এখন তিনি মূলত একটি ফরম্যাটেই খেললেও, একসময় তিন ফরম্যাটেই দাপিয়ে খেলেছেন বিরাট কোহলি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তরুণদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, শুধু আইপিএল নিয়ে ভাবলে চলবে না, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনটি ফরম্যাটেই খেলার লক্ষ্য রাখতে হবে। একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, কেরিয়ারের এক পর্যায়ে মানসিক চাপে ভুগেছিলেন। যা তাঁকে ভিতরে ভিতরে ক্লান্ত করে তুলেছিল। আর সেই কারণেই ধীরে ধীরে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
আরসিবি'র এক অনুষ্ঠানে কোহলি (Virat Kohli) বলেন, “এটা খুবই বড় চিন্তা। কারণ যখন একটি ফরম্যাট খেলে আপনি দ্রুত প্রচার এবং স্বীকৃতি পান, যখন ২০ বলে ৪০-৫০ রান করলেই খ্যাতি এবং অর্থ চলে আসে, তখন সন্তুষ্ট হয়ে যাওয়ার মানসিকতা চলে আসা খুব স্বাভাবিক।” তাঁর মতে, শুরুতেই ঠিক করে নিতে হবে, আপনি কি শুধুই ছোট ফরম্যাটে সফল হতে চান, না কি দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেট দুনিয়ায় নিজের ছাপ রাখতে চান। “আপনি বলতে পারেন, বেশি চাপ নিতে চাই না। মাঠে নেমে শুধু বল উড়িয়ে দিতে চাই। আবার আপনি এটাও বলতে পারেন, আমি ১৫-২০ বছর ধরে খেলতে চাই। গোটা ক্রিকেটবিশ্বের স্বীকৃতি এবং সম্মান পেতে চাই।” বলেন কোহলি।
তাঁর মতে, শুরুতেই ঠিক করে নিতে হবে, আপনি কি শুধুই ছোট ফরম্যাটে সফল হতে চান, না কি দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেট দুনিয়ায় নিজের ছাপ রাখতে চান।
কোহলি মনে করেন, শীর্ষে পৌঁছতে গেলে শুধু প্রতিভা নয়, দরকার শৃঙ্খলা ও মানসিক দৃঢ়তা। তাঁর সংযোজন, “ওটা একটা আলাদা জগৎ। আপনি ১০-১৫ বছর খেলতে চান এবং যে কোনও পরিস্থিতি সামলানোর জন্য তৈরি, এমন মানসিকতা তৈরি হতে সময় লাগে।” আধুনিক ক্রিকেটারদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করলেও তিনি সতর্ক করেছেন বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে। “এখনকার ক্রিকেটারেরা বড় শট খেলতে পারে। কিন্তু সব সময় বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তো ম্যাচ জেতা যায় না। কঠিন পিচে, ২-৩ উইকেট পড়ে গেলে ১৭৫-১৮০ রান তাড়া করার দক্ষতাও থাকতে হবে। যদি বাউন্ডারি না মারতে পারেন, তাহলে দৌড়ে রান নিয়ে দলকে জেতাতে হবে।” মন্তব্য প্রাক্তন অধিনায়কের।
অধিনায়কত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গেও নিজের মনের কথা খুলে বলেছেন কোহলি। “আমি তখন দলের ব্যাটিংয়ের মুখ ছিলাম। পরে নেতৃত্বের মুখ হয়ে গেলাম। বুঝতেই পারিনি এই চাপ আমাদের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে। শেষে এমন অবস্থা হয়েছিল, অধিনায়কত্ব ছাড়ার সময়ে আমার মধ্যে কিছুই বাকি ছিল না।” তিনি আরও বলেন, “আপনি রান না পেলেও দল জিতলে প্রশ্ন উঠবে। আপনি ভালো খেললেও দল হারলে প্রশ্ন উঠবে। দু'টো বিষয় নিয়েই সব সময় ভাবতে ভাবতে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম।”
কোহলির কথায়, “আমি তখন দলের ব্যাটিংয়ের মুখ ছিলাম। পরে নেতৃত্বের মুখ হয়ে গেলাম। বুঝতেই পারিনি এই চাপ আমাদের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে।”
এই চাপের মধ্যেই তিনি ভুগেছিলেন ‘ইমপস্টার সিনড্রোমে’। এটা এমন এক ধরনের মানসিক অবস্থা, যেখানে নিজের দক্ষতা নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়। “সব সময় মনে হত, আমি হয়তো ভালো খেলছি না। নেটে নামলেও ভাবতাম, তরুণেরা দেখছে। খারাপ অনুশীলন করলে ওরা প্রশ্ন করবে, এই লোকটাই কী করে এত বছর খেলেছে!” এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে পাশে পেয়েছিলেন রাহুল দ্রাবিড় ও বিক্রম রাঠোরকে। “রাহুল ভাই বুঝেছিল বিষয়টা। ওর নিজেরও এমন অভিজ্ঞতা ছিল। বিক্রমও পাশে ছিল। ওদের সাহায্যেই আবার ক্রিকেটটা উপভোগ করতে শুরু করি।”
