চিরুনি ছোঁয়ালেই উঠে আসছে গোছা গোছা চুল? বাজারচলতি প্রসাধনী ব্যবহার করেও মিলছে না মুক্তি! নাহ, চুলের যত্ন নেওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। যত্ন নিয়েও অনেকেই হাল ফেরাতে পারেন না আর। ধুলো, দূষণ ও সঠিক যত্নের অভাবে চুল ওঠা স্বাভাবিক। কিন্তু আগেভাগেই তা রুখে না দিলে অকালেই হালকা হতে পারে মাথার সিংহভাগ। সময় থাকতে রাশ না টানলে টাক পড়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
চুল পড়ার আসল কারণ হল চুলের গোড়ার দুর্বলতা। শিকড় যদি আলগা হয়, তবে ঝোড়ো হাওয়ার আগেই পাতা ঝরে। চুলের ক্ষেত্রেও নিয়মটা এক। এই সমস্যার দাওয়াই হতে পারে কারিপাতা আর টক দই। চেনা এই দুই উপাদানের ম্যাজিকেই ফিরবে চুলের হারিয়ে যাওয়া যৌবন।
ফাইল ছবি
কীভাবে বানাবেন হেয়ার মাস্ক?
রূপটানের এই ঘরোয়া টোটকা তৈরি করা জলভাত। বাজার থেকে এক মুঠো তাজা কারিপাতা এনে প্রথমে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর শিলনোড়া বা মিক্সিতে পাতাগুলি পিষে বানিয়ে ফেলুন মসৃণ পেস্ট। এবার সেই বাটা পাতার সঙ্গে মিশিয়ে দিন দুই চামচ ঘন টক দই। চামচ দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিলেই তৈরি আপনার সাধের হেয়ার মাস্ক।
ফাইল ছবি
চুলে ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
এবার আসি ব্যবহারের নিয়মে। স্নানের আগে সময় করে এই মিশ্রণটি মাথার স্ক্যাল্পে আলতো হাতে লাগিয়ে নিন। চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত যেন সমানভাবে পৌঁছায় এই প্রলেপ। এভাবে মিনিট তিরিশ থেকে চল্লিশেক রেখে দিন। দই আর কারিপাতার পুষ্টিগুণ চুলে বসে যাওয়ার জন্য এই সময়টুকু দেওয়া জরুরি। তারপর কোনও মৃদু বা মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন।
ফাইল ছবি
সপ্তাহে ক'দিন এই মাস্ক ব্যবহার করা যাবে?
সপ্তাহে মাত্র দু’দিন এই নিয়ম মানলেই কেল্লাফতে। কারিপাতা চুলের অকালপক্বতা রোধ করে আর টক দই খুশকির যম। এই দুইয়ের মেলবন্ধনে স্ক্যাল্প যেমন সুস্থ থাকে, তেমনই চুলের গোড়া হয় পাথরের মতো শক্ত। রুক্ষতা দূর হয়ে চুলে আসে এক অদ্ভুত নরম ভাব। তাই আর দেরি কেন, আজই শুরু হোক চুলের এই ভেষজ যত্ন।
