দীর্ঘ টালবাহানা, বিতর্ক, অজুহাতের পর আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) থেকে ছাঁটাই হয়েছে বাংলাদেশ। এরপর থেকে 'ভ্রাতৃস্নেহে' বুঁদ হয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়ে চলেছে পাকিস্তান। কিন্তু সেসব 'আইওয়াশ'। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান নাকি ইতিমধ্যেই কলম্বোর বিমানের টিকিট বুক ফেলেছে।
'টেলিকম এশিয়া স্পোর্ট' সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজ খেলে কলম্বোয় যাবে। সঙ্গে অজি দলও থাকবে। উল্লেখ্য, ‘টেলিকম এশিয়া স্পোর্ট’-এর আরও একটি রিপোর্টে জানা গিয়েছিল, অপেক্ষার খেলাও খেলতে পারে পাকিস্তান। ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে পাকিস্তান। সলমন আলি আঘারা ১০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে। দু’টো ম্যাচ জিতে পাকিস্তান যদি সুপার এইটে ওঠা নিশ্চিত করে, তাহলে তারা ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ ‘বয়কট’ করতে পারে।
বাংলাদেশের সঙ্গে সৎ মায়ের মতো আচরণ করেছে আইসিসি। এই অভিযোগ তুলে বিশ্বকাপ বয়কট করার কথা ভাবছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তারা বিশ্বকাপ খেলবে কি না, তা জানা যাবে শুক্র অথবা সোমবার। গত সোমবারই বিশ্বকাপ বয়কটের ব্যাপারে পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন বোর্ডের প্রধান মহসিন নকভি। ১৫ ফেব্রুয়ারি মুখোমুখি হওয়ার কথা দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। প্রতিবেদন অনুসারে, “পাকিস্তান যদি প্রথম দুই ম্যাচ জেতে, তাহলে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” তবে এর মধ্যেই উঠে এল পাকিস্তানের কলম্বোর বিমানের টিকিট কেটে ফেলার খবর।
অনেকেই বলছেন, "মুখেন মারিতং জগৎ! মুখেই হম্বিতম্বি করলেও বিশ্বকাপ বয়কটের 'মুরোদ' নেই মহসিন নকভির।" আইসিসি ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, বিশ্বকাপ না খেললে বার্ষিক চুক্তির টাকা পিসিবি পাবে না। সে ক্ষেত্রে ৩১৬ কোটি টাকা লোকসান হবে বাবরদের ক্রিকেট বোর্ডের। এই টাকা না পেলে পাক ক্রিকেটের কার্যত ভিখারির দশা হবে। তাছাড়াও জানা গিয়েছে, পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারি, সামরিক বাহিনী এবং পিসিবি'র প্রাক্তন দুই চেয়ারম্যান নাজম শেঠি ও রামিজ রাজার পরামর্শও গ্রহণ করেছেন নকভি। তাঁদের মত, পাকিস্তান যেন বিশ্বকাপে অংশ নেয়। এমনকী ভারত ম্যাচও তারা যেন বয়কট না করে।
