ভারতীয় ক্রিকেটে দীর্ঘতম ঘরোয়া মরশুমের সূচি ঘোষণা করল বিসিসিআই। যেখানে পুরুষ ও মহিলা, উভয় বিভাগের সিনিয়র, অনূর্ধ্ব-২৩, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-১৬ স্তর মিলিয়ে মোট ১,৭৮৮টি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দলীপ ট্রফি দিয়ে মরশুমের সূচনা হবে। তারপর আয়োজিত হবে রনজি। আসন্ন মরশুমে পরিকাঠামোগত একাধিক পরিবর্তনও আনা হয়েছে। ফিরছে সিকে নাইডু ট্রফির ‘উইনার্স বনাম রেস্ট অফ ইন্ডিয়া’ ম্যাচ। সঙ্গে অনূর্ধ্ব-২৩ স্তরের কিছু প্রতিযোগিতা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে করা হবে। পাশাপাশি কোচবিহার ট্রফির নকআউট পর্ব নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগস্টের ২৩ তারিখ থেকে বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে দলীপ ট্রফি দিয়ে শুরু হবে মরশুম। এরপর ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে ক্রিকেটের লড়াই। বিসিসিআই এক বিবৃতিতে জানায়, '২০২৬-২৭ মরশুম আমাদের ঘরোয়া কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ফরম্যাট ও বিভাগে ভারসাম্য বজায় রাখার দিকেও আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।'
দলীপ ট্রফি (২৩ আগস্ট-১০ সেপ্টেম্বর) শেষে শ্রীনগরে অনুষ্ঠিত হবে ইরানি কাপ (১-৫ অক্টোবর)। যেখানে মুখোমুখি হবে রনজি চ্যাম্পিয়ন জম্মু ও কাশ্মীর এবং রেস্ট অফ ইন্ডিয়া। ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে রনজি ট্রফির প্রথম পর্ব। চলবে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ১৭ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি। নকআউট পর্ব ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হবে। সাদা বলের ক্রিকেটেও রয়েছে জমজমাট সূচি। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি হবে ১৪ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বিজয় হাজারে ট্রফি অনুষ্ঠিত হবে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০২৭।
আসন্ন মরশুমে দু’টি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমত, অনূর্ধ্ব-২৩ ওয়ানডে প্রতিযোগিতা এবং ভিজি ট্রফির আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় আসর এবার থেকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হবে। দ্বিতীয়ত, অনূর্ধ্ব-১৬ বিজয় মার্চেন্ট ট্রফির সূচি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নভেম্বর-জানুয়ারি সময়ে, যাতে পড়ুয়া ক্রিকেটাররা ফেব্রুয়ারি-মার্চের বোর্ড পরীক্ষার আগে প্রস্তুতির জন্য বেশি সময় পায়।
মহিলা ক্রিকেটেও রয়েছে ব্যস্ত মরশুম। সিনিয়র মহিলা টি-টোয়েন্টি ট্রফি ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। অন্যদিকে, মহিলাদের ওয়ানডে প্রতিযোগিতা শুরু হবে ১৯ ডিসেম্বর। চলবে বছরের শেষ দিন পর্যন্ত। সব মিলিয়ে বিসিসিআইয়ের এই বিশাল সূচি আবারও প্রমাণ করল, দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামোকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এগোচ্ছে।
