নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দেশে বছরে ২ কোটি নতুন চাকরির বন্দোবস্তু করবেন। মোদির এই প্রতিশ্রুতির পর গঙ্গা-যমুনা দিয়ে বিস্তর জল বয়ে গিয়েছে। মোদির প্রধানমন্ত্রিত্বের এক যুগ অতিক্রান্ত। হিসাব করলে এই সময়ের মধ্যে দেশে ২৪ কোটি নতুন চাকরি হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মতো যদি গত ১২ বছরে এত চাকরি হত, তাহলে দেশে বেকারত্ব বলে কিছু থাকত না।
কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক প্রতি বছর একটি পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে' প্রকাশ করে। এই সমীক্ষায় বলা হয় দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কত এবং কত সংখ্যক মানুষের হাতে কাজ আছে। এক্ষেত্রে কর্মক্ষম মানুষ বলতে শুধু চাকরিজীবীদের বোঝায় না। দেশের জনসংখ্যার খুব কম আশই চাকরি করে।
এ বছরের গোড়ায় যে পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে' কেন্দ্রীয় সরকার প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দেশে সংগঠিত বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মরত ১২.৩ কোটি মানুষ। কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিয়ে সরকারি চাকরি করে দেশে মোট ১.৯৭ কোটি মানুষ। অসংগঠিত ক্ষেত্রে যুক্ত রয়েছে ৪৯.৩ কোটি মানুষ। এদের মধ্যে ৩৪.৬ কোটি অনিযুক্ত। অর্থাৎ কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নানা ধরনের পেশায় থাকা শ্রমজীবী মানুষ।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দেশে সংগঠিত বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মরত ১২.৩ কোটি মানুষ। কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিয়ে সরকারি চাকরি করে দেশে মোট ১.৯৭ কোটি মানুষ।
অসংগঠিত ক্ষেত্রে যুক্ত ৪৯.৩ কোটির মধ্যে কৃষিক্ষেত্রেই যুক্ত রয়েছে ২০.৪৯ কোটি মানুষ। সবমিলিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রমমন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যানে দেশের মোট কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা হল ৬৩.৬৪ কোটি। এর মধ্যে ১.৯৭ কোটির হাতে কোনও ধরনের কাজই নেই। অর্থাৎ, ২৪ কোটির চাকরি হওয়া মানে এক বিশাল ব্যাপার। সেটা হলে দেশের এত সংখ্যক মানুষকে অসংগঠিত ক্ষেত্রে। যুক্ত থাকতে হত না। কৃষিকাজের উপরও কোটি কোটি মানুষকে নির্ভর করে থাকতে হত না।
কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যানে যে ২৬.৪৯ কোটি মানুষ কৃষিক্ষেত্রে যুক্ত রয়েছে বলা হচ্ছে- তার একটি বড় অংশ ছদ্ম বেকার। অর্থাৎ এদের কাছে বিকল্প কোনও কাজ নেই বলে এরা কৃষিক্ষেত্রে যুক্ত রয়েছে। কৃষি থেকে এদের আয় খুব সামান্য। বিরোধীরা সবসময় অভিযোগ করে, বছরে দু'কোটি চাকরির যে প্রতিশ্রুতি মোদি দিয়েছিলেন, তা একটি বিরাট 'জুমলা'। বিরোধীদের অভিযোগ যে এক্ষেত্রে সত্য, তা মোদি সরকারের দেওয়া 'পিরিয়ডিক লেনার ফোর্স সার্ভে'-র তথ্যই বলে দেয়।
বছরে দু'কোটি চাকরির এই 'মিথ্যা' প্রতিশ্রুতিই যখন দেশের মানুষ হজম করে উঠতে পারছে না, তখন রাজ্যের বিধানসভা ভোটের জন্য বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিল ক্ষমতায় এলে তারা পাঁচ বছরে এক কোটি চাকরি দেবে। সেই চাকরিতে আবার ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ থাকবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিধানসভা ভোটের জন্য বিজেপির একটি সংকল্পপত্র প্রকাশ করেছেন। সেখানে নানারকম প্রতিশ্রুতির সঙ্গে ৫ বছরে ১ কোটি নতুন চাকরির কথা রয়েছে। কিন্তু এই প্রতিশ্রুতি বিজেপির নিছকই 'জুমলা'।
