টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরেই শুরু হবে আইপিএল। তবে এখনও ঠিক হয়নি কোন স্টেডিয়ামে খেলবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। মাঝে অবশ্য তাদের নতুন হোম ভেন্যু হিসাবে নবি মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামের নাম উঠে এসেছিল। কিন্তু সে গুড়ে বালি। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বেঁকে বসায় রোহিত শর্মাদের ঘরের মাঠে বিরাট কোহলিদের খেলার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না।
প্রাথমিকভাবে পুণেকে হোম ম্যাচ হিসাবে ঘোষণা যায় কি না ভাবছিল বেঙ্গালুরুর দলটি। কিন্তু ওই মাঠে এবার খেলবে রাজস্থান। সেকারণেই আরসিবি ছত্তিশগড় ও নবি মুম্বইয়ে খেলার কথা চিন্তাভাবনা করছিল। রায়পুরের স্টেডিয়ামের সুযোগসুবিধা পছন্দ হয় আরসিবি কর্তাদের। এই স্টেডিয়ামটিতে ইদানীং বিভিন্ন অবসরপ্রাপ্তদের লিগের খেলাও হচ্ছে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় ছিল আরসিবি'র ঘরের মাঠ হিসাবে নবি মুম্বইকে বেছে নেওয়া। ওই স্টেডিয়ামটি ভারতীয় ক্রিকেটের আর এক মহাতারকা রোহিত শর্মার বাড়ির খুব কাছের। রোহিতের বেড়ে ওঠার নেপথ্যে ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামের বড় ভূমিকা আছে। এখনও ওই স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেন হিটম্যান। সেদিক থেকে দেখতে গেলে ওটা তাঁর হোম স্টেডিয়াম। আইপিএলে সেখানে খেলা হচ্ছে না আরসিবি'র।
জানা গিয়েছে, ডিওয়াই পাটিলে আইপিএলের ম্যাচ খেলার জন্য আরসিবি'র তরফে প্রয়োজনীয় আবেদন করা হলেও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স তা খারিজ করে দিয়েছে। কেন অনুমতি দিল না মুম্বই? সূত্রের খবর তাদের যুক্তি ছিল, যেখানে ভারতের অন্য স্টেডিয়াম তৈরি রয়েছে, সেখানে নবি মুম্বইয়ের মাঠে কেন খেলা হবে? আরসিবি আগে অন্যত্র চেষ্টা করুক। সেখানে তারা মাঠ না পেলে রয়েছে ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়াম। তারা আরও জানায়, পুণে, রাজকোট, রায়পুর, ইন্দোর, বিশাখাপত্তনমের মতো শহরে যাক আরসিবি। যদিও সেখানে আইপিএলের ম্যাচ হয় না। তবে সেখানকার স্থানীয় সমর্থনও বেশ ভালো। তাই ওখানকার স্টেডিয়ামে আরসিবি খেললে সমর্থনদের দিকটা ভেবে দেখতে হবে না।
এ ব্যাপারে আরও একটা টুইস্ট রয়েছে। বেঙ্গালুরু যাতে আইপিএলের ম্যাচ চিন্নাস্বামীতে খেলতে পারে, সে ব্যাপারে কর্নাটক সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হল, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আর ওই অভিশপ্ত স্টেডিয়ামে ফিরতে চাইছে না। আরসিবি আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকেই বিপাকে চিন্নাস্বামী। দলের সেলিব্রেশনের সময় স্টেডিয়ামের বাইরে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়। চিন্নাস্বামীর উপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। গত আইপিএলের পর থেকে আর কোনও ম্যাচ আয়োজিত হয়নি ওই স্টেডিয়ামে। যদিও সদ্য কর্নাটক সরকার চিন্নাস্বামীতে খেলার ছাড়পত্র দিয়েছে। রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার জোর গলায় বলেও দিয়েছেন, আইপিএলের ম্যাচ কোথাও সরবে না। বেঙ্গালুরুবাসীকে তাঁদের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হতে হবে না। কিন্তু আরসিবি কর্তৃপক্ষ ঠিক করে ফেলেছে চিন্নাস্বামীতে আর খেলা নয়। এখন দেখার, শেষমেশ এ ব্যাপারে বরফ গলে কি না।
