কাচের মতো চকচকে ত্বক বা 'গ্লাস স্কিন'-এর মোহ আজকের নয়। আধুনিক সিরাম বা টোনার আসার কয়েক হাজার বছর আগেই রূপচর্চার পাঠ শিখে ফেলেছিল প্রাচীন সভ্যতা। সেই সময়ের এমন কিছু ঘরোয়া টোটকা (Ancient Beauty Tips) ছিল, যা শুনলে আজ অদ্ভুত মনে হতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গিতে সেই বিচিত্র পদ্ধতিগুলো ছিল দারুণ কার্যকর। প্রাকৃতিক উপাদানের সেই আদিম ব্যবহার আজও আমাদের রূপটানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শুনে অবাক মনে হলেও, এই কার্যকরী পদ্ধতিগুলির প্রচলন ছিল সেই সময়ের অভিজাত সম্প্রদায়ের মধ্যে। ঠিক কোন উপাদান ব্যবহার করে চলত রূপটান, তা জানেন কি?
ছবি: সংগৃহীত
শামুকের লালা
আজকের প্রসাধনী দুনিয়ায় 'স্নেইল মিউসিন' বা শামুকের লালা মেশানো সিরাম বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু প্রাচীন যুগে সরাসরি এই পদ্ধতির প্রয়োগ করা হত। তখন মহিলারা জীবন্ত শামুককে মুখের ওপর ছেড়ে দিতেন। শামুকের চলাচলের ফলে ত্বকে যে মিউকাস লেগে থাকত, তাতেই মিলত মুক্তি। এই লালায় থাকে পেপটাইড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং হায়ালুরোনিক অ্যাসিড। যা ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার পাশাপাশি অকাল বার্ধক্য রোধ করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
ছবি: সংগৃহীত
অদ্ভুত সব প্রাণিজ উপাদান
প্রাচীন রূপচর্চা সব সময় খুব একটা সহজ ও আরামদায়ক ছিল না। ত্বকের পুষ্টি আর উজ্জ্বলতা বাড়াতে তখন ব্যবহার করা হত কুমির বা গরুর মল। আবার ছাগল বা উটের দুধও ছিল রূপটানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে বিবর্তনের ধারায় আজ আমরা মলের বদলে মধু আর দুধের মতো স্নিগ্ধ উপাদানেই বেশি অভ্যস্ত হয়েছি।
ছবি: সংগৃহীত
মধুর জাদুকরী গুণ
প্রায় ১৫ হাজার বছর আগে থেকেই মধু ছিল প্রাকৃতিক ক্লিনজার। সরাসরি মুখে মধু মেখে রাখতেন তখনকার রূপসীরা। এতে ত্বক হত কোমল ও উজ্জ্বল। শুধু তাই নয়, এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণের জন্য প্রাচীনকালে ক্ষতে মধু লাগানো হত। আঠালো হওয়ার কারণে তা পরিষ্কার করা কঠিন হলেও, ক্ষত সারাতে মধুর জুড়ি মেলা ছিল ভার।
ছবি: সংগৃহীত
ভেড়ার ঘাম
রোমান সাম্রাজ্যের মহিলারা ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করতেন ল্যানোলিন। এটি মূলত ভেড়ার লোম থেকে নিঃসৃত এক প্রকার তেল বা ঘাম। এর গন্ধ খুব একটা ভালো না হলেও ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এটি ছিল অতুলনীয়। বর্তমান যুগেও ঠোঁটের বাম বা ভারী কোল্ড ক্রিমে ল্যানোলিন ব্যবহার করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
রাজকীয় দুধ-স্নান
মিশরের রানি ক্লিওপেট্রার সৌন্দর্যের রহস্য লুকিয়ে ছিল দুধ-স্নানে। তিনি জলের বদলে টাটকা দুধে স্নান করতেন। দুধে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। এই প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েশন ত্বককে করে তুলত মোলায়েম ও লাবণ্যময়। প্রাচীন সেই ধারা আজও আধুনিক স্পা ট্রিটমেন্টে টিকে আছে।
