বৃষ্টি ভাণ্ডারী: দিন কয়েক ধরেই 'হুমকি সংস্কৃতি'র অভিযোগে তোলপাড় টলিপাড়া। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে সম্প্রতি স্ক্রিনিং কমিটির সদস্যরা লালবাজারে গিয়ে নগরপালের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দিয়ে এসেছেন। নামোল্লেখ না করা হলেও অলিখিতভাবে এই 'নিন্দা প্রস্তাব' যে দেবের বিরুদ্ধে, যাবতীয় অভিযোগ অন্তত সেদিকেই ইঙ্গিত করে। এপ্রসঙ্গে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে সুপারস্টার আক্ষেপ করেছিলেন, "মনে হচ্ছে যেন, গোটা ইন্ডাস্ট্রি দেবের বিরুদ্ধে লড়ছে।" সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে এবার দেবের পাশে দাঁড়িয়ে সংবাদ প্রতিদিন-এর সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন টোটা রায়চৌধুরী।
টলিউডের পাশাপাশি বলিউডের পিচেও বর্তমানে দাপিয়ে ব্যাটিং করছেন টোটা। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই অভিনেতার মন্তব্য, "একজন সুপারস্টার একটি সিনেইন্ডাস্ট্রির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সেটা মাথায় রাখলে ভালো। এইমুহূর্তে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে দু'জন বড় অ্যাসেট। যাঁরা লক্ষ লক্ষ মানুষকে হলে টানতে পারে। একজন জিৎ, আরেকজন দেব। আমার মনে হয়, তাঁদের প্রতি আরেকটু সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। আরেকটু সম্মান দেওয়া উচিত। এতবছরের কঠোর পরিশ্রম, প্রতিভা দিয়ে তাঁরা নিজেদের যে জায়গায় নিয়ে গিয়েছে, সবমিলিয়ে দেব-জিতের একটু স্পেশাল ট্রিটমেন্ট প্রাপ্য। একথায় কে, কী মনে করল? আমার দেখার দরকার নেই। কারণ আমি কারও পরোয়াও করি না।" এখানেই অবশ্য থামেননি ওয়েব প্ল্যাটফর্মের 'ফেলুদা'।
অভিনেতার সংযোজন, "জিৎ এবং দেব আমাদের সুপারস্টার। মাথায় রাখতে হবে, একজন সুপারস্টার একটা ইন্ডাস্ট্রি টেনে নিয়ে যেতে পারে।" সেটা কেমন? উদাহরণস্বরূপ দক্ষিণী সিনেইন্ডাস্ট্রির নাম করে টোটা বললেন, "আজকে যখন তামিল ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা খুব খারাপ হয়েছিল, একা রজনীকান্ত কিন্তু টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন। তারপর আবার নতুন নতুন স্টারেরা আসেন। যেমন বিজয়, অজিত। কিন্তু যখন খারাপ সময় চলছিল, তখন কমল হাসানের সিনেমা ভালো রিভিউ পেলেও প্রেক্ষাগৃহে কিন্তু রজনীকান্তের সিনেমা দেখার জন্যেই লোকেরা ভিড় জমাত। তাই একজন সুপারস্টার একটা ইন্ডাস্ট্রিকে টানার ক্ষমতা রাখে।" অতঃপর একটা সিনেইন্ডাস্ট্রিকে চাঙ্গা রাখতে যে 'সুপারস্টার টনিক' বরাবর কাজ করে এসেছে, দেবের পাশে দাঁড়িয়ে সেকথাই মনে করিয়ে দিলেন টোটা রায়চৌধুরী। পালটা ইন্ডাস্ট্রির অগ্রড অভিনেতাকে ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি টলিউড সুপারস্টার।
