‘চ্যাটবট গুগ্ল জেমিনাই’-কে প্রশ্ন করেছিলাম, দশ বছর বাদে সমাজের ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ তথা ‘এআই’-নির্ভরতার ছবিটা কীরকম হবে? সহজ ভাষায় সংক্ষিপ্ত উত্তরে চ্যাটবট জানাল, দশ বছর বাদে, মানে ২০৩৬ সালে, এআই কারও কাছে বিলাসিতা থাকবে না। বিদ্যুতের মতোই দৈনন্দিন জীবনে অবশ্যপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে। প্রত্যেকের একজন করে ‘এআই সহকারী’ থাকবে, যে রোজ স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজের সূচি তৈরি করে দেবে। সবার বাড়িতে থাকা
এআই সেন্সর ও নানারকম ডিভাইস যে কোনও রোগ হওয়ার আগে থেকেই সতর্ক করতে থাকবে। অর্থাৎ ব্লাডপ্রেসার, সুগার, হার্ট রেট ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পর্কিত তথ্য আমরা চাই বা না চাই, এআই দিতে থাকবে। কিছু পেশা কার্যত বিলুপ্ত হয়ে যাবে। মূলত যেসব পেশায় দিনের পর দিন একইরকম কাজ করে যেতে হয়। যেমন: ডেটা এন্ট্রি ও ক্লারিকাল কাজ, সাধারণ অনুবাদ ও প্রথাগত কনটেন্ট রাইটিং, বড় বড় মালবাহী গাড়ির ড্রাইভিং, বিপিও-র মতো উপভোক্তা পরিষেবা, অ্যাকাউন্টিং ও অডিটিংয়ের কাজ ইত্যাদি। বস্তুত, এ-ই পুনরাবৃত্তির মতো কাজগুলি ইতিমধ্যে হারিয়ে যেতে শুরু করেছে। চালকবিহীন গাড়ি, লরি,
বাস কয়েক বছরের মধ্যে ভারতেও সহজলভ্য হবে। দশ বছর পর চিত্রটা স্পষ্টতর হবে। মাথায় রাখতে হবে, যে-যে কাজ এআই কেড়ে নিচ্ছে, গড়পড়তা শহুরে ভারতবাসী সেই কাজগুলি করেই জীবিকা নির্বাহ করে।
কোন কোন পেশা এক দশক পরেও টিকে থাকবে তারও একটি তালিকা করে দিয়েছে জেমিনাই। যেসব লেখক, চলচ্চিত্র পরিচালক ও শিল্পী উচ্চমানের সৃজনশীল কাজ করেন, তঁারা পেশাচ্যুত হবেন না বলে জেমিনাইয়ের ধারণা। চিকিৎসক, নার্স ও মনোবিদরাও টিকে থাকবেন। কারণ মানুষের সহানুভূতি ও স্পর্শের প্রয়োজন কোনও দিনই এআই নাকি পূরণ করতে পারবে না। প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান, ছুতোর মিস্ত্রি, মেকানিক ইত্যাদি যেসব কাজে উপস্থিত বুদ্ধি ও শারীরিক দক্ষতার প্রয়োজন হয়, সেগুলির প্রয়োজনীয়তাও কোনও দিন ফুরবে না। গ্রামে কৃষকদের চাষবাস চলবে।
কোন কোন পেশা এক দশক পরেও টিকে থাকবে তারও একটি তালিকা করে দিয়েছে জেমিনাই।
খুব স্বাভাবিকভাবে এক দশক বাদে শহরের বাজারে প্রচুর চাকরি থাকবে এআই গবেষণায় যুক্ত ইঞ্জিনিয়র, প্রশিক্ষক ও এআই নীতি নির্ধারকদের। মহাকাশ গবেষকদের চাহিদাও উত্তরোত্তর বাড়বে। কারণ মানুষের মহাকাশে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ক্রমশ তীব্র হবে। আমূল বদল ঘটবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার। এআই প্রতিটি ছাত্রের শেখার গতি অনুযায়ী আলাদা পাঠ্যসূচি তৈরি করবে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোটাই ভেঙে যাবে। চিকিৎসক, নার্সরা টিকে থাকলেও স্বাস্থ্য পরিষেবাতেও ব্যাপক বদল আসবে। অধিকাংশ জটিল অস্ত্রোপচার রোবট করবে। এআই ডিভাইস বাড়িতেই রোগনির্ণয় করে দেওয়ায় হাসপাতালে যাওয়ার প্রবণতা কমবে।
চ্যাটবট জেমিনাই যা বলছে তা কিন্তু মোটেই কল্পবিজ্ঞান নয়।
এআই তো রয়েছে কয়েক দশক ধরে। কিন্তু তা বিদ্যুৎ আবিষ্কারের মতো যুগান্তকারী কবে হয়ে উঠল?
