নতুন মুখ্যমন্ত্রীর 'জনতার দরবার' শাসক এবং জনগণের মানবিক সম্পর্ককে দিচ্ছে নতুন মাত্রা। সময়ের সঙ্গে তা অনিশ্চিত না হয়ে উঠুক, কাম্য।
'দরবার' শব্দটি খাঁটি ফারসি। তবু বাঙালির গণতান্ত্রিক চেতনা শব্দটির মধ্যে মানবিকতা ও বন্ধুত্বের আঁচ পেয়েছে। তার কারণ, 'দরবার' বলতে শুধু রাজসভা বোঝায় না। শব্দটি বহন করে না কেবলমাত্র উচ্চপদস্থ ব্যক্তির জাঁককজমকের বৈঠকখানার অনুষঙ্গ। 'দরবার' শব্দের নিহিত অর্থ ধারণ করে সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর নিশ্চিত পরিসর। দরবারে কার কাছে মানুষ জানাতে পারে তার অভিযোগ? ক্ষমতার শীর্ষে যিনি বসে আছেন, তাঁর কাছে। দরবারে তাঁর মুখোমুখি হওয়া যায়। সরাসরি জানানো যায় তাঁকে নিজের সমস্যার কথা। করা যায় অভিযোগ। নালিশ। এবং পাওয়া যায় সমাধান ও সাহায্যের নির্ভরযোগ্য প্রতিশ্রুতি।
আমাদের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর শাসনকালের একেবারে শুরুর লগ্ন থেকে পরিচয় দিলেন তাঁর আন্তরিক মানবিকতার। নিজেকে সরিয়ে রাখলেন না সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক নাগালের বাইরে। মনে রাখলেন এই চিরকালীন সত্য, শাসন বেঁচে থাকে, হয়ে ওঠে সফল ও সার্থক, সেবা, দয়া, ও জনতার সঙ্গে মানবিক সম্পর্কের সরণিতে। তাই প্রতিশ্রুতি মতো, সরকারে আসার পর, তিনি গত সোমবার সকালে বসলেন তাঁর দ্বিতীয় জনতার দরবারে, সল্টলেকে দলীয় কার্যালয়ে। শুরুতেই বোঝা গেল, মুখ্যমন্ত্রী কতটা ঐকান্তিক। অনুভব করা গেল, তিনি শুধু শুনছেনই না, প্রচেষ্ট সমস্যার দ্রুত সমাধানে, সত্যিই বাড়িয়ে দিচ্ছেন সাহায্যের হাত, এতটুকু অস্পষ্টতা, অস্বচ্ছতা নেই তাঁর পদ্ধতি ও অঙ্গীকারে। বোঝা গেল, সত্যিই তিনি নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চেষ্টা করছেন, জনতার দরবারকে, রাজনীতিতে নিয়ে আসতে চলেছেন জনসেবার নতুন মাত্রা, কর্মপদ্ধতির আধুনিক তৎপরতা।
শুরুতেই বোঝা গেল, মুখ্যমন্ত্রী কতটা ঐকান্তিক। অনুভব করা গেল, তিনি শুধু শুনছেনই না, প্রচেষ্ট সমস্যার দ্রুত সমাধানে, সত্যিই বাড়িয়ে দিচ্ছেন সাহায্যের হাত, এতটুকু অস্পষ্টতা, অস্বচ্ছতা নেই তাঁর পদ্ধতি ও অঙ্গীকারে।
ভিড়ে উপচে পড়ে ছিল দরবার। হট্টগোল ছিল না। কার্যালয়ে ঢুকতে সামনেই হেল্প ডেস্কের সাহায্য। তাঁরা মানুষের কথা শুনছেন প্রাথমিকভাবে। কম্পিউটারে সারাৎসার রেখে দিচ্ছেন। তারপর টোকেন দিচ্ছেন প্রত্যেককে। টোকেনের নম্বর অনুসারে দোতলায় মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে পাঠানো হচ্ছে, তাঁর সমীপে একান্তে সমস্যা জানানোর জন্য। এভাবেই একসময় ডাক এল ভবানীপুরের অশীতিপর প্রবীর মুখোপাধ্যায়ের, যিনি প্রোমোটার জয় কামদার আর কালীঘাট থানার ওসি শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের কুচক্রের পাল্লায় পড়ে হারান নিজের বাড়ি, মাথার ছাদ। বলে গেলেন, রাজ্যের প্রধান আমার কথা শুনে সরাসরি আশ্বাস দিয়েছেন। আগে তো মুখ্যমন্ত্রী দূরের কথা, পুলিশের কাছে যেতেই ভয় পেতাম।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেকে সরিয়ে রাখেননি সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক নাগালের বাইরে। মনে রাখলেন এই চিরকালীন সত্য, শাসন বেঁচে থাকে, হয়ে ওঠে সফল ও সার্থক, সেবা, দয়া, ও জনতার সঙ্গে মানবিক সম্পর্কের সরণিতে।
সন্দেহ নেই, মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবার তৈরি করতে চলেছে শাসক ও জনগণের মধ্যে মানবিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা ও বুনন। তবে মনে একটা অনিশ্চয়তা ও সংশয় তো আছেই। হাজার ব্যস্ততার মধ্যে শুভেন্দুবাবু ক্রমশ ক্লান্ত হয়ে পড়বেন না তো? ক্রমশ জনগণের সঙ্গে তাঁর সাপ্তাহিক সরাসরি সংযোগ নানা কারণে বিঘ্নিত হবে না তো? প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও সমস্যার সমাধান ক্রমশ হয়ে উঠবে না তো অনিশ্চিত? যেন তা না হয়, সমস্ত বাংলার মনে এখন এই একটিই যাচনা।
