মানুষের রূপচর্চার ইতিহাস বুঝি মানবসভ্যতার মতোই আদিম। কত বিচিত্র বস্তুকে যে সে রূপচর্চায় কাজে লাগিয়েছে, তা বুঝি গুণে শেষ করা যায় না। তার অনেকের ব্যবহারই কালের নিয়মে হারিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে কার্যকারিতা হারিয়েছে সেসব প্রসাধন সামগ্রী। সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানলে আজও তার অনেক কিছুই রীতিমতো ব্যবহার্য করে তোলা যায়। প্রাকৃতিক উপাদানের সংস্পর্শে ত্বক হয়ে ওঠে কোমল ও সতেজ। আজ রইল মধ্যপ্রাচ্যের (Ancient Middle Eastern Beauty Rituals) এমন কিছু প্রসাধনীর হদিশ, যার কয়েকটি চাইলে বাঙালি ঘরেই বানাতে পারে নতুনভাবে। হাতেনাতে ফলও মিলবে নিঃসন্দেহে।
অবাঞ্ছিত রোম তুলতে চিনির প্রলেপ ব্যবহার হত।
১। ত্বক উজ্জ্বল করতে কাদামাটি ও হলুদের প্রলেপ
প্রাকৃতিক কাদামাটি ও হলুদের মিশ্রণ দীর্ঘদিন ধরেই ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত হয়। এই ফেসপ্যাক অতিরিক্ত তেল শোষণ করে, ত্বক পরিষ্কার রাখে এবং নিয়মিত ব্যবহারে ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে। কাদামাটির বদলে ব্যবহার করা যায় মুলতানি মাটি, একই রকম ফল মিলবে তাতে।
২। দুধ-গোলাপের ‘বডি সোক’
দুধের সঙ্গে গোলাপের পাপড়ির নির্যাস মিশিয়ে স্নান করার রেওয়াজ আজকের নয়, প্রাচীন রাজকীয় সৌন্দর্যচর্চার অংশ ছিল এই রীতি। দুধের ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে কোমল করে, আর গোলাপের সুগন্ধ শরীর ও মনকে প্রশান্ত করে। এমন ‘বডি সোক’ চাইলে ঘরেই বানিয়ে নেওয়া যায়। দুধে শরীর ডুবিয়ে স্নান না করা গেলেও, সারা শরীরে তা ভালোমতো মেখে নিয়ে ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করে নেওয়া যায়।
৩। জবা ও হেনার হেয়ার মাস্ক
হেনা বা মেহেন্দির সঙ্গে জবা ফুল বেটে মিশিয়ে চুলে লাগানোর রীতি বহু পুরোনো। এটি চুলকে প্রাকৃতিকভাবে কন্ডিশন করে, উজ্জ্বলতা বাড়ায় ও স্বাস্থ্যবান দেখাতে সাহায্য করে। বর্তমানে বাড়িতে বশেই এমন হেয়ার মাস্ক বানিয়ে নেওয়া যায়। কিছুক্ষণ রেখে ঈষদুষ্ণ জলে ধুয়ে ফেললেই হল।
৪। ঠোঁটের যত্নে খেজুরের রস
খেজুরের রস প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। ঠোঁটে অল্প পরিমাণ লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিলে শুষ্কতা কমে এবং ঠোঁট নরম ও মসৃণ হয়।
দুধ ও গোলাপের পাপড়িতে স্নান করত মধ্যপ্রাচ্যের নারীরা।
৫। অবাঞ্ছিত রোম তুলতে চিনির 'হালাওয়া'
চিনি, লেবুর রস ও জল দিয়ে তৈরি যে মিশ্রণ অবাঞ্ছিত রোমে ঘষলে তা এক সময় উঠে আসে, মধ্যপ্রাচ্যে তার নাম 'হালাওয়া'। যে কোনও ধরনের ‘ওয়্যাক্সিং’-এর চাইতে নিরাপদ এই পদ্ধতি। নিয়মিত ব্যবহারে রোমের ঘনত্ব কমে। ত্বক পুড়ে যাওয়ার বদলে কোমল হয়েই থাকে।
