৪ মে ছাব্বিশের নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর আসন গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। মসনদে বসতেই একেবারে আতসকাচের নীচে রাজ্যের হালহকিকত পর্যালোচনা করছেন। ইতিমধ্যেই একাধিক রদবদলের ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি শুভেন্দুর নজিরবিহীন সিদ্ধান্তকেও সাধুবাদ জানিয়েছে রাজ্যবাসী। এর মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি সারেগামাপা খ্যাত মেদিনীপুরের শিশুশিল্পী অঙ্কনা দের। সঙ্গীত জগতের সুস্থ পরিবেশ থেকে রাতের শোয়ের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার আর্জি জানিয়ে সোশাল মিডিয়ায় শুভেন্দুর উদ্দেশে লম্বা পোস্ট শেয়ার করেছে। মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দুর কাছে কী কী আবদার রাখল অঙ্কনা?
ছোট্ট শিল্পী অঙ্কনা (Ankana Dey) তার খোলা চিঠির শুরুতে শুভেন্দু ও মেদিনীপুরের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে লিখেছে, 'আমি মেদিনীপুরবাসী হিসেবে গর্বিত, আমার রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী আমার জেলার মানুষ। আরও বেশি খুশী তাঁর বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজে মানুষ খুশী হচ্ছেন দেখে।' এরপরই একজন শিল্পী হিসেবে শিল্পজগতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত লিখে শিল্পীমহলের পক্ষে কণ্ঠ তুলল অঙ্কনা। যথোপযুক্ত যুক্তি প্রদর্শন করে রাতের অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কিছু নিয়মাবলী বেঁধে দেওয়ার অনুরোধ করেছে।
অঙ্কনার সংযোজন, 'আমার মতো আরও অনেক শিল্পী যাঁরা খোলা মঞ্চে তাঁদের শিল্প প্রদর্শন করেন। তাঁদের সকলের পক্ষ থেকে একটাই অনুরোধ রাখতে চাই আমাদের প্রিয় মুখমন্ত্রীর কাছে।' এবার দেখে নেওয়া যাক, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে শিল্পীদের কোন কোন অসুবিধার কথা তুলে ধরল। মোট চারটি সমস্যায় আলোকপাত করেছে অঙ্কনা। প্রথমত, 'নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠান শুরু এবং শেষ হলে একটানা অনুষ্ঠান থাকলেও সকলে একটু বিশ্রামের সময় পাবে। আমরা আমাদের সময়মতো পারফর্ম করে এলেও মিউজিশিয়ান আঙ্কেলরা ছুটি পান না। তারপরও হয়তো দুজন শিল্পীর সঙ্গে তাঁদের কাজ করতে হয়।'
দ্বিতীয়ত 'বেশিরভাগ জায়গায় যেখানে দেরিতে শো টাইম থাকে অর্থাৎ ১১টার পর সেখানে সুস্থ শ্রোতার সংখ্যা খুবই কম থাকে। শিল্পীকে তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু গান গাইতে হয় যেগুলিতে তিনি মোটেই স্বছন্দবোধ করেন না।' অঙ্কনার নজরে রয়েছে আরও দুটি সমস্যা, 'বেশি রাত্রিতে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানগুলিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছোটোখাটো বিষয় নিয়েও বড়ো অশান্তির পরিবেশ তৈরী হয়। কারণ অনেক আয়োজক কমিটির কিছু সদস্য এমনই বেসামাল অবস্থায় থাকেন যে নিজেদের মধ্যেই ঝামেলা বাধিয়ে ফেলেন এবং সেই দায় চলে আসে ব্যান্ডের ওপর।'
চতুর্থ পয়েন্টে লেখে, 'বেশি দেরিতে অনুষ্ঠান শুরু হলে শেষ হতে ভোররাত হয়ে যায়। গাড়িচালকরা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনা ঘটার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। যাঁর ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। গত ১২ মে এর অনুষ্ঠানে আমরাও বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচেছি গোপালের কৃপায়।'
পোস্টের শেষ পর্যায়ে আরও একবার মুখ্যমন্ত্রীর (CM Suvendu Adhikari) উদ্দেশে অঙ্কনার আর্জি, 'এই পরিবর্তন এর জন্য কিছু সিদ্ধান্ত নিন। রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় আমার মেদিনীপুরে। আমার গর্বের মেদিনীপুর সবাইকে পথ দেখায়, তাই এই পরিবর্তন টাও আমার গর্বের মেদিনীপুর থেকেই শুরু হোক।'
