shono
Advertisement
Ranji Trophy

ঋতু অনুযায়ী বদলে যায় ঠিকানা, ‘যাযাবর’ জীবন থেকে স্বপ্ন সরণিতে কাশ্মীরের নবিরা

ভূস্বর্গের দলের রনজি ফাইনালে পৌঁছানোর পথটা গিয়েছে জম্মু, শ্রীনগর এবং পণ্ডিচেরি হয়ে। যে তিন শহরে সারা বছর প্রস্তুতি সারেন আকিব নবি-পরশ ডোগরারা। শুধু সিনিয়র দলই নয়, পুরুষ-মহিলা মিলিয়ে সব দলেরই রুটিন এক।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 02:35 PM Feb 20, 2026Updated: 02:38 PM Feb 20, 2026

ঋতু অনুযায়ী বদলে যায় ঠিকানা। শীতে তাঁদের পাওয়া যায় জম্মুর মাঠে। পারদ একটু চড়লে চলে আসেন শ্রীনগরে। আবার কখনও কখনও দেখা মেলে পণ্ডিচেরিতে। এভাবেই সারা বছর ‘যাযাবর’ হয়ে ঘুরে ঘুরে ক্রিকেট খেলেন জম্মু-কাশ্মীরের ক্রিকেটাররা। যাঁদের সিনিয়র দল প্রথমবার উঠে এসেছে রনজি ট্রফি ফাইনালে। 

Advertisement

ভূস্বর্গের দলের রনজি ফাইনালে পৌঁছানোর পথটা গিয়েছে জম্মু, শ্রীনগর এবং পণ্ডিচেরি হয়ে। যে তিন শহরে সারা বছর প্রস্তুতি সারেন আকিব নবি-পরশ ডোগরারা। শুধু সিনিয়র দলই নয়, পুরুষ-মহিলা মিলিয়ে সব দলেরই রুটিন এক। বর্তমানে ভারতীয় বোর্ডের গড়ে দেওয়া প্রশাসনিক কমিটি জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট সংস্থার দায়িত্বে রয়েছে। সেই কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার (অবসরপ্রাপ্ত) অনিল গুপ্ত শোনাচ্ছিলেন আকিবদের লড়াইয়ের গল্পটা। “জম্মু-কাশ্মীরের আবহাওয়া নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। গ্রীষ্মের সময় শ্রীনগরে ক্যাম্প হয়। মোটামুটি অক্টোবর পর্যন্ত। তারপর ঠান্ডা বাড়লে আমরা জম্মুতে চলে আসি। জেকেসিএ-র কাছে দু’টোই ঠিকঠাক মাঠ আছে। জম্মু আর শ্রীনগরে। সেই দু’টো মাঠ মিলিয়েই সব ক্যাম্প হয়। তাছাড়া পণ্ডিচেরিতেও অনুশীলন করি। ছেলে-মেয়ে দুই বিভাগে সব দলই এভাবে চলছে।” সঙ্গে রমজান এবং নবরাত্রির মতো ধর্মীয় উৎসবের সময়ও অনুশীলন নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট।

এমনিতে জেকেসিএ-র অধীনে কোনও ক্লাব ক্রিকেট হয় না। খেলা হয় মূলত আন্তঃজেলা পর্যায়ে। সেখান থেকে নির্বাচকরা ট্রায়ালের জন্য ক্রিকেটারদের পছন্দ করেন। তারপর একাধিক পর্যায়ে চলে প্রতিভার পরীক্ষা। ব্রিগেডিয়ার গুপ্ত বলছিলেন, “আগে একটা ট্রায়ালে দল গঠন হত। আমরা দায়িত্বে আসার পর সারা রাজ্যে ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রাম শুরু করি। সব রাজ্য দলে সেখান থেকেই ক্রিকেটার উঠে আসছে।” কীভাবে চলে এই প্রোগ্রাম? নির্বাচকরা জেলায় জেলায় গিয়ে বিভিন্ন বয়সের বিভাগে ট্যালেন্ট হান্ট ট্রায়াল নেন। সেই নির্বাচিত প্লেয়ারদের নিয়ে ক্যাম্প হয়। এই ক্যাম্পের সংখ্যা এবং দিন নির্ভর করে প্লেয়ারের সংখ্যার উপর। সেখান থেকে কিছু প্লেয়ার সুযোগ পান পরবর্তী স্তরে। তাঁদের নিয়ে আসা হয় জম্মু ও শ্রীনগরে।

এরপর শুরু হয় ট্রায়ালের দ্বিতীয় পর্ব। সেখানে আগের বছরের ট্রায়ালের দ্বিতীয় পর্ব থেকে বাদ পড়া প্লেয়ারদের সঙ্গে বর্তমান দল এবং নতুন নির্বাচিতদের মিলিয়ে ম্যাচ হয়। এরকম পাঁচ-ছ’টা ম্যাচের পর জনা ষাটেক প্লেয়ারের পুল হয়। তাঁরা নিজেদের মধ্যে খেলার পর শেষে ৩০ জনকে নিয়ে চূড়ান্ত স্কোয়াড তৈরি করে জেকেসিএ।

জম্মু-কাশ্মীরে ক্রিকেটে বদলে দেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে আরও একটা নাম। মিঠুন মানহাস। বর্তমান বিসিবিআই সভাপতি কিছুদিন আগেও জেকেসিএ-র পরিচালন কমিটিতে ছিলেন। ট্যালেন্ট হান্টের মতো পদক্ষেপ অনেকটাই তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত। সঙ্গে আরও নানাবিধ উদ্যোগ। যেমন, ভারতের বিভিন্ন মাঠে লাল মাটির উইকেটে খেলা হয়। সেখানে জম্মু-কাশ্মীরে সব উইকেট কালো মাটির। ফলে দল যাতে বাইরে খেলতে গিয়ে সমস্যায় না পড়ে, তাই হাতে থাকা দু’টো মাঠেই লাল মাটির উইকেটের ব্যবস্থা করেন মিঠুন। যার ফলে মুম্বই-বরোদার মতো প্রতিপক্ষকে তাদের ঘরে গিয়ে হারিয়েছেন আকিবরা।

সত্যিই, কর্তাদের এমন ‘ভিশন’ রনজি ফাইনালের মঞ্চে তুলে এনেছে জম্মু-কাশ্মীরকে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement