পারফরম্যান্স করেও জাতীয় দল থেকে ব্রাত্য তিনি। কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও বাদ পড়েছেন বাংলার এই পেসার। তিনি মহম্মদ শামি। অনেকেই বলছেন, তিনি হয়তো ভারতের জার্সিতে শেষবার খেলে ফেলেছেন। এবার লখনউ সুপার জায়ান্টসের জার্সি গায়ে তাঁর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। দিল্লি ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে নামার আগে জাতীয় নির্বাচকদের কাঠগড়ায় তুললেন তিনি।
আইপিএলে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বোলিং বিভাগকে নেতৃত্ব দেবেন মহম্মদ শামি (Mohammed Shami )। কিন্তু জাতীয় দলে এখনও ব্রাত্য। ১২ বছর ধরে ভারতীয় বোলিংয়ের মূল ভরসা ঘরোয়া ক্রিকেটে একইভাবে ভরসা জুগিয়ে চলেছেন। প্রতি ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এই মরশুমে বাংলা যে রনজির সেমিফাইনাল খেলল, সেটার অন্যতম কারিগর মহম্মদ শামি। তা সত্ত্বেও ভারতীয় দলে ডাক পাননি। এই পরিস্থিতিতে তাঁর প্রশ্ন, কেন তাঁকে টি-টোয়েন্টি বোলার হিসাবে ধরা হবে না?
শুভঙ্কর মিশ্রের পডকাস্টে শামি বলেন, "কারওর কি সত্যিই আমার পরিসংখ্যান দেখার প্রয়োজন রয়েছে? আমার মনে হয় না। প্রতিভা ও দক্ষতা থাকলে পরিসংখ্যানে কিছু যায় আসে না। আপনি ভালো খেললে আপনার ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।" সাদা বলের ক্রিকেটে গত এক দশকে বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার তিনি। বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠাটা যেন তাঁর কাছে জলভাত। শেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দেশের মাটিতে ৭ ইনিংসে ২৪ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন সর্বোচ্চ শিকারী।
এরপর অবশ্য নিজেই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন শামি। "আইপিএলের পরিসংখ্যানের দিকে তাকান। আমার ধারেকাছে কোনও ভারতীয় বোলার আছে? তার পরেও আমি টি-টোয়েন্টির বোলার নই! গত পাঁচ-ছ'বছরে ১৩০ উইকেট নিয়েছি। আমাকে আর কী করতে হবে?" বলছেন শামি। উল্লেখ্য, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ৭ ম্যাচে ১৬ উইকেট পেয়েছেন তিনি। ২০২০ থেকে ২০২৫ - এই পাঁচ বছরে আইপিএলে ৫৬ ম্যাচে ৭৩ উইকেট নিয়েছেন শামি। তবে তিনি যে সবার থেকে অনেকটা এগিয়ে, এমন দাবি ঠিক নয়। একই সময়ে জশপ্রীত বুমরাহ, আভেশ খান, অর্শদীপ সিং এবং হর্ষল প্যাটেল - এই চার পেসার শামির চেয়েও বেশি উইকেট নিয়েছেন।
এ তো গেল টি-টোয়েন্টির কথা। ওয়ানডের কথা ধরলেও অপ্রতিরোধ্য তিনি। তিনটে বিশ্বকাপ মিলিয়ে ১৮ ম্যাচে ৫৫ উইকেট রয়েছে শামির। সব মিলিয়ে অন্তত ২০ উইকেট নিয়েছেন, এমন বোলারদের মধ্যে স্ট্রাইক রেটের বিচারে তাঁর ধারেকাছে নেই কেউ। শেষ বিশ্বকাপে দেশের মাটিতে ৭ ইনিংসে ২৪ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন সর্বোচ্চ শিকারী। বছর খানেক আগে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতাতেও বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। পুরো ফিট না হয়েও প্রতিযোগিতায় নেনে ৯ উইকেট। তবে তারপর থেকেই জাতীয় দলে ব্রাত্য শামি।
