সানরাইজার্স হায়দরাবাদের (SRH) টিম বাস ইডেনের সামনে দাঁড়িতেই বেশ কিছু উৎসাহ মানুষ চিৎকার শুরু করে দিলেন। সবাই একজনের খোঁজে?
সবার আগে বাস থেকে নামলেন মুথাইয়া মুরলীধরেন। তারপর একে একে হেনরিক ক্লাসেন, প্যাট কামিন্সরা। কিন্তু তিনি কোথায়?
সবার শেষ নামলেন অভিষেক শর্মা। ভারতীয় তারকা ওপেনার নামতেই ফের একবার চিৎকার। একটু দাঁড়িয়ে ঘুরে দেখলেন অভিষেক। তারপর হাত নাড়লেন। কেকেআর (KKR) খুব ভালো করে জানে, বৃহস্পতিবার ইডেনে জিততে অভিষেককে থামাতে হবে। অবশ্য একা তিনি নন। ট্রাভিস হেড, ঈশান কিষান, হেনরিক ক্লাসেন–সানরাইজার্সের পুরো ব্যাটিং ইউনিটকেই থামাতে হবে। তার মধ্যে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে বোলারদের পারফরম্যান্স বেশ খারাপ। ২২০ রান তোলার পরও হারতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যে কোনও টিমের চিন্তায় থাকার কথা। কিন্তু কেকেআরকে দেখে মনে হবে না তারা খুব একটা চিন্তায় রয়েছে। কে জানে প্রতিপক্ষ হায়দরাবাদে বলে কিনা!
আসলে আইপিএলে (IPL 2026) যে ক’টা টিমের বিরুদ্ধে কেকেআরের রেকর্ড অতীব ভালো, তার মধ্যে সানরাইজার্স একটা। পরিসংখ্যান বলছে, টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত দুটো টিম মুখোমুখি হয়েছে তিরিশ বার। যার মধ্যে কেকেআর জিতেছে কুড়িটায়। দু’বছর আগে সানরাইজার্সকে তিনটে ম্যাচেই (একটা প্লে অফ) হারিয়েছিল কেকেআর)। নাইট টিম ম্যানেজমেন্টের কেউ কেউ বলছিলেন, কেন জানি না, তবে সানরাইজার্সকে দেখলে আরও বেশি তেতে যায় টিম।
আসলে আইপিএলে যে ক’টা টিমের বিরুদ্ধে কেকেআরের রেকর্ড অতীব ভালো, তার মধ্যে সানরাইজার্স একটা। পরিসংখ্যান বলছে, টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত দুটো টিম মুখোমুখি হয়েছে তিরিশ বার। যার মধ্যে কেকেআর জিতেছে কুড়িটায়।
কিন্তু জিততে হলে তো সানরাইজার্স ব্যাটিংকে আটকাতে হবে? সেই পরিকল্পনাও নাইটরা শুরু করে দিয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অফস্পিনারদের বিরুদ্ধে বারবার আউট হয়েছেন অভিষেক। সব টিমই মোটামুটি একটাই স্ট্র্যাটেজি নেয়-শুরুতেই অফস্পিনার নিয়ে এসো। কেকেআর কোচ অভিষেক শর্মার নোটবুক নিশ্চিতভাবে সে’সব লেখা আছে। তাই বৃহস্পতিবার ইডেনে যদি সুনীল নারিনকে দিয়ে বোলিং ওপেন করানো হয়, তাহলে এতটুকু অবাক হবে না। যদিও ওয়াংখেড়েতে প্রথম ম্যাচে কেকেআর স্পিন অস্ত্রের পারফরম্যান্স আহামরি কিছু ছিল না। তবে প্রথম ম্যাচে হারের জন্য বোলারদের দোষারোপ করছে না কেকেআর ম্যানেজমেন্ট। বরং বলা হচ্ছে, ওয়াংখেড়ের পিচে বোলারদের জন্য কিছুই ছিল না। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বোলিং এবারের আইপিএলে অন্যতম সেরা। সেখানে জসপ্রীত বুমরারাও দু’শোর উপর রান দিয়েছেন। বরং ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে টিম কেকেআর।
উইকেট প্রসঙ্গে বলে রাখা যাক, সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে ইডেনেও খুব সম্ভবত একইরকম পিচ হতে চলেছে। অর্থাৎ টার্নার হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। এদিন দূর থেকে পিচ দেখে যা মনে হল, তাতে বেশ ঘাস রয়েছে। যদিও ম্যাচের এখনও একদিন বাকি। এতটা ঘাস হয়তো থাকবে না। তবে পেসাররা কিছুটা হলেও সুবিধে পাবেন। তেমনই ব্যাটারদের শট খেলতে কোনও অসুবিধে হবে না। আশা করা হচ্ছে, ইডেনেও বড় স্কোরের ম্যাচই হবে।
সানরাইজার্স নেটে কামিন্সকে দেখা গেল পুরোদমে বোলিং করছেন। বেশিক্ষণ বোলিং করেননি। কিন্তু যেটুকু করলেন, তাতে আগুন ঝরালেন। তবে কেকেআরের বিরুদ্ধে কামিন্সের খেলার কোনও সম্ভাবনা নেই। তাঁর পুরো ফিট হতে আরও কিছু দিন লাগবে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এখনই তাঁকে খেলার ছাড়পত্র দেবে না। যেমনই এখনমই ক্যামেরন গ্রিনকে বোলিংয়ের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। প্রথম ম্যাচে হারের পর কেকেআর অধিনায়ক গ্রিনের বোলিং না করা প্রসঙ্গে রীতিমতো তিতকুটেভাবে জবাব দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, তাঁকে নয় প্রশ্নটা করা উচিত ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে। যার পাল্টা বিবৃতি আসে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তরফেও। শোনা যাচ্ছিল, এদিন কেকেআর কোনও প্রেস রিলিজ দিতে পারে। কিন্তু সেটা হয়নি। আসলে নাইট ম্যানেজমেন্টও আর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে যেতে চাইছে না। বরং প্রত্যেকটা দিন যোগাযোগ রাখা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে। যদি দ্রুত ছাড়পত্র পাওয়া যায়।
এর বাইরে অবশ্য আর একটা খবর থাকছে। প্রথম ম্যাচে ইডেনের ‘বাদশা-দর্শন’ হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে শোনা গিয়েছিল, সানরাইজার্স ম্যাচ দেখতে ইডেনে থাকতে পারেন শাহরুখ খান। তিনি খুব সম্ভবত আসছেন না। ডিসেম্বরে শাহরুখের নতুন ছবি রিলিজ করবে। আপাতত শুটিংয়ের কাজে ব্যস্ত কিং খান। তবে টিমকে কথা দিয়েছেন, পরের দুটো হোম ম্যাচের যে কোনও একটায় আসবেন তিনি। মুম্বই ম্যাচের আগে টিমের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এবারের টিমে যাঁরা নতুন এসেছেন, তাঁদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথাও বলেন শাহরুখ।
বৃহস্পতিবার সশরীরে উপস্থিত না থাকলে কী হবে, ম্যাচের আগে টিমের কাছে শাহরুখের বার্তা হয়তো পৌঁছে যাবে।
