গিগ কর্মীদের জন্য তাঁর বয়ানে প্রাণের ঝুঁকি অনেকটাই লাঘব হয়েছে। সেই রাঘব চাড্ডাকে (Raghav Chadha) সংসদে ডেপুটি লিডারের পদ থেকে অপসারিত করল আপ। তাদের বক্তব্য, শ্রীচাড্ডা রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলেননি!
এলপিজি সিলিন্ডার তখনও এত দুর্মূল্য হয়ে ওঠেনি। কিন্তু আভেনে পাঁঠার মাংস বসিয়ে হঠাৎ যদি খেয়াল হয় গরমমশলা বাড়ন্ত, বা ছুটির দিন বলে কর্তা একটু পরে যখন আবারও চা চাইবেন, তখন চিনি নিয়ে ধন্ধুমার উপস্থিত হবে, কেননা, চিনিও ফুরিয়েছে ভাঁড়ারে। অ্যাপ-নির্ভর কুইক কর্মাস সংস্থাগুলি এমন তাৎক্ষণিক অসুবিধার সুযোগ নিয়েই ফুলেফেঁপে উঠেছিল। কেননা, অর্ডার দেওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে বাড়ির দরজায় চলে আসবে প্রয়োজনীয় বস্তুটি। ফলে, উপভোক্তার চাহিদার সঙ্গে ঘড়ির লড়াই চলত ডেলিভারি পার্টনারদের। অ্যাপ সংস্থা বলেছে, ১০ মিনিট। ফলে দেরি হলে, ১১ মিনিটের মাথায়, কমপ্লেন হাঁকাতে পারে উপভোক্তা। তখন রেটিং কম হবে, সেই সঙ্গে গজাতে পারে না বখেড়া। তাই চটজলদি পৌঁছনোর দায় থেকে ডেলিভারি পার্টনারগণ অকুতোভয়ে বাইক ছোটাত, অ্যাক্সিডেন্টও ঘটতে থাকত।
এই চিত্রনাট্যে শোষণ ও বঞ্চনার দিকটি চোখে পড়ে না এমন নয়, তবে সে নিয়ে কেউ সংসদে কখনও সরব হবেন, তা আমাদের কারও কল্পনায় ছিল না, যত দিন না 'আপ'-এর রাজ্যসভার সদস্য রাঘব চাড্ডা উচ্চকণ্ঠ হলেন। তিনি বললেন, সে-ই প্রথম, উপভোক্তা দ্রুত একটি বস্তু চাইছেন ভালো কথা, তার জন্য অর্থমূল্যও দিচ্ছেন, সুতরাং সংস্থার দায়বদ্ধতা থাকে উপভোক্তার চাহিদা পূরণ করার, কিন্তু ১০ মিনিটের এই সময়সীমাটি শুনতে যত মোহময়, বাস্তবে ততই বিপদসংকুল ও প্রাণঘাতী। এমন চলতে পারে কি? রাঘবের বয়ানের পরে, ১০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার গাজরখানি বাধ্য হয়ে তুলে নেয় কুইক কর্মাস সংস্থারা। এতে অবশ্য ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, আগের মতোই 'চুটকি মে' উপভোক্তার দরজায় হাজির ডেলিভারি পার্টনারগণ, তবে তাদের প্রাণের ঝুঁকি অনেকখানি লাঘব হয়েছে। সারা দেশ রাঘব চাড্ডার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিল।
রাঘব চাড্ডার দাবি, ''অযথা নাটুকে চিৎকার করতে, বা মাইক্রোফোন ভাঙার জন্য আমি সংসদে যাইনি। গিয়েছিলাম, জনতার পক্ষ নিয়ে জনতার স্বার্থে কথা বলার জন্য।''
অথচ এহেন রাঘব চাড্ডাকে 'আম আদমি পার্টি' ডেপুটি লিডারের পদ থেকে নির্বাসিত করেছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অশোক মিত্তল। পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমা বলেছেন, ''পাঞ্জাবের সমর্থন নিয়ে রাঘব চাড্ডা রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন। আশা ছিল, সর্বভারতীয় স্তরে পাঞ্জাবের সুখ-দুখের কথা তিনি আরও ভাল করে তুলে ধরবেন। দুঃখের বিষয়, তিনি পাঞ্জাব সংশ্লিষ্ট একটি বিষয় নিয়েও কথা তোলেননি।'' অন্যদিকে রাঘব চাড্ডার দাবি, 'অযথা নাটুকে চিৎকার করতে, বা মাইক্রোফোন ভাঙার জন্য আমি সংসদে যাইনি। গিয়েছিলাম, জনতার পক্ষ নিয়ে জনতার স্বার্থে কথা বলার জন্য।... সেজন্য জিএসটি হোক বা ইনকাম ট্যাক্স, দিল্লির বায়ুদূষণ হোক বা সরকারপোষিত স্কুলের পরিকাঠামো এসব নিয়েই কথা বলেছি।'
এখানে একটি দ্বিধামথিত প্রশ্নটি উঠে আসে: সংসদে কি রাজনীতি বাদ দিয়ে জনসাধারণের জন্য কথা বলা অনুচিত? না, জনসাধারণের কথা বলার সময়ে আসলে জনবিন্যাসের আঞ্চলিকতা মাথায় রাখতে হবে? রাঘবের বয়ানে যেসব ডেলিভারি পার্টনারের জীবনযুদ্ধ উঠে এসেছিল, তারা তো দেশব্যাপী ছড়িয়ে আছে- তাহলে?
