সন্ত্রাসে জেরবার পাকিস্তান থেকে সরছে পিএসএল! অন্তত তেমন সম্ভবনাই তৈরি হয়েছে। বিপাকে পড়া পাক বোর্ডের 'প্ল্যান বি' তৈরি রাখছে। কী সেই পরিকল্পনা? সৌদি আরবের জেদ্দায় স্টেডিয়াম তৈরি করতে চলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সৌদি আরব ক্রিকেট ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে তারা। ইতিমধ্যেই পিসিবি'র গভর্নিং বোর্ড এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এবারের পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সামনে এসেছে। জঙ্গি সংগঠনের হুমকি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং ড্রোন হামলার আশঙ্কা - সব মিলিয়ে বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ফলে অনেক বিদেশি তারকা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিয়ে দ্বিধায় পড়েছেন, কেউ কেউ আবার নামও প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এর মধ্যে আসবে অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারের নাম। ব্যক্তিগত কারণ এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে পিএসএল থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।
এবারের পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সামনে এসেছে। জঙ্গি সংগঠনের হুমকি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং ড্রোন হামলার আশঙ্কা - সব মিলিয়ে বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
তাছাড়াও অনেক ক্রিকেটারই মনে করেছেন, টুর্নামেন্টের গুণমান, আর্থিক প্রাপ্তি এবং জৌলুস - সবদিক থেকেই আইপিএল অনেকটাই এগিয়ে পিএসএলের তুলনায়। সেই কারণেই অনেকে পিএসএলের বদলে আইপিএলে খেলার দিকেই ঝুঁকেছেন অনেক ক্রিকেটার। এর মধ্যে ব্লেসিং মুজারাবানি, ম্যাথিউ শর্ট, জেসন হোল্ডার, টিম সাইফার্টের মতো খেলোয়াড়রা রয়েছেন। আইপিএলে প্রতিযোগিতার মানের পাশাপাশি আর্থিক নিরাপত্তা ও বিশ্বজোড়া প্রচার দু'টিই বেশি নিশ্চিত।
অনেকেই বলছেন, সৌদি আরবে ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা এই কারণেই নিয়েছে পাকিস্তান। যাতে ভবিষ্যতে এই ভেন্যুতে পাকিস্তান সুপার লিগের ম্যাচ আয়োজন করতে পারে পাকিস্তান বোর্ড। পিসিবি সূত্রে খবর, সৌদি বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। স্টেডিয়াম নির্মাণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে ইতিমধ্যেই একটি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
অনেক ক্রিকেটারই মনে করেছেন, টুর্নামেন্টের গুণমান, আর্থিক প্রাপ্তি এবং জৌলুস - সবদিক থেকেই আইপিএল অনেকটাই এগিয়ে পিএসএলের তুলনায়।
যদিও পাকিস্তান বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে অন্য কথা। তাদের সাফাই, "পিসিবি সৌদি আরবে ক্রিকেটের প্রসার ঘটাতে চায়। ভবিষ্যতে পিএসএলের কিছু ম্যাচও সেখানে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনও চূড়ান্ত চুক্তি সই হয়নি। সৌদি ক্রিকেট কর্তৃপক্ষই প্রথম পিসিবি'র সঙ্গে যোগাযোগ করে। তেলসমৃদ্ধ এই দেশটি ক্রিকেট জনপ্রিয় করতে আগ্রহী। তারা নিজেদের টি-টোয়েন্টি লিগ চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে।" প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামটি হবে আন্তর্জাতিক মানের। সেখানে ফ্লাডলাইট, আধুনিক পরিকাঠামো এবং বড় ম্যাচ আয়োজনের উপযোগী দর্শকাসনও গড়ে তোলা হবে। পিএসএলের ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
দুই দেশের কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি সৌদি আরবে বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানি ও দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীরা থাকেন। যা এই পরিকল্পনাকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলছে। এখনও পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রধান কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, দুবাই, আবু ধাবি এবং শারজা। এই তিনটি ভেন্যু দীর্ঘদিন ধরে টেস্ট, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করে আসছে। ২০১০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত পাকিস্তানের 'হোম' সিরিজও অনুষ্ঠিত হয়েছে এই দেশেই। ২০১৬ সালে পিএসএলের যাত্রাও শুরু হয়েছিল দুবাইয়ে। এই পরিস্থিতিতে জেদ্দায় নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রিকেট মানচিত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। তবে সেসব যে নেহাতই 'ছেলেভুলানো ছড়া', তা আর বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
