জয়ের হ্যাটট্রিকের সুযোগ হারিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। আরসিবি’র দেওয়া ১৫৬ রান ১৫.৫ ওভারে তাড়া করে জেতে গুজরাট টাইটান্স। শুভমান গিলরা জয়ের হাসি হাসলেও ক্যাচ নিয়ে বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে তারা। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সেই ক্যাচটি নিয়েছেন জেসন হোল্ডার। বিতর্কিত আউটের পর সাজঘরে ফেরেন আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদার।
তবে এই ক্যাচ নিয়ে আপত্তি তুলেছে বেঙ্গালুরু শিবির। তাদের দাবি, হোল্ডার ক্যাচ নেওয়ার সময় বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ছিল না। তা মাটিতে স্পর্শ করেছিল। এই সিদ্ধান্তেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিরাট কোহলি ও কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। মাঠের পাশেই চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে তাঁদের তর্কাতর্কিত পরিস্থিতিও তৈরি হয়। আরসিবি শিবিরের মতে, ক্যাচটি সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই বল মাটিতে লেগে গিয়েছিল। তাই সিদ্ধান্তটি একেবারেই সঠিক ছিল না।
তবে আম্পায়াররা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে পাতিদারকে আউট ঘোষণা করেন। ম্যাচের পরও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় কোহলিকে। পরে ভুবনেশ্বর কুমারও জানান, "ওই জায়গায় ছিলাম না। দূর থেকে দেখেছি। মনে হয়েছে বল মাটি ছুঁয়েছে। তবে আম্পায়াররা কী যুক্তিতে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তা জানি না। আমাদের শুধু মনে হয়েছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি আরও ভালোভাবে দেখা উচিত ছিল।" এই বিতর্কিত ক্যাচ নিয়ে আইপিএলের টেকনিক্যাল কমিটিতে অভিযোগ জানাতে পারে আরসিবি। এমন ইঙ্গিতও মিলেছে ম্যাচ শেষে।
ক্যাচ নিয়ে ক্ষুব্ধ কোহলি। ছবি সংগৃহীত।
এমসিসি'র নিয়ম অনুযায়ী, ক্যাচ তখনই সম্পূর্ণ ধরা হয় যখন ফিল্ডার বলের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন। ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়ার মতে, হোল্ডার ক্যাচ নেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মাটিতে স্লাইড করার মুহূর্তে বলের স্পর্শ মাটিতে লেগেছে কি না, সেটাই প্রশ্ন তৈরি করেছে। বলেন, "সকলে যা দেখেছে, আমিও তাই দেখেছি। আমারও মনে হয়েছে বল মাটি স্পর্শ করেছিল। তাই পাতিদার হয়তো আউট ছিল না। তবে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত আলাদা ছিল।" প্রাক্তন ক্রিকেটার ডোড্ডা গণেশও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন। তাঁর মতে, প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও এমন সিদ্ধান্ত আরও পরিষ্কার হওয়া উচিত ছিল।
উল্লেখ্য, আরশাদ খানের করা শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি রাজত পাতিদার। বলটি অনেক উঁচুতে উঠে ডিপ অঞ্চলের দিকে যায়। ক্যাচ নিতে ছুটে আসেন গুজরাটের দুই ফিল্ডার। প্রথমে কাগিসো রাবাডা বলটির কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। শেষ মুহূর্তে জেসন হোল্ডার এগিয়ে এসে ক্যাচটি তালুবন্দি করেন। তবে রিপ্লেতে দেখা যায়, ক্যাচ সম্পূর্ণ করার সময় হোল্ডারের হাত বা বল মাটিতে স্পর্শ করেছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ফলে সিদ্ধান্ত তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে যায়। দীর্ঘক্ষণ রিপ্লে দেখার পর পাতিদারকে আউট ঘোষণা করা হয়।
