বাংলাদেশের ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে আসা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিস্তর জলঘোলা হয়েছে ক্রিকেট মহলে। এবার নতুন বিতর্ক। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন তারকার দাবি, তাঁকেও বিশ্বকাপ খেলতে আসার ভিসা দিচ্ছে না ভারত। যার ফলে তাঁর এদেশে বিশ্বকাপ খেলতে আসা নিয়ে রীতিমতো সংশয় তৈরি হয়েছে।
এ বছরও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে আমেরিকা। ২০২৪ সালে এই আমেরিকা রীতিমতো চমক দিয়েছিল। যদিও নামে আমেরিকার দল হলেও মূলত দক্ষিণ এশিয়া এবং ইউরোপের কিছু ক্রিকেটারকে নিয়ে এই দলটা তৈরি। সরকারিভাবে দল ঘোষণা না হলেও এবারেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দলে একাধিক ভারত ও পাক বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার সুযোগ পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন ডানহাতি পেসার আলি খান। একটা সময় পাক বংশোদ্ভূত এই মার্কিন পেসার কেকেআরের জার্সিও গায়ে চাপিয়েছেন। সেই আলি খানের দাবি, বিশ্বকাপের জন্য ভারত তাঁকে ভিসা দিচ্ছে না।
সম্প্রতি একটি ম্যাচ জেতার পর ইনস্টাগ্রামে ওই ক্রিকেটার লিখেছেন, ভারতীয় ভিসার আবেদন করা সত্ত্বেও তিনি ভিসা পাননি। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি পাক বংশোদ্ভূত বলেই আলি খানের ভিসা আটকাল দিল্লি। বলে রাখা দরকার, আলির জন্ম ও বেড়ে ওঠা পাকিস্তানে। ১৯ বছর বয়সে তিনি আমেরিকায় গিয়ে ক্রিকেট খেলা শুরু করেন। যদিও সত্যিই তাঁর ভিসা বাতিল করা হয়েছে কিনা দিল্লির তরফে কিছু জানানো হয়নি। তবে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের ভারতের ভিসা পেতে সমস্যা হওয়াটা নতুন কিছু নয়। এর আগেও একাধিক পাক বংশোদ্ভূত ক্রীড়াবিদ ভারতের ভিসা পেতে সমস্যায় পড়েছেন। সেই তালিকায় শোয়েব বশির, শাকিব মেহমুদের মতো ইংরেজ ক্রিকেটাররাও রয়েছেন। প্রশ্ন হল, যদি ভারত শেষ পর্যন্ত পাক বংশোদ্ভূতদের ভিসা না দেয়, তাহলে একা আলি নন আরও বহু দেশের বহু ক্রিকেটারই সমস্যায় পড়বেন। সেই তালিকায় আমেরিকারও আরও তিন ক্রিকেটার সায়ান জাহাঙ্গীর, মহম্মদ মহসিন এবং এহসান আদিলও একই সমস্যায় পড়তে পারেন। যদিও বিষয়টি আইসিসির নজরে এলে এই সমস্যা মিটে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ভারতে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। মঙ্গলবার আইসিসি আরও একবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ তারা প্রকাশ করেছে সেটার সারবত্ত্বা নেই। ভারত থেকে ম্যাচ সরানো যাবে না। তাই নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুক বিসিবি। পালটা বিসিবিও জানিয়ে দিয়েছে, তাদের পক্ষে ভারতে দল পাঠানো সম্ভব নয়। ফলে যা পরিস্থিতিতে তাতে অচলাবস্থা কাটার সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
