একটা সময়ে শোনা যাচ্ছিল, 'ভাইজান' বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান। তারপর পাক সরকার ঘোষণা করল, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান, বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন দেখানোর জন্য। যাবতীয় নাটকের পর দু'টোর কোনওটাই করেননি সলমন আলি আঘারা। তবে এবার নাটকীয় কিছু করতে না পারলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেবে পাকিস্তান। আপাতত সরু সুতোয় ঝুলছে তাদের বিশ্বকাপভাগ্য।
গ্রুপ ২ পয়েন্ট টেবিলে তিন নম্বরে রয়েছে পাকিস্তান। তাদের ঝুলিতে এক পয়েন্ট। সর্বোচ্চ তিন পয়েন্ট পর্যন্ত পেতে পারে তারা। রানরেট -০.৪৬১। ওই গ্রুপ থেকে ৪ পয়েন্ট পেয়ে ইতিমধ্যেই সেমিতে চলে গিয়েছে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় দল হিসাবে সেমিতে ওঠার লড়াইয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। আপাতত কিউয়িদের ঝুলিতে তিন পয়েন্ট। টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তারা। রান রেটে গ্রুপে সবচাইতে ভালো জায়গায় রয়েছে মিচেল স্যান্টনারের দল। সেটাই পাকিস্তানের মাথাব্যথার সবচেয়ে বড় কারণ।
পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ড দু'দলেরই একটি করে ম্যাচ বাকি রয়েছে। আগামী শুক্রবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলবে কিউয়িরা। সেই ম্যাচে যদি ইংল্যান্ড জেতে, একমাত্র তাহলেই পাকিস্তানের আশা বেঁচে থাকবে। তাহলে নিউজিল্যান্ড আটকে যাবে তিন পয়েন্টে। তিন পয়েন্ট নিয়েই সেমিতে ওঠার সম্ভাবনা বেঁচে থাকবে পাক ব্রিগেডের জন্য। এছাড়াও ওই ম্যাচ ইংল্যান্ড যত বড় ব্যবধানে জিতবে, পাকিস্তানের তত মঙ্গল। কারণ নিউজিল্যান্ডের রান রেট কমবে। ফলে পাকিস্তানের জয়ের ব্যবধান কিছুটা কম হলেও সেমিতে ওঠার সুযোগ থাকবে।
আগামী শনিবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা। তার আগে যদি নিউজিল্যান্ড জিতে যায়, তাহলে এই ম্যাচ স্রেফ নিয়মরক্ষার। তবে উপরের সব শর্ত মেনে যদি ইংল্যান্ড জেতে, তাহলে শনিবারের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে। যদি শুক্রবারের ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যায়, তাহলে শেষ ম্যাচ খেলার আগেই পাকিস্তানের বিশ্বকাপ স্বপ্নের সলিল সমাধি হবে। সেক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কাকে হারালেও লাভ হবে না। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড যদি ইংল্যান্ডের কাছে হারে আর পাকিস্তানের ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যায়, তাহলেও সলমন আলি আঘাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ।
