shono
Advertisement
BJP

বিজেপির সব প্রশ্নের আসল জবাব লুকিয়ে বুলডোজারেই!

ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর এই দেশে প্রত্যেকের ভোটাধিকার থাকবে, এই ভয়েই নরেন্দ্র মোদির পূর্বসূরিগণ ব্রিটিশদের তাড়াতে চাননি!
Published By: Biswadip DeyPosted: 04:26 PM Apr 12, 2026Updated: 04:28 PM Apr 12, 2026

এরাজ্যের বা তামিলনাড়ুর বিএলওদের আন্তরিকতা, যত্ন আর দক্ষতা অনেক ক্ষেত্রেই আপনাদের থেকে অনেক বেশি। আমরা দেখেছি, কাগজপত্র নিয়ে দিশাহারা মানুষদের সাহায্য করতে বিএলও, বিএলএদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা। আপনারা যখন তঁাদের মতো আন্তরিক হতে পারবেনই না, তখন কেন সাত মার পালোয়ান হলেন? লিখেছেন বন্দনা মুখোপাধ্যায়।

Advertisement

দেশের অন্যত্র সব শান্ত, তবে বাংলায় কেন এত উৎপাত– মাই লর্ড এই ধঁাধার উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না। ধঁাধার উত্তর জুগিয়ে দিতে অনেক ভদ্রজন তৎপর হয়ে বলছেন, আসলে বাংলাতেই একমাত্র ‘logical discrepancy’ হয়েছে, সেটাই এই উত্তাপের কারণ। বলতে দ্বিধা নেই, এই উত্তর অর্ধসত্য; আর অর্ধসত্য মিথ্যার চেয়েও ভয়ংকর।

উত্তরপ্রদেশে প্রায় ৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার তালিকা তৈরি হয়েছিল, অথচ ছিটেফোঁটা প্রতিবাদও নজরে আসেনি। সেখানে ‘logical discrepancy’ ছিল না বলে প্রায় ৩ কোটি মানুষ নাকে সরষের তেল দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল, এটা কি বিশ্বাস করতে হবে? বিহারে ৪৭ লক্ষ মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এর মধ্যে প্রায় ২২ লক্ষ মানুষের রেশন কার্ড-সহ নানা সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিজেপি মন্ত্রীর। এই দাবি সত্য কি না, তা মূল প্রশ্ন নয়। কথাটি হল– আদালত যেমন খেয়াল করেছে, আমরাও দেখেছি, তেমন কোনও বড় প্রতিবাদ বিহারে হয়নি। ‘logical discrepancy’ নেই– তাই ৪৭ লক্ষ মানুষ কি তবে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছিল?
কেউই ঘুমিয়ে পড়েনি, ঘুমোতে পারেও না।

উত্তরপ্রদেশে প্রায় ৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার তালিকা তৈরি হয়েছিল, অথচ ছিটেফোঁটা প্রতিবাদও নজরে আসেনি। সেখানে ‘logical discrepancy’ ছিল না বলে প্রায় ৩ কোটি মানুষ নাকে সরষের তেল দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল, এটা কি বিশ্বাস করতে হবে?

উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের নির্যাতিতরা বুলডোজারের ভয়ে রাস্তায় নামতে পারেনি। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর রাজনীতির ‘প্রতীক’ যেন সেই বুলডোজার। যখন-তখন বাড়ি-দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কায় বেঁচে আছে মানুষ তঁার জমিদারিতে। ফলে ভোট হারানোর প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ বা ঘর খোয়ানোর ঝুঁকি কে নেবে? বিহারেও সেই ‘বুলডোজার রাজ’-এর প্রস্তুতি চলছে।

এবং ঠিক এই কারণেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ প্রতিবাদ করতে পেরেছে। এখানে মুখ্যমন্ত্রী বুলডোজার চালাবেন না। উপরন্তু তিনি নিজেই আন্দোলনের সামনের সারিতে দঁাড়িয়েছেন, আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন, রাস্তায় ধরনা দিয়েছেন। জনতার আন্দোলনের ফলে বাদ পড়া নামের সংখ্যা ইতিমধ্যেই কমেছে, আরও কমবে। হাজারে হাজারে মানুষ রাস্তায় নেমে আপিল করছে– এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ছে না কেউ। আমাদের রাজ্যেও যদি ‘ডাবল ইঞ্জিন’ বুলডোজার সরকার থাকত, তবে নেতাজি বা বিদ্যাসাগরের রক্ত ধমনিতে বইলেও আমরা কি ভয় পেতাম না? পেতাম, নির্ঘাত পেতাম।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর রাজনীতির ‘প্রতীক’ যেন সেই বুলডোজার। যখন-তখন বাড়ি-দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কায় বেঁচে আছে মানুষ তঁার জমিদারিতে। ফলে ভোট হারানোর প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ বা ঘর খোয়ানোর ঝুঁকি কে নেবে?

ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর এই দেশে প্রত্যেকের ভোটাধিকার থাকবে– এই ভয়েই নরেন্দ্র মোদির পূর্বসূরিগণ ব্রিটিশদের তাড়াতে চাননি। এখনও তঁারা ভোটে ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না। তঁাদের স্বপ্নের রাষ্ট্রে পরাধীন ভারতের মতোই সীমিত ভোটাধিকার থাকবে। আমাদের দুর্ভাগ্য, যঁারা ভোটে বিশ্বাস করেন না, তঁারা শুধু মন্ত্রীই নন, এমনকী, নির্বাচন কমিশনেরও মাথা। তঁারা আড়াই লাখ বন্দুকের নলের ডগায় বাংলার ভোট করাতে চান, তঁারা বুঝতে পারেন না– কেন মানুষ ভোটাধিকার নিয়ে এত সংবেদনশীল। তঁাদের পরামর্শ: এবার না হলে পরেরবার! তাই আমাদেরও বিজেপিকে বলতে হয়– এবার না হলে, ২০৩২ সালেও না হলে, ২০৩৭ সালে আবারও না হলে তাদের পরের বারের জন্য বাংলা জয়ের চেষ্টা করতে হবে।

মাই লর্ড, অপরাধ মার্জনা করবেন– এ রাজ্যের বা তামিলনাড়ুর বিএলওদের আন্তরিকতা, যত্ন আর দক্ষতা অনেক ক্ষেত্রেই আপনাদের থেকে অনেক বেশি। আমরা দেখেছি, কাগজপত্র নিয়ে দিশাহারা মানুষদের সাহায্য করতে বিএলও, বিএলএদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা। আপনারা যখন তঁাদের মতো আন্তরিক হতে পারবেনই না, তখন কেন সাত মার পালোয়ান হলেন? অনায়াসেই ঘোষণা করতে পারতেন যে, ২০২৫ সালের তালিকাতেই ভোট হবে।

যঁারা ভোটে বিশ্বাস করেন না, তঁারা শুধু মন্ত্রীই নন, এমনকী, নির্বাচন কমিশনেরও মাথা। তঁারা আড়াই লাখ বন্দুকের নলের ডগায় বাংলার ভোট করাতে চান, তঁারা বুঝতে পারেন না– কেন মানুষ ভোটাধিকার নিয়ে এত সংবেদনশীল।

বুলডোজারের প্রসঙ্গ যখন উঠেইছে, তখন শেষে আর-একটি কথা বলতেই হয়। বাংলায় বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে– ক্ষমতায় এলে ৩ হাজার টাকা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ দেবে। তারা জানে, বিহারে জিততে তাদের দশ হাজার টাকা দিতে হয়েছে মহিলাদের। এর জবাবে আমরা কেউ কেউ ‘লাডলি বহেনা’-র ব্যর্থতা দেখাচ্ছি। আসলে জবাব লুকিয়ে সেই বুলডোজারেই।

রাজ্যে রাজ্যে মানুষকে নানা মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত করে কেন্দ্রে সরকার গড়ে গেরুয়া সাধুবেশে ছদ্মবেশ ধারণ করা রাবণ নিজের স্বরূপ ধারণ করেছেন। বিজেপি সরকার গড়েছে বুলডোজার বাহনে চড়ে। তখন প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হলে জবাবদিহি কে চাইবে? ‘জান প্রাণ মকান’ সব চলে যাবে যে বুলডোজারের চাকার তলায়! তখন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ৩ হাজার টাকা ওই ১৫ লাখ টাকা আর ২ কোটি চাকরির মতোই জুমলাতে পরিণত হবে। মাই লর্ড, তাই তো বলি, বাংলার মধ্যে আপনারা উত্তর খুঁজবেন না। আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে ওই বুলডোজারে।

(মতামত ব্যক্তিগত)

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement