‘ভারতবিদ্বেষী’ পাকিস্তানি পেসারকে সপাটে চড় আফ্রিদির। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বারবার তিনি ‘ভারত হেরে যাবে’ বলে বুলি আউরেছেন। যদিও ঘটেছে তার উলটোটা। নজির গড়ে বিশ্বজয় করেছেন সূর্যকুমাররা। মেগা টুর্নামেন্ট শেষ হতেই এবার ফাঁস তাঁর গড়াপেটার কেচ্ছা। কুখ্যাত স্পট ফিক্সিং কাণ্ডে নাম জড়িয়েছিল তাঁর। এরপর নির্বাসনের খাঁড়াও নেমে আসে। এবার এর নেপথ্যে থাকা এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার। তাঁর দাবি, গড়াপেটার কেচ্ছার কথা প্রথমে মেনে নেননি। সোজা আঙুলে ঘি উঠছে না দেখে তাঁকে কষিয়ে চড় মারেন আফ্রিদি। এরপর হুড়মুড়িয়ে একবাক্যে অপরাধ স্বীকার করেন পাক পেসার।
‘গুণধরে'র নাম মহম্মদ আমির। হালফিলে তিনি ক্রিকেট বিশ্লেষক কম, 'জ্যোতিষী' বেশি। তাঁর নিশানার একটাই ক্ষেত্র। ভারত। বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়া 'এটা পারবে না সেটা পারবে না' বলেই পাক্কা একটা মাস কেটে গিয়েছে তাঁর। সেই আমিরই ২০১০ সালে কুখ্যাত স্পট ফিক্সিং কাণ্ডে জড়িয়ে দেশের নাম ডুবিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট চলাকালীন ইচ্ছা করে নো বল করেন মহম্মদ আসিফ এবং মহম্মদ আমির। এবার পাকিস্তানি টিভি শো-এ পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার আবদুল রাজ্জাক এই প্রসঙ্গে জানান, ইংল্যান্ড সফরের সময় গড়াপেটা চক্রের কথা এক বন্ধু মারফত জানতে পারেন। বিলেতভূমে মোবাইল ফোন মেরামতির কাজ করতেন পাক অলরাউন্ডারের বন্ধু। তাঁর কাছে মোবাইল সারাতে এসেছিলেন কুখ্যাত বুকি মাজহার মজিদ। "মাজহার মজিদ আমার বন্ধুর কাছে মোবাইল সারাতে আসে। গভীর রাতে ফোন সারাইয়ের কাজ করছিল ও। হঠাৎই দেখতে পায়, মাজহারের সঙ্গে মেসেজে তিন ক্রিকেটার স্পট ফিক্সিং নিয়ে কথা বলেছে," মন্তব্য রাজ্জাকের।
দ্রুত রাজ্জাকের কানে খবরটি পৌঁছায়। সঙ্গে সঙ্গে শাহিদ আফ্রিদিকে গোটা ঘটনার কথা তুলে ধরেন। “আমিরের তখন ১৮ বছর বয়স। ওকে নিজের ঘরে ডাকে আফ্রিদি। আমাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলে। বাইরে থেকেই শুনতে পাচ্ছিলাম, আফ্রিদি রেগে চিৎকার করছিল। সত্যি বলার জন্য আমিরকে বলছিল ও। কিন্তু আমির বারবার অস্বীকার করছিল। ঠিক তখনই ঘরের ভিতর থেকে সজোরে থাপ্পড়ের শব্দ ভেসে আসে। আমিও ঘরে ঢুকে পড়ি। দেখি, আমির ভেঙে পড়েছে। তার পরই সব কথা স্বীকার করে নেয়,” বলছেন রাজ্জাক।
“বাইরে থেকেই শুনতে পাচ্ছিলাম, আফ্রিদি রেগে চিৎকার করছিল। সত্যি বলার জন্য আমিরকে বলছিল ও। কিন্তু আমির বারবার অস্বীকার করছিল। ঠিক তখনই ঘরের ভিতর থেকে সজোরে থাপ্পড়ের শব্দ ভেসে আসে। আমিও ঘরে ঢুকে পড়ি। দেখি, আমির ভেঙে পড়েছে। তার পরই সব কথা স্বীকার করে নেয়,” বলছেন রাজ্জাক।
রাজ্জাকের মতে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবং টিম ম্যানেজমেন্ট দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঘটনাটি এত বড় আকার নাও নিতে পারত। কিছু সিনিয়র ক্রিকেটার তখন তিন ক্রিকেটার সলমন বাট, মহম্মদ আসিফ ও আমিরকে জরিমানা করে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন রাজ্জাক। পরবর্তীতে তদন্তে তিন ক্রিকেটার দোষী সাব্যস্ত হন।
বয়স কম হওয়ায় এবং সমস্ত দোষ শিকার করে নেওয়ার ফলে শাস্তি কমানো হয় আমিরের। নির্বাসন কাটিয়ে ২০১৫ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার অনুমতি পান। ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ড সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও প্রত্যাবর্তন করেন আমির। এমনকী ২০১৭ সালে পাক দলের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এর পর থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকেন তিনি। সেই আমিরই বিশ্বকাপ চলাকালীন পাকিস্তান টিভিতে কখনও অভিষেক শর্মার প্রতি খড়্গহস্ত, কখনও বা মহম্মদ কাইফকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে শিরোনামে এসেছেন। বাঘা বাঘা ক্রিকেট বিশ্লেষক টিম ইন্ডিয়াকে ফেভারিট তালিকায় রাখলেও তিনি ধর্তব্যের মধ্যে রাখেননি। তাঁর করা সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যে পরিণত করে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করেছে ভারত। আর তার ঠিক পরেই আবারও উঠে এল আমির নামক 'জ্যোতিষী ক্রিকেটারে'র ফিক্সিংয়ের কেচ্ছা।