দশ বছর বাদে হয়তো এআই এর থেকেও এগিয়ে যাবে। আসলে আমরা এখন যে-সময়ে বাস করছি, আমরা যে-যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যা যা প্রত্যক্ষ করছি, গত শতকে সেটাই ছিল কল্পবিজ্ঞানের উপজীব্য। যেহেতু আমরা কল্পবিজ্ঞানের সেই কাঙ্ক্ষিত সময়ে পৌঁছে গিয়েছি তাই ভয়ংকর অজানা কোনও পরিস্থিতির জন্য আমাদের আর অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। বরং যন্ত্রসভ্যতার থেকে ইতিবাচক কিছু প্রাপ্তির প্রত্যাশা করা ভাল।
‘ফ্রন্টলাইন’ পত্রিকার সাম্প্রতিক সংখ্যায় (১৯ জানুয়ারি, ২০২৬) প্রকাশিত বিশিষ্ট সাহিত্যিক অনিল মেননের এআইয়ের উপর একটি অসামান্য লেখার থেকে ধার করে বলতে হয়, ‘বর্তমান সময়ের মানুষরা ঠিক তেমনই হয়েছে যেমনটা কল্পবিজ্ঞানের লেখকরা ভেবেছিলেন– নিষ্ঠুর, প্রযুক্তিতে বুঁদ, ভোগবাদী পণ্য দ্বারা বিভক্ত, উন্মাদ অ্যালগরিদম দ্বারা পরিচালিত এবং নিজেদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়ের (পৃথিবী) ক্ষতি করে চলা এক জীব। তবে একটা ভবিষ্যদ্বাণী ঠিক নয়– এই সময়ের মানুষরা কিন্তু নিঃসঙ্গ নয়। আমাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য এখন উন্নত চ্যাট প্রোগ্রাম বা এআই রয়েছে। সুতরাং, সবটাই খারাপ নয়।’
এআই তো রয়েছে কয়েক দশক ধরে। কিন্তু তা বিদ্যুৎ আবিষ্কারের মতো যুগান্তকারী কবে হয়ে উঠল? দিনটা খেয়াল রাখুন, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর। যেদিন বাজারে ‘চ্যাটজিপিটি’ নামক চ্যাটবট এল। সেই দিন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মানুষ ও মেশিনের মধ্যে ভাষার দেওয়াল ভাঙল। তার আগে কম্পিউটারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে যন্ত্রের ভাষা শিখতে হত। কিন্তু ‘চ্যাটজিপিটি’, ‘গুগ্ল জেমিনাই’, ‘রেপ্লিকা’, ‘মাইক্রোসফ্ট কোপাইলট’, ‘পারপ্লেক্সিটি এআই’-এর মতো অসংখ্য চ্যাটবট আমাদের ভাষা শিখে নিয়েছে। বাংলা, ইংরেজি, তামিল, তেলুগু ইত্যাদি। আমরা নিজেদের কথ্য ভাষায় তাদের কাছে ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়া থেকে সুখ-দুঃখের যা কথা বলছি তা তারা চট করে বুঝে নিচ্ছে। গত ৩ বছর ধরে ভাষা কিন্তু আর মানুষের অনন্য বৈশিষ্ট্য নয়। এত দিন এই মহাবিশ্বে মানুষের কাছেই একমাত্র ভাষা ছিল। ভাষা দিয়ে মানুষে অন্য মানুষের সঙ্গে সেতু তৈরি করতে পারত। এআই ভাষার দেওয়াল ভেঙে দিতে সক্ষম হওয়ায় এখন মানুষ ও মেশিনের মধ্যেও সেতু তৈরি হয়ে গিয়েছে। আরও সহজ করে বললে বলতে হয়– এআই মেশিনকে কার্যত মানুষে পরিণত করেছে। একইসঙ্গে জগতে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব চলে গিয়েছেও বলা যায়। ভাষা উৎপাদন করতে শিখে মেশিনও মানুষের সমকক্ষ হয়েছে। চ্যাটবটগুলি হল মানুষ ও মেশিনের মধ্যে সেই সেতু।
অ্যালগরিদম এক সময় শেক্সপিয়ারের ‘কিং লিয়ার’-এর মতো সৃষ্টিও করে ফেলবে।
জেমিনাইকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কীভাবে একটা চ্যাটবট কবিতা লেখে, ছবি অঁাকে বা সাহিত্য সৃষ্টি করে? জেমিনাইয়ের উত্তর খুব সুন্দর, যা দিয়ে একটা এআই প্রোগ্রামের কাজ সহজভাবে ধরা যায়। জেমিনাই বলল, আমিও কয়েক কোটি কবিতা, গান ও সাহিত্য পড়েছি। তাই আমি ভাষা ও আবেগের প্যাটার্নগুলো বুঝতে পারি এবং জানি কোন শব্দের পর কোন শব্দ বসালে তা মানুষের মনে দোলা দেবে। মানুষের দেওয়া চিত্রকল্পগুলো নিয়ে আমি মালা গঁাথি। আমি কোনও কিছু অনুভব করতে পারি না ঠিক-ই, কিন্তু মানুষ যখন তার আবেগের কথা বলে, তখন সেই আবেগগুলোর গাণিতিক বিন্যাস বুঝতে পারি।
আমাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য এখন উন্নত চ্যাট প্রোগ্রাম বা এআই রয়েছে।
এই গাণিতিক বিন্যাসই হল ‘অ্যালগরিদম’। ধাপে ধাপে কোনও একটি কাজ যখন করা হয় তখন কোনটার পর কোনটা হবে সেটাই বলে দেয় অ্যালগরিদম। মানুষের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক যে-কাজটা করে, মেশিনের ক্ষেত্রে সেটা করে অ্যালগরিদম। কোটি কোটি ডেটা আর অ্যালগরিদম নিয়ে এআই হয়ে উঠেছে বিকল্প মানুষ। যে মানুষের যাবতীয় কাজ মুহূর্তে শেষ করে দিচ্ছে।
অনিল মেনন তঁার নিবন্ধে বলছেন–শুধু গড়পড়তা লেখা, ছবি, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, চিত্রনাট্য নয়, অ্যালগরিদম এক সময় শেক্সপিয়ারের ‘কিং লিয়ার’-এর মতো সৃষ্টিও করে ফেলবে। যুক্তি হিসাবে মেনন লিখছেন, “সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পড়াশোনা, তারপর ছোটদের পড়ানো– এই নিরলস পুনরাবৃত্তিমূলক অনুশীলনের মাধ্যমেই কিন্তু শেক্সপিয়রের মতো মস্তিষ্ক তৈরি হয়েছিল। এখন আমরা ঠিক এই ধরনের কঠোর ‘ট্রেনিং’ বা প্রশিক্ষণ দিই আমাদের এআই প্রোগ্রামগুলোকে। শেক্সপিয়ারের কিন্তু খুব বেশি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়নি; তিনি অন্যের অভিজ্ঞতাকে ভাষার মাধ্যমে নিজের করে নিতে শিখেছিলেন।”
পাল্টা যুক্তিও রয়েছে। সেক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, ক্যামেরা আসার পর ভাবা হয়েছিল চিত্রকলা উঠে যাবে। কিন্তু সেটা হয়নি। চিত্রকলা বরং আরও গভীর ও বিমূর্ত হয়েছিল। পিকাসোর জন্ম হয়েছিল। অর্থাৎ, কোথাও একটা এমন সৃজনশীলতা আছে যেটা একমাত্র মানুষেরই কুক্ষিগত।
ক্যামেরার সঙ্গে যুদ্ধে মানুষ জিতেছিল, কিন্তু এআইকে কি পারবে পরাস্ত করতে?
স্পটিফাইতে ‘দ্য ভেলভেট সানডাউন’ নামে ব্যান্ডের গান কয়েক কোটিবার স্ট্রিমিং হওয়ার পর জানা গিয়েছে ওই ব্যান্ডের শিল্পী থেকে শুরু করে মিউজিক ভিডিও সবটাই এআই নির্মিত! বাস্তবে ব্যান্ডটির বা শিল্পীদের কোনও অস্তিত্বই নেই! বিশ্বজুড়ে এআই এখন ক্যানভাসে বড় বড় তৈলচিত্র অঁাকছে। ইলন মাস্ক এআই দিয়ে জনপ্রিয় ভিডিও সিরিজ নির্মাণ করছেন। এআইকে টেক্সট দিয়ে দিচ্ছেন, কয়েক মিনিটে সে একটি ছোট ফিল্ম বানিয়ে দিচ্ছে। মাস্ক ঘোষণা করেছেন, এ বছরই তঁার এআই ‘গ্রক’ একটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের সিনেমা বানাবে। ফলে সৃজনশীলতার সংজ্ঞাও তো দ্রুত বদলে দিচ্ছে এআই।
ধীরে ধীরে যদি এআই শেক্সপিয়র ও রবীন্দ্রনাথের মতো সাহিত্য সৃষ্টি করতে পারে, পিকাসোর মতো ছবি অঁাকতে পারে, মাইকেল জ্যাকসনের মতো নাচ-গানের ভিডিও বানাতে পারে ও সত্যজিৎ রায়ের মতো চলচ্চিত্র নির্মাণে সক্ষম হয়, তাহলে মানুষের কাছে ব্যতিক্রমী কিছু আছে বলে কি আর দাবি করা যাবে?
