এখনও পর্যন্ত ভারতের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জেতেনি নিউজিল্যান্ড। সেই 'অসাধ্য' সাধনের লক্ষ্যে ইন্দোরের হোলকার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নামে কিউয়িরা। অন্যদিকে শুভমান গিলের ভারত নেমেছিল ব্রেসওয়েলদের হারিয়ে সিরিজ জয়ের জন্য। নিউজিল্যান্ডের কাছে রাজকোটে ওয়ানডে হার কিছুটা হলেও চাপে ফেলে দিয়েছে ভারতীয় টিমকে। সেই চাপকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এটা ফিরে আসার ম্যাচ টিম ইন্ডিয়ার কাছে। সিরিজ নির্ণয়ের সেই ম্যাচে শুরুটা ভালো করেও খেই হারিয়ে ফেললেন ভারতীয় বোলাররা। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ড্যারিল মিচেল-গ্লেন ফিলিপসের জোড়া সেঞ্চুরিতে ভারতের সামনে ৩৩৮ রানের লক্ষ্য রাখল নিউজিল্যান্ড।
দু’টো দলের কাছেই ম্যাচটা জীবন-মৃত্যুর। যারা জিতবে, সিরিজ তাদের। এই পরিস্থিতিতে গৌতম গম্ভীরকে সবচেয়ে বেশি চিন্তায় রেখেছিল বোলিং। রাজকোটে ভারতীয় বোলিংকে বেশ নির্বিষ দেখিয়েছে। ভারতের চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ডারেল মিচেলের ফর্ম। ২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে দু’টো সেঞ্চুরি করেছিলেন। রাজকোটেও সেঞ্চুরি করে ম্যাচ জেতান মিচেল। সবচেয়ে বড় কথা ভারতীয় স্পিনারদের যেভাবে পাল্টা আক্রমণ করলেন মিচেল, সেটার কোনও জবাব ছিল না অর্শদীপ, সিরাজ, কুলদীপদের কাছে। রাজকোটে যেখানে শেষ করেছিলেন, ঠিক সেখান থেকেই যেন ইন্দোরে শুরু করলেন।
রবিবার টসে জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠান ভারত অধিনায়ক শুভমান। শুরুটা অসাধারণ করে ভারীয় বোলাররা। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে হেনরি নিকোলাস (০)-কে ফেরান 'অবশেষে' সুযোগ পাওয়া অর্শদীপ। পরের ওভারে হর্ষিত রানার বলে সাজঘরে ফেরেন ডেভন কনওয়ে (৫)। কিছুটা লড়াই করে ব্যক্তিগত ৩০ রানে আউট হন উইল ইয়ং। তাঁকে ফেরান হর্ষিত।
এর পরেই কার্যত পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন মিচেল-ফিলিপস। ১৭৬ বলে ২০০ রানের জুটি গড়েন তাঁরা। দুরন্ত ফর্ম বজায় রেখে অনবদ্য সেঞ্চুরি হাঁকান মিচেল। সেঞ্চুরি করেন ফিলিপসও। যদিও সেঞ্চুরি ইনিংস বেশি দূর নিয়ে যেতে পারেননি ফিলিপস। তাঁর ৮৮ বলে ১০৬ রানের ইনিংসটি সাজানো ৯টি চার ৩টি ছক্কা দিয়ে। অর্শদীপের বলে আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২১৯ রানের জুটিও ভাঙে। হয়তো এই ব্রেক থ্রু'রই অপেক্ষা করছিল টিম ইন্ডিয়া।
ফিলিপসের পরেই ১৩১ বলে ১৩৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে সিরাজের বলে কুলদীপের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন মিচেলও। ১৫টি চার, ৩টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। মিচেল হে (২)-কে নামমাত্র রানে ফেরান কুলদীপ। একটা সময় মনে হচ্ছিল নিউজিল্যান্ড সহজেই সাড়ে তিনশোর গণ্ডি পেরিয়ে যাবে। তবে স্লগওভারে ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সাড়ে তিনশোর অনেক আগেই আটকে গেলেন কিউয়িরা। তিনটি করে উইকেট নিলেন অর্শদীপ, হর্ষিত। তবে ১০ ওভারে ৮৪ রান দিলেন গম্ভীরের 'প্রিয়পাত্র'। সিরাজ, কুলদীপের শিকার ১টি করে উইকেট। 'স্যর' জাদেজা এদিনও উইকেট শূন্য থাকলেন। ৫০ ওভারে নিউজিল্যান্ডের রান ৮ উইকেটে ৩৩৭। এখন সকলে তাকিয়ে রো-কো'র দিকে। কেবল রোহিত-বিরাট নন, পুরো ব্যাটিং ইউনিটকেই তাদের 'ক্ষমতা' দেখাতে হবে। কারণ লক্ষ্যটা কিন্তু মোটেও কম নয়।
