে আদালতের দ্বারস্থ হন রোমিত শীল। তবে মামলার প্রেক্ষিতে একাধিকবার আদালতের তরফে কবিকে সমন পাঠানো হলেও নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির দেননি তিনি। এরপর আইনি প্রক্রিয়া মেনে গত গত ২০ এপ্রিল কবির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। নির্বাচনী আবহে যে খবর প্রকাশ্যে আসায় আঙুল উঠেছিল কমিশনের দিকে! কিন্তু ঘণ্টাখানেক বাদেই সেই বিবৃতি জারি করে অভিযোগ নস্যাৎ করে কমিশন।
ভোটের আগে শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। ছবি- সংগৃহীত
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত শর্তসাপেক্ষে কবির জামিন মঞ্জুর করে। জামিনের শর্ত অনুযায়ী, আদালতের অনুমতি ছাড়া কৃষ্ণনগর ও কলকাতার বাইরে যেতে পারবেন না কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিনের আবেদন জানান শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও মামলাকারী সেই জামিনের বিরোধিতা করে দাবি করেন, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছেন, তাই কোনওমতেই যেন শ্রীজাতর জামিন মঞ্জুর না করা হয়। তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত শর্তসাপেক্ষে কবির জামিন মঞ্জুর করে। জামিনের শর্ত অনুযায়ী, আদালতের অনুমতি ছাড়া কৃষ্ণনগর ও কলকাতার বাইরে যেতে পারবেন না কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তাঁকে দুই হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত এপ্রিলেই সাহিত্যমহল ও রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছিল। একাংশের মতে, এটা বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা। অন্যদিকে বিরোধী পক্ষের দাবি, হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই আদালত পদক্ষেপ করেছে। মামলার পরবর্তী শুনানি কোন দিকে গড়ায়? কিংবা এই আইনি লড়াই ভবিষ্যতে কোন দিকে গড়াবে? নজর থাকবে সেদিকে।
বলে রাখা ভালো, বছর কয়েক আগে শ্রীজাতের লেখা ‘অভিশাপ’ কবিতাটি নিয়েই জোর বিতর্ক! যার জেরে এর আগে ফেসবুক থেকে তাঁর কবিতা তুলে নেওয়া, এমনকী কবিকে প্রাণে মারার হুমকি থেকে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ তুলে হিন্দুত্ববাদীদের বিক্ষোভ, এফআইআর – বাদ যায়নি কিছুই! এর আগে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে ধর্মীয় ভাবাবাগে আঘাতের অভিযোগে কৃষ্ণনগর আদালতে মামলা দায়ের হয়েছিল শ্রীজাতর বিরুদ্ধে।
