স্নান সেরে উঠেছেন রানি। এলোচুল পিঠের ওপর ছড়িয়ে। দাসী এগিয়ে দিলেন এক সুদৃশ্য পাত্র। তা থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে হালকা ধোঁয়া। সেই সুগন্ধি ধোঁয়ায় বিলি কেটে শুকিয়ে নেওয়া হচ্ছে রাজকীয় কেশপাশ। না, এ কোনও রূপকথার গল্প নয়। ইতিহাস বলছে, প্রাচীন রাজপরিবার এবং অভিজাত মহলে এভাবেই চলত কেশচর্চা। আধুনিক শ্যাম্পু আর হেয়ার ড্রায়ারের যুগে সেই সুপ্রাচীন ‘সামব্রানি ধূপ’ বা লোবানের গন্ধ আবারও কি ফিরছে?
কী এই সামব্রানি ধূপ?
সামব্রানি ধূপ আসলে এক ধরনের প্রাকৃতিক রজন। স্টাইরাক্স গাছের নির্যাস থেকে তৈরি। এর থেকে বের হওয়া কস্তুরীর মতো গন্ধ মুহূর্তেই মন ভালো করে দেয়। প্রাচীন আয়ুর্বেদ মতে, স্নানের পর ভেজা চুলে এই ভেষজ ধোঁয়া লাগালে শরীরের বাতের ভারসাম্য বজায় থাকে। শুধু তাই নয়, এর ওম এবং সুবাস মানসিক ক্লান্তি দূর করে। মনকে এক লহমায় শান্ত করে তোলে। এক প্রকার থেরাপির মতো কাজ করে এই সুগন্ধি ধোঁয়া।
ছবি: সংগৃহীত
চুলের স্বাস্থ্য ফেরাতে কতটা কার্যকর?
চুলের স্বাস্থ্য ফেরাতেও এর ভূমিকা অনন্য। এই ধূপে থাকে শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাংগাল উপাদান। বিশেষ করে নিম বা তুলসি মেশানো ধূপের ধোঁয়া স্ক্যাল্পে লাগালে খুশকির সমস্যা দূর হয়। মাথার ত্বকে জমে থাকা অতিরিক্ত তেল ও দুর্গন্ধ নিমেষেই উধাও হয়ে যায়। ভেজা চুলে এই ধোঁয়া লাগালে মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। ফলে চুলের গোড়া পুষ্টি পায়। চুল হয়ে ওঠে ঝলমলে।
ছবি: সংগৃহীত
ব্যবহারে বিধি-নিষেধ
তবে প্রাকৃতিক হলেও ব্যবহারে কিছুটা রাশ টানা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন নয়, মাসে বড়জোর এক বা দু’বার এই পদ্ধতি ব্যবহার করাই যথেষ্ট। বন্ধ ঘরে ধূপ জ্বালাবেন না। খোলা হাওয়ায় ব্যবহার করা ভালো। একটি নিরাপদ পাত্রে সামব্রানি ধূপ জ্বালিয়ে ধোঁয়া তৈরি করুন। এবার ভেজা চুল পাত্রটি থেকে অন্তত ১৫-২৫ সেন্টিমিটার দূরে রাখুন। ধোঁয়া চুলে লাগার পর আলতো করে চিরুনি চালিয়ে নিন। ব্যস, আপনার চুলে লেগে থাকবে এক মায়াবী সুগন্ধ। প্রাচীন এই ঘরোয়া টোটকা আধুনিক ব্যস্ত জীবনেও এনে দিতে পারে রাজকীয় ছোঁয়া।
