কেএল রাহুল। ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে 'ক্লাসি' ব্যাটারদের মধ্যে সর্বাগ্রে উচ্চারিত হয় তাঁর নাম। আইপিএলের এ মরশুমে নেহাত ফর্মটাও খারাপ নয়। কিন্তু আবারও প্রশ্নের মুখে সেই স্ট্রাইক রেট। মঙ্গলবার রাতে ২৪২ রান তাড়া করতে নেমে রাহুল ২৩ বলে ৩৭ রান করলেন তিনি। পাওয়ার প্লে-তে খেলা সত্ত্বেও স্ট্রাইক রেট মোটে ১৬০। যা আধুনিক টি-২০ ক্রিকেটে বড়ই বেমানান।
বৈভব সূর্যবংশী, প্রিয়াংশ আর্যরা যেখানে ২০০-২৫০ স্ট্রাইক রেটে খেলে চলেছেন, সেখানে পাওয়ারপ্লে-তে মাত্র ১৬০ স্ট্রাইক রেট নিতান্তই অকিঞ্চিতকর। অথচ এই কেএল রাহুল একটা সময় নিজেও ২০০-র উপর স্ট্রাইক রেটে খেলতেন। ওপেনার হিসাবে তাঁর বিধ্বংসী রূপ আইপিএলে বহুবার দেখা গিয়েছে। কিন্তু ইদানিং যেন দ্রুতগতির ইনিংস খেলার চেষ্টাটাই হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। ফলস্বরূপ সোশাল মিডিয়ায় উপহার পাচ্ছেন বিদ্রুপ। কেউ বলছেন, "টি-টোয়েন্টিতে তিনি নিতান্তই অচল আধুলি।" কারও কারও মতে, "রাহুলকে আউট না করাটাই দিল্লির বিরুদ্ধে জয়ের চাবিকাঠি।"
রাহুলকে তোপ দাগতে ছাড়ছে না দলের ম্যানেজমেন্টও। হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে প্রথম ৬ ওভারে ৫৯ রান তুলেছিলেন রাহুলরা। যা দেখে ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট ভেনুগোপাল রাও বলে দিলেন, "টপ অর্ডারের ব্যর্থতাই ম্যাচটা হারিয়ে দিল। আমাদের উচিত ছিল পাওয়ারপ্লে-তে অন্তত ৮০-৯০ রান টার্গেট করে খেলা। সেখানে আমরা মাত্র ৫৯ করেছি। ওখানেই আমাদের ২০টা রান কমে গিয়েছে।" রাও অবশ্য শুধু রাহুলকে দায়ী করেননি। রাহুল পাওয়ারপ্লে-তে সেভাবে স্ট্রাইক না পাওয়াটাও ফ্যাক্টর বলে মনে করছেন তিনি। তিনি নিশানা করছেন নীতীশ রানাকেও। পাওয়ারপ্লে-তে এসে তিনি বহু বল হজম করে গিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার প্রথমে ব্যাটিং করে অভিষেক শর্মার সেঞ্চুরির ইনিংসে ভর করে ২৪২ রানের পাহাড় গড়ে সানরাইজার্স। জবাবে দিল্লি ক্যাপিটালসের ইনিংস থামে মাত্র ১৯৫ রানে। ৪৭ রানে জিতে পয়েন্ট টেবিলের তিনে পৌঁছে যায় অভিষেকের দল। দিল্লির এই হারের নেপথ্যে পাওয়ারপ্লে-র স্লো ব্যাটিংকেই দায়ী করছেন সমর্থকরা।
