সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বছরের শেষ দিনে সাইক্লোনিক ইনিংস উপহার দিয়েছেন সরফরাজ খান। বিজয় হাজারে ট্রফিতে গোয়ার বিরুদ্ধে মাত্র ৭৫ বলে ১৫৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন তিনি। তবুও মন ভালো নেই তাঁর। কারণ এখনও স্বপ্নপূরণ হয়নি। অন্যদিকে, ২৮ বছর বয়সি ক্রিকেটারকে জাতীয় দলে নেওয়ার ব্যাপারে সওয়াল করেছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
এই মরশুমে রনজি ট্রফিতে দুর্দান্ত ছন্দে দেখা গিয়েছে সরফরাজকে। সৈয়দ মুস্তাক আলি টি-টোয়েন্টি ট্রফিতেও দারুণ পারফর্ম করেছেন। আইপিএল নিলামে তার ‘মূল্য’ও পেয়েছেন। চেন্নাই সুপার কিংস তাঁকে ন্যূনতম মূল্য ৭৫ লক্ষ টাকায় কিনেছে। এবার বিজয় হাজারেতেও সেই ধারা বজায় রেখেছেন। গোয়ার বিরুদ্ধে রানের সুনামি তুলে হাঁকিয়েছেন ৯টি চার, ১৪টি ছক্কা। দলও জিতেছে। তবুও তাঁর মনখারাপ। কারণ তাঁর ভাই, সতীর্থ মুশির খান সেঞ্চুরি করতে পারেননি।
সরফরাজ বলছেন, "আমাদের দু'জনেরই একটা স্বপ্ন রয়েছে। একই ম্যাচে দু'জনেই সেঞ্চুরি করতে চাই। এই মরশুমের রনজি ট্রফির কথাই ধরুন। স্বপ্নের কাছাকাছি এসে আমাদের ফিরতে হয়েছিল। দু'জনেই পঞ্চাশের ঘরে আউট হয়ে যাই। গোয়া ম্যাচেও মুশির ভালো খেলছিল। ভেবেছিলাম আজ হয়তো হয়ে যাবে। কিন্তু স্বপ্ন তো আর এত সহজে সফল হয় না।"
তিনি আরও বলেন, "যখন নামি, তখন রানরেট খুব বেশি ছিল না। দুই ওপেনারই প্রথম ঘণ্টার খেলাটা সামলেছিল। সকালের দিকে এমনিতেও ব্যাট করা কঠিন। বল নাড়াচাড়া করছিল। সেই কারণে উইকেটে নিজেকে থিতু হওয়ার জন্য সময় দিচ্ছিলাম। এরপর পিচ সহজ হয়ে যাওয়ায় যতটা বেশি সম্ভব রান করতে চেয়েছি।"
২০২৪-এ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিষেকেই নজর কেড়েছিলেন সরফরাজ খান। তারপর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি। তারপরও দল থেকে বাদ পড়েছেন। আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে খেলেছেন তিনি। পরে পাঞ্জাব কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসে খেললেও কখনই নিজেকে সেভাবে প্রমাণ করতে পারেননি। গত দু’বছর দলই পাননি। উল্লেখ্য, ৫৬ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে রোহিত শর্মার দ্রুততম লিস্ট 'এ' সেঞ্চুরির নজির ভেঙে দেন সরফরাজ। গত সপ্তাহে সিকিমের বিরুদ্ধে ৬২ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন হিটম্যান। বুধবার সেই রেকর্ড ভেঙে গেল। সরফরাজের মারকাটারি ইনিংসের পর গোয়ার বিরুদ্ধে মুম্বই তোলে ৪৪৪ রান।
এই পরিস্থিতিতে অশ্বিন এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ১০০* (৪৭), ৫২ (৪০), ৬৪ (২৫), ৭৩(২২)। সেই ফর্মই বিজয় হাজারে ট্রফিতেও বজায় রেখেছে। প্রথমে ও করল ৪৯ বলে ৫৫ রান। এরপর ১৪টা ছক্কা হাঁকিয়ে ৭৫ বলে দুর্দান্ত ১৫৭ রানের ইনিংসও খেলল। মাঝের ওভারগুলোতে যেভাবে সুইপ কিংবা স্লগ সুইপ মেরে স্পিনারদের দুরমুশ করছিল, তা অনবদ্য। অনেকেই বলছে ও জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ছে। কিন্তু আমার মতে, ও সেই দরজা ভেঙে ফেলেছে। সিএসকে'র উচিত ওর ফর্মের সদ্ব্যবহার করে প্রথম এগারোয় সুযোগ দেওয়া।' উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে গোয়ার বিরুদ্ধে তাঁর ইনিংস বুঝিয়ে দিয়েছে জাতীয় দলে খেলার জন্য তৈরি। এখন দেখার, ভারতীয় দলে সুযোগ পান কি না তিনি।