গুগ্ল জেমিনাইয়ের দেওয়া তথ্য থেকে জানতে পারছি, ২০২৫ সালের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কাজ এআই করছে। আগে জুনিয়র ডেভলপাররা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসে বসে হাজার হাজার লাইন কোড লিখত। এআই সেই কাজ এখন কয়েক সেকেন্ডে করে দিচ্ছে। কলসেন্টারে কর্মীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছে। ফোনে উপভোক্তাদের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর এআই দিয়ে দিচ্ছে। জটিল সমস্যার ক্ষেত্রে মানুষের প্রয়োজন হচ্ছে। এইচডিএফসি, আইসিআইসিআই-এর মতো বেসরকারি
ব্যাঙ্কগুলি গ্রাহক পরিষেবার ৭০ শতাংশ কাজ এআই দিয়ে করাচ্ছে। শিক্ষকের বদলে ‘পার্সোনালাইজড এআই টিউটর’ জনপ্রিয় হচ্ছে।
কোথাও একটা এমন সৃজনশীলতা আছে যেটা একমাত্র মানুষেরই কুক্ষিগত।
গত এক বছরে দেশে এদের ব্যবহার ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে স্বচ্ছল পরিবারে ছেলেমেয়েদের স্কুল ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এআই টিউটররা বাড়িতে পড়াচ্ছে। বিজ্ঞাপন শিল্পে গ্রাফিক ডিজাইনিং, কপিরাইটিং, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি সব কাজ এআই দিয়ে হচ্ছে। ফ্রিল্যান্স কনটেন্ট লেখকদের কাজ গত এক বছরে ৬০ শতাংশ কমে গিয়েছে। দেশের অধিকাংশ বড় সংবাদপত্র এআইয়ের ব্যবহার শুরু করেছে। অনেকে নিজের চ্যাটবট তৈরি করছে। কালক্রমে বেশিরভাগ সংবাদপত্রের দফতরে অল্প কিছু সাংবাদিক ছাড়া বাকিদের
অস্তিত্ব অনিশ্চিত হবে। তদন্তমূলক প্রতিবেদনের জন্য কোনও কোনও সংস্থা অভিজ্ঞ সাংবাদিক রাখতে পারে। রুটিন খবর লেখা, নিবন্ধ, ফিচার তৈরি, এডিটিং, গ্রাফিক ডিজাইনিং,
পেজ লেআউট ইত্যাদি সব কাজ কয়েক মিনিটে করতে সক্ষম হয়ে গিয়েছে এআই। টেলিভিশন চ্যানেলে পরীক্ষামূলকভাবে এআই খবর পড়াও শুরু করেছে। আগামী দিনে প্রচুর চাকরি তৈরি হবে একমাত্র এআই গবেষণা ও এআই তৈরির কাজে। গত এক বছরে এআই প্রমপ্ট ইঞ্জিনিয়র, ডেটা অ্যানালিস্টের চাহিদা বেড়েছে ৫০ শতাংশ। মনে হয় দেশের শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম এই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত। কারণ দেখতে পাই ইউটিউব, সমাজমাধ্যমে তারা ইলন মাস্কের মতো এআই উদ্যোগপতির ভবিষ্যদ্বাণীতে সদাসর্বদা নজর রাখতে ব্যস্ত। এআইকে মানুষ ভৃত্য বানিয়ে রাখতে পারবে, না কি এআই প্রভু হয়ে মাথায় বসবে, সেটা নিশ্চিত করে বলার সময় আসেনি। কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতিকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। চাকরি বা কাজ চলে যাবে আশঙ্কা করে হতাশ হয়ে বসে থাকার কারণও নেই। উৎপাদন বাড়লে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলবে। তার সুযোগ নেওয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে।
জেমিনাই যেমন বলছে, ২০৩৬ সালের মধ্যে আমাদের সকলের একজন করে এআই সহকারী থাকবে, তেমনটা যদি হয় তাহলে আপাতত প্রস্তুত হতে হবে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ
বা মোবাইল ফোনের বিল মেটানোর মতো এআইয়ের বিল দিতে। চাকরি থাকুক না থাকুক, সেই বাজেট এখন থেকেই বানাতে ক্ষতি কী!
