বিশ্বকাপ শুরু হতে এক সপ্তাহও বাকি নেই। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এখনও জানিয়ে উঠতে পারেনি, টুর্নামেন্টে তারা খেলবে কিনা। শনিবার এই সংক্রান্ত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেও সেটা প্রত্যাহার করে নেয় পাক বোর্ড। তবে পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপে তাঁরা খেলবেন। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ক্রিকেটারদের গুরুত্ব না দিয়েই বিশ্বকাপ ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে পাক বোর্ড?
টি-২০ বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি সিরিজ খেলছে পাকিস্তান। তিন ম্যাচের মধ্যে প্রথম দু'টোতেই জিতেছেন সলমনরা। ২০১৮র পর এই প্রথমবার অজিদের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজ জিতল পাকিস্তান। শুধু তাই নয়, পাক দলের টি-২০ ইতিহাসে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান তোলার নজিরও এই সিরিজে তৈরি হয়েছে। ভালো ফর্মে রয়েছেন পাক অধিনায়ক নিজেও। দ্বিতীয় টি-২০তে ৪০ বলে ৭৬ রান করেন তিনি। ওই দাপুটে ইনিংসে ভর করেই ১৯৮ রান তোলে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ৯০ রানে ম্যাচ জেতে সলমনরা।
শনিবার ম্যাচের পরেই সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন পাক অধিনায়ক। বলেন, "আমরা দারুণ খেলেছি। ব্যাট-বল দুটোই অনবদ্য করেছি। ফিল্ডিংটাও খুব ভালো করেছি। ২-০ ফলে এগিয়ে থাকাটাকে গুরুত্ব দিতে চাইছি না। কিন্তু আমরা এই একইভাবে খেলাটা চালিয়ে যেতে চাই। এইভাবেই নিজেদের সেরাটা দিয়ে এগিয়ে যাব। বিশ্বকাপেও এই একইভাবে খেলব।" পাক অধিনায়কের এই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশ্ন ওঠে, পাক বোর্ড যেখানে বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি সেখানে অধিনায়ক কী করে খেলা নিয়ে নিশ্চিত হয়ে গেলেন? কী করে বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করলেন? ক্রিকেটমহলের একাংশের মত, আসলে পাক বোর্ড ইচ্ছাকৃতভাবে সকলকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। সলমনদের বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে, কিন্তু আইসিসি এবং অন্যান্য দেশগুলিকে পাক বোর্ড জানাচ্ছে না যে তারা বিশ্বকাপে খেলবে কিনা। সেকারণেই দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা চালিয়ে যাচ্ছেন মহসিন নকভিরা।
শোনা যাচ্ছে, শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার জন্য টিকিট কেটে ফেলেছে পাক দল। আবার পাক বোর্ডের তরফ থেকেও বিশ্বকাপ খেলায় সম্মতি দিয়ে বিবৃতি দিয়ে ফেলা হয়েছিল। তারপর আঘার ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য থেকে ধরে নেওয়া যেতেই পারে, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোটা স্রেফ কথার কথা। বিশ্বকাপে খেলতে নামবে পাকিস্তান।
