এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ভারতে আটকে থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফরা। সূত্রের খবর, সোমবারই কলকাতা ছেড়ে নিজের দেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন ক্যারিবিয়ান কোচ ড্যারেন স্যামি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বাকি ক্রিকেটাররা সম্ভবত মঙ্গলবার দেশে ফিরবে। যদিও সেটা এখনও নিশ্চিত নয়।
এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইরানের উপর যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। তার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ। তার জেরেই ভারতে আটকে পড়েছেন বিশ্বকাপ খেলতে আসা ক্রিকেটাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা, দুই দলই নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলেছিল ইডেন গার্ডেন্সে। ১ মার্চ সুপার এইটের শেষ ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায় ক্যারিবীয়দের। গত ৪ মার্চ সেমির যুদ্ধে কলকাতায় মুখোমুখি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই ম্যাচে হেরে প্রোটিয়ারা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায়।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, গত শনিবার আকাশপথ আংশিকভাবে খোলার পর সবার আগে ভারত থেকে লন্ডনের বিমান পেয়েছে ইংল্যান্ড। যা নিয়ে আবার বিতর্কও হয়েছে। ইংল্যান্ডেরই প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল ভন বলছেন, 'ইংল্যান্ড বৃহস্পতিবার ছিটকে গিয়ে শনিবার দেশে ফিরল। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকা আগে বিদায় নিলেও এখনও কলকাতায় আটকে। ক্ষমতার অপব্যবহার এটাকেই বলে। এই পরিস্থিতিতে সব দলকেই সমান চোখে দেখা উচিৎ। কোনও দেশের বোর্ড বেশি ক্ষমতাশালী, সেটা বিচার করা ঠিক নয়।’ বস্তুত তাঁর ইঙ্গিত ছিল বোর্ড শক্তিশালী হওয়ায় ইংল্যান্ড ক্রিকেটাররা আগে আগে বাড়ি ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু বোর্ড দুর্বল হওয়ায় বঞ্চিত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটাররা।
সেই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে আইসিসি। এই ইস্যু নিয়ে আইসিসির এক কর্তা জানিয়েছেন, ক্রিকেটারদের দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে কোনও পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যখন যেমন সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে, তখন তেমন ক্রিকেটারদের দেশে পাঠানো হচ্ছে। সুবিধাজনক অবস্থান থাকার জন্যই ইংল্যান্ড আগে বাড়ি ফেরার সুযোগ পেয়েছে। তবে এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটাররাও বাড়ি ফিরতে চলেছেন।
